০৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সাত কলেজের অবরোধে ঢাবির বাসে হামলা, সাংবাদিকসহ ৭ আহত হিট অফিসার বুশরা আফরিনের দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ ৭ কলেজের অবরোধ প্রত্যাহার, নবম দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিসিবি পরিচালককে দায়িত্বহীন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা ক্রীড়া উপদেষ্টার সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র উপদষ্টের সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে

গুম প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি: আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গুমের ঘটনাকে কেবল অপরাধ হিসেবে নয়, এটি একটি নিকৃষ্টতম অপরাধ যা দেশের মানবাধিকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গুম প্রতিরোধে শুধুই আইনি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও, যাতে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো যায়। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ: জোরপূর্বক গুম মোকাবিলায় বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহায়তায় আয়োজন করা হয়। ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, আমরা অনেক প্রাণ ও ত্যাগের বিনিময়ে আজ এমন একটি পরিবর্তিত পরিবেশে আছি। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে হলে গুমের বিচারের ব্যবস্থা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, গুমের বিচার কার্যপ্রণালী সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করে তোলার জন্য সাহসী ও ন্যায্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা একদিন বাংলাদেশ থেকে গুমের এই সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল করবে। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিচার একটি শিল্প; বিচারকরা হচ্ছেন সৃজনশীল শিল্পীরা। তাদের বিচারই তাঁদের শিল্পকর্ম—এতে কোনো বিকৃতি চলবে না। তিনি আরও বলেন, গুমের মতো জটিল সমস্যা সমাধানে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্লেষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার দিয়ে বিচার বিভাগ ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো গুমের বিচার নিশ্চিতের মূল চাবিকাঠি। কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী উল্লেখ করেন, গুম সংক্রান্ত মামলার কার্যকর তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। তিনি জানান, কমিশন ইতিমধ্যেই বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে, গুম বিষয়ক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করছে। কর্মশালায় বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন, যেমন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান। ওয়ার্কিংসেশন পরিচালনা করেন কমিশনের সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। এই পর্বে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ, মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রয়োগ এবং বিচার পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মূল আলোচনায় উঠে আসে, গুম প্রতিরোধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য মনিটরিং সেল গঠন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, ভিকটিমদের ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অস্ত্র আইনের সংশোধন। এছাড়া, অনলাইন জিডি এর সহজীকরণ, মামলার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি ও তথ্য বিনিময়ের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেয়াগেছে। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত প্রায় ৯০ জন বিচারক ও প্রশিক্ষণার্থী। এই উদ্যোগ গুম মুক্ত সমাজ গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আমাকে রেখে আমার পা জান্নাতে চলে গেছে: ফিলিস্তিনি কিশোরী

গুম প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি: আসিফ নজরুল

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গুমের ঘটনাকে কেবল অপরাধ হিসেবে নয়, এটি একটি নিকৃষ্টতম অপরাধ যা দেশের মানবাধিকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গুম প্রতিরোধে শুধুই আইনি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও, যাতে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো যায়। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ: জোরপূর্বক গুম মোকাবিলায় বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহায়তায় আয়োজন করা হয়। ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, আমরা অনেক প্রাণ ও ত্যাগের বিনিময়ে আজ এমন একটি পরিবর্তিত পরিবেশে আছি। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে হলে গুমের বিচারের ব্যবস্থা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, গুমের বিচার কার্যপ্রণালী সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করে তোলার জন্য সাহসী ও ন্যায্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা একদিন বাংলাদেশ থেকে গুমের এই সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল করবে। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিচার একটি শিল্প; বিচারকরা হচ্ছেন সৃজনশীল শিল্পীরা। তাদের বিচারই তাঁদের শিল্পকর্ম—এতে কোনো বিকৃতি চলবে না। তিনি আরও বলেন, গুমের মতো জটিল সমস্যা সমাধানে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্লেষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার দিয়ে বিচার বিভাগ ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো গুমের বিচার নিশ্চিতের মূল চাবিকাঠি। কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী উল্লেখ করেন, গুম সংক্রান্ত মামলার কার্যকর তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। তিনি জানান, কমিশন ইতিমধ্যেই বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে, গুম বিষয়ক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করছে। কর্মশালায় বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন, যেমন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান। ওয়ার্কিংসেশন পরিচালনা করেন কমিশনের সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। এই পর্বে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ, মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রয়োগ এবং বিচার পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মূল আলোচনায় উঠে আসে, গুম প্রতিরোধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য মনিটরিং সেল গঠন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, ভিকটিমদের ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অস্ত্র আইনের সংশোধন। এছাড়া, অনলাইন জিডি এর সহজীকরণ, মামলার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি ও তথ্য বিনিময়ের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেয়াগেছে। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত প্রায় ৯০ জন বিচারক ও প্রশিক্ষণার্থী। এই উদ্যোগ গুম মুক্ত সমাজ গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।