১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এনইআইআর বাতিল নয়, পুনর্গঠন চান মোবাইল ব্যবসায়ীরা

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের মোবাইল বাজারে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ। এই সংগঠনটি দাবি করছে, দেশের মোট ব্যবসায়ীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে, মাত্র ৩০ শতাংশ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর স্বার্থরক্ষার জন্য একটি সংগঠিত চক্র এগুচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিল করতে চান না। বরং, তারা চাচ্ছেন এই সিস্টেমটি পুনর্গঠন করে আরও এক বছর সময় নিয়ে প্রতিষ্ঠার আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতা করার সুযোগ দেওয়া হোক। এই বিষয়টি নিয়ে তারা একটি গোলটেবিল বৈঠক করার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই সব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিজনেস ফোরামের সভাপতি আরিফুর রহমান, শাহ আলম বোখারীসহ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে প্রেস কনফারেন্স ভণ্ডুলের জন্য বাংলাদেশের মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক পিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মতে, কিছু স্বার্থগোষ্ঠী এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের অন্যায়ভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

একজন ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেটই তার সাধারণ সম্পাদককে টার্গেট করেছে। তারা আরও বলেন, মোবাইল ব্যবসায়ীরা এনইআইআর তুলে ফেলতে চান না; বরং এই সিস্টেমটির কার্যকারিতা পুনর্গঠন ও বাস্তবায়নের জন্য এক বছর সময় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনাযুক্ত একটি সমঝোতা করার দাবি জানিয়েছেন।

আরিফুর রহমান উল্লেখ করেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী বৈধভাবে আনা মোবাইল ফোন বাজারে বিক্রির সুযোগ সীমিত হলে লাখো ব্যবসায়ীর ক্ষতি হবে। এ দ্বারা মোবাইলের দাম অনেক বাড়বে, যা সম্ভাব্য ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি ঘটিয়ে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, দর্জি, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রে মার্কেটে কম দামে উচ্চমানের মোবাইল ফোন পাওয়ায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু যদি ভবিষ্যতে এআইনির্ভর এই শিল্পে মোবাইল ফোনের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে তা প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বাধা দিবে। মাত্র ১৮ জনের লাইসেন্সের মাধ্যমে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেন তারা।

সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমানে দেশের মোবাইল বাজারের সমর্থন মূলত মাত্র ১৮ জন লাইসেন্সধারীর হাতে কেন্দ্রীভূত। তাদের মতে, ২০ কোটি মানুষের দেশে এই অল্পসংখ্যক ব্যক্তির কাছে লাইসেন্স থাকা অসমর্ত্য ও অযৌক্তিক। বাজারের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হলে লাইসেন্সের সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজারে উন্নীত করতে হবে।

উপসংহারে, ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ার করেছেন, সিন্ডিকেটের প্রভাব ও এনইআইআর বাস্তবায়নের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জনগণ ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। নেতারা আরও বলেছেন, জনগণকে উত্তেজিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়; প্রয়োজনে তারা বৃহত্তর গণআন্দোলনের ডাক দিতেেও প্রস্তুত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এনইআইআর বাতিল নয়, পুনর্গঠন চান মোবাইল ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের মোবাইল বাজারে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ। এই সংগঠনটি দাবি করছে, দেশের মোট ব্যবসায়ীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে, মাত্র ৩০ শতাংশ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর স্বার্থরক্ষার জন্য একটি সংগঠিত চক্র এগুচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিল করতে চান না। বরং, তারা চাচ্ছেন এই সিস্টেমটি পুনর্গঠন করে আরও এক বছর সময় নিয়ে প্রতিষ্ঠার আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতা করার সুযোগ দেওয়া হোক। এই বিষয়টি নিয়ে তারা একটি গোলটেবিল বৈঠক করার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই সব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিজনেস ফোরামের সভাপতি আরিফুর রহমান, শাহ আলম বোখারীসহ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে প্রেস কনফারেন্স ভণ্ডুলের জন্য বাংলাদেশের মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক পিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মতে, কিছু স্বার্থগোষ্ঠী এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের অন্যায়ভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

একজন ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেটই তার সাধারণ সম্পাদককে টার্গেট করেছে। তারা আরও বলেন, মোবাইল ব্যবসায়ীরা এনইআইআর তুলে ফেলতে চান না; বরং এই সিস্টেমটির কার্যকারিতা পুনর্গঠন ও বাস্তবায়নের জন্য এক বছর সময় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনাযুক্ত একটি সমঝোতা করার দাবি জানিয়েছেন।

আরিফুর রহমান উল্লেখ করেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী বৈধভাবে আনা মোবাইল ফোন বাজারে বিক্রির সুযোগ সীমিত হলে লাখো ব্যবসায়ীর ক্ষতি হবে। এ দ্বারা মোবাইলের দাম অনেক বাড়বে, যা সম্ভাব্য ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি ঘটিয়ে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, দর্জি, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রে মার্কেটে কম দামে উচ্চমানের মোবাইল ফোন পাওয়ায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু যদি ভবিষ্যতে এআইনির্ভর এই শিল্পে মোবাইল ফোনের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে তা প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বাধা দিবে। মাত্র ১৮ জনের লাইসেন্সের মাধ্যমে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেন তারা।

সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমানে দেশের মোবাইল বাজারের সমর্থন মূলত মাত্র ১৮ জন লাইসেন্সধারীর হাতে কেন্দ্রীভূত। তাদের মতে, ২০ কোটি মানুষের দেশে এই অল্পসংখ্যক ব্যক্তির কাছে লাইসেন্স থাকা অসমর্ত্য ও অযৌক্তিক। বাজারের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হলে লাইসেন্সের সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজারে উন্নীত করতে হবে।

উপসংহারে, ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ার করেছেন, সিন্ডিকেটের প্রভাব ও এনইআইআর বাস্তবায়নের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জনগণ ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। নেতারা আরও বলেছেন, জনগণকে উত্তেজিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়; প্রয়োজনে তারা বৃহত্তর গণআন্দোলনের ডাক দিতেেও প্রস্তুত।