১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও পাওয়া সুযোগ-সুবিধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানिक প্রক্রিয়া শেষে এখন নতুন সংসদ গঠনের প্রস্তুতি চলছে। গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নামের গেজেট প্রকাশের পর দেশজুড়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায়, একজন সংসদ সদস্য জাতির বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে এর পাশাপাশি তারা বিভিন্ন আর্থিক ও অন্যান্য বিশেষ সুবিধাও ভোগ করেন। ১৯৭৩ সালে প্রবর্তিত ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার’ এবং তার পরের বিভিন্ন সংশোধনী দ্বারা এসব সুযোগ-সুবিধা আইনি কাঠামোয় নির্ধারিত হয়ে এসেছে।

প্রথমত, একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন নির্ধারিত ৫৫ হাজার টাকা। তবে এর পাশাপাশি, নির্বাচনী এলাকার কাজের জন্য তারা প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান। নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাঁরা রয়েছে পাইভেট অ্যাওয়ার্ডে বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হলো পরিবহন ভাতা, যা প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকার বেশি। এই অর্থের মাধ্যমে গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ খরচ চালানো হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনার জন্য ১৫ হাজার টাকা, কাপড় ধোয়ার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য মোট ৬ হাজার টাকার বার্ষিক ভাতা দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্যদের জন্য পরিবহন সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা। নির্বাচিত হওয়ার পর একবার একটি লাক্সারি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস সম্পূর্ণ ভ্যাট মুক্ত ও শুল্কমুক্তভাবে বিদেশ থেকে আনতে পারেন। দায়িত্বের পাঁচ বছর পুরণ হলে পুনরায় এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে নতুন গাড়ি আমদানি করা যায়, যা সংসদ সদস্যদের জন্য একান্তই বিশেষ একটি সুবিধা। এর পাশাপাশি, তারা বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পান। বার্ষিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ভ্রমণ ভাতা কিংবা বিনামূল্যে ট্রাভেল পাসের সুবিধাও রয়েছে।

সংসদ অধিবেশন বা বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্যও আলাদা ভাতা রয়েছে। সংসদে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ৭৫০ টাকা, আর অধিবেশন বা বৈঠকে অংশ নিলে তা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৮০০ টাকায় দাঁড়ায়। চিকিৎসাসুবিধা খুবই উন্নত, যেখানে সংসদ সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তাদের সমান চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। মাসিক ৭০০ টাকা করে চিকিৎসা ভাতা প্রদান হয়। আর যদি কোনো সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালনকালে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার পরিবার পায় ১০ লাখ টাকার সরকারি বিমা সুবিধা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে, সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক বিলের জন্য বরাদ্দ থাকে ৭ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি, এলাকার উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি বিশেষ অনুদান তহবিলের অঙ্ক রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সব অতিরিক্ত ভাতাগুলো কোনো ধরনের করমুক্ত, যার ফলে সংসদ সদস্যরা অতিরিক্ত আয়কর দিতে হয় না। এর ফলে, তারা নির্বাচন এলাকায় কাজ করার জন্য এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সহায়তা পান। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর থেকেই এসব সুযোগ-সুবিধা উপভোগ শুরু করবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও পাওয়া সুযোগ-সুবিধা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানिक প্রক্রিয়া শেষে এখন নতুন সংসদ গঠনের প্রস্তুতি চলছে। গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নামের গেজেট প্রকাশের পর দেশজুড়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায়, একজন সংসদ সদস্য জাতির বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে এর পাশাপাশি তারা বিভিন্ন আর্থিক ও অন্যান্য বিশেষ সুবিধাও ভোগ করেন। ১৯৭৩ সালে প্রবর্তিত ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার’ এবং তার পরের বিভিন্ন সংশোধনী দ্বারা এসব সুযোগ-সুবিধা আইনি কাঠামোয় নির্ধারিত হয়ে এসেছে।

প্রথমত, একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন নির্ধারিত ৫৫ হাজার টাকা। তবে এর পাশাপাশি, নির্বাচনী এলাকার কাজের জন্য তারা প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান। নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাঁরা রয়েছে পাইভেট অ্যাওয়ার্ডে বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হলো পরিবহন ভাতা, যা প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকার বেশি। এই অর্থের মাধ্যমে গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ খরচ চালানো হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনার জন্য ১৫ হাজার টাকা, কাপড় ধোয়ার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য মোট ৬ হাজার টাকার বার্ষিক ভাতা দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্যদের জন্য পরিবহন সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা। নির্বাচিত হওয়ার পর একবার একটি লাক্সারি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস সম্পূর্ণ ভ্যাট মুক্ত ও শুল্কমুক্তভাবে বিদেশ থেকে আনতে পারেন। দায়িত্বের পাঁচ বছর পুরণ হলে পুনরায় এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে নতুন গাড়ি আমদানি করা যায়, যা সংসদ সদস্যদের জন্য একান্তই বিশেষ একটি সুবিধা। এর পাশাপাশি, তারা বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পান। বার্ষিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ভ্রমণ ভাতা কিংবা বিনামূল্যে ট্রাভেল পাসের সুবিধাও রয়েছে।

সংসদ অধিবেশন বা বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্যও আলাদা ভাতা রয়েছে। সংসদে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ৭৫০ টাকা, আর অধিবেশন বা বৈঠকে অংশ নিলে তা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৮০০ টাকায় দাঁড়ায়। চিকিৎসাসুবিধা খুবই উন্নত, যেখানে সংসদ সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তাদের সমান চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। মাসিক ৭০০ টাকা করে চিকিৎসা ভাতা প্রদান হয়। আর যদি কোনো সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালনকালে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার পরিবার পায় ১০ লাখ টাকার সরকারি বিমা সুবিধা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে, সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক বিলের জন্য বরাদ্দ থাকে ৭ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি, এলাকার উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি বিশেষ অনুদান তহবিলের অঙ্ক রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সব অতিরিক্ত ভাতাগুলো কোনো ধরনের করমুক্ত, যার ফলে সংসদ সদস্যরা অতিরিক্ত আয়কর দিতে হয় না। এর ফলে, তারা নির্বাচন এলাকায় কাজ করার জন্য এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সহায়তা পান। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর থেকেই এসব সুযোগ-সুবিধা উপভোগ শুরু করবেন।