০৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

আগামী ২১ জানুয়ারি জমা হবে নতুন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন: ১ জুলাই থেকে পূর্ণ বাস্তবায়ন সুপারিশ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছেন সরকার গঠিত বেতন কমিশন। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি অর্থ উপদেষ্টা ডক्टर সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, এই নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর শুরু হতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত খরচের পরিমাণ আরও বাড়বে, যা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিশেষ করে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তারা জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সক্ষম হন।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামোতে দ্বিগুণ বা তার থেকেও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ বেতনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও তা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি। পাশাপাশি, বৈষম্য কমানোর জন্য সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য হলো, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী এবং সকলের জন্য সমান ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত বছর ২৭ জুলাই একটি ২১ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে এই কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন, যাঁরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনের স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পান। এই দীর্ঘ দশকের পর নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা প্রশাসনিক ও সচেতন কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২১ জানুয়ারি জমা হবে নতুন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন: ১ জুলাই থেকে পূর্ণ বাস্তবায়ন সুপারিশ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছেন সরকার গঠিত বেতন কমিশন। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি অর্থ উপদেষ্টা ডক्टर সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, এই নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর শুরু হতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত খরচের পরিমাণ আরও বাড়বে, যা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিশেষ করে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তারা জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সক্ষম হন।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামোতে দ্বিগুণ বা তার থেকেও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ বেতনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও তা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি। পাশাপাশি, বৈষম্য কমানোর জন্য সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য হলো, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী এবং সকলের জন্য সমান ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত বছর ২৭ জুলাই একটি ২১ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে এই কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন, যাঁরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনের স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পান। এই দীর্ঘ দশকের পর নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা প্রশাসনিক ও সচেতন কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।