১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

শুক্রবারের ছুটি শেষ, ঢাকায় ফিরছেন মানুষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আবহে কাটিয়ে গত কয়েক দিন দেশের মানুষ আবারও স্বাভাবিক কর্মব্যস্ত জীবন শুরু করেছে। নির্বাচনের বিশেষ অবকাশ শেষে আগামীকাল রোববার থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত খোলা হবে। ফলে গ্রামে যাওয়া মানুষগুলো আজ শনিবার, ছুটির শেষ দিন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপকভাবে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। আজ সকালে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে রেলপথ ও সড়কপথে যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।

রাজধানীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে আজ ভোর থেকেই এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল থেকে আসা ট্রেনগুলো সবই যাত্রীতে ভরপুর। স্টেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে অনেক ট্রেন ঢাকায় পৌঁছালেও প্রতিটি কোচে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ফিরতে রেলওয়ে বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দুপুরের পর থেকে এই চাপ আরও বেড়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল রোববার সকাল পর্যন্ত এই প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

সড়কপথের গড় টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীতেও সকাল থেকে ঢাকামুখী বাসে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে সিট না পেয়ে অনেককেই বিকল্প পথ বেছে নিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, আন্তঃরাজ্য রুটের অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে, ফলে শেষ মুহূর্তে ফিরতে থাকা যাত্রীদের কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নির্বাচনের ছুটিতে যাওয়ার সময় যানজটের কারণে যাত্রীরা অনেকেই দুর্ভোগে পড়েছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত ফিরতে কোনও বড় ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আজ রাতে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় লঞ্চগুলো যাত্রী বহন করতে শুরু করেছে। লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে কেবিন—সবখানেই মানুষের সরব উপস্থিতি। কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে সাধারণ মানুষ জনগণের জন্য ভিড় করে লঞ্চে করে ঢাকায় ফিরছেন। অন্যদিকে, আজ শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলিতে যানজট ও চলাচল কম ছিল, তবে প্রবেশপথগুলোতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচনী নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট যেসব যানবাহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা আজ থেকে সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন বাস, মিনিবাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। এমনকি মোটরসাইকেলের চলাচলেও আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এর ফলে যানচলাচল আরও সহজ হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা আবার তার স্বাভাবিক ব্যস্ততা ও যানজটের চিরচেনা রূপে ফিরে যাবে। মানুষের এই ফিরে আসা দিয়ে প্রাণহীন ঢাকা আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

শুক্রবারের ছুটি শেষ, ঢাকায় ফিরছেন মানুষ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আবহে কাটিয়ে গত কয়েক দিন দেশের মানুষ আবারও স্বাভাবিক কর্মব্যস্ত জীবন শুরু করেছে। নির্বাচনের বিশেষ অবকাশ শেষে আগামীকাল রোববার থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত খোলা হবে। ফলে গ্রামে যাওয়া মানুষগুলো আজ শনিবার, ছুটির শেষ দিন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপকভাবে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। আজ সকালে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে রেলপথ ও সড়কপথে যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।

রাজধানীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে আজ ভোর থেকেই এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল থেকে আসা ট্রেনগুলো সবই যাত্রীতে ভরপুর। স্টেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে অনেক ট্রেন ঢাকায় পৌঁছালেও প্রতিটি কোচে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ফিরতে রেলওয়ে বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দুপুরের পর থেকে এই চাপ আরও বেড়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল রোববার সকাল পর্যন্ত এই প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

সড়কপথের গড় টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীতেও সকাল থেকে ঢাকামুখী বাসে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে সিট না পেয়ে অনেককেই বিকল্প পথ বেছে নিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, আন্তঃরাজ্য রুটের অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে, ফলে শেষ মুহূর্তে ফিরতে থাকা যাত্রীদের কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নির্বাচনের ছুটিতে যাওয়ার সময় যানজটের কারণে যাত্রীরা অনেকেই দুর্ভোগে পড়েছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত ফিরতে কোনও বড় ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আজ রাতে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় লঞ্চগুলো যাত্রী বহন করতে শুরু করেছে। লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে কেবিন—সবখানেই মানুষের সরব উপস্থিতি। কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে সাধারণ মানুষ জনগণের জন্য ভিড় করে লঞ্চে করে ঢাকায় ফিরছেন। অন্যদিকে, আজ শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলিতে যানজট ও চলাচল কম ছিল, তবে প্রবেশপথগুলোতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচনী নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট যেসব যানবাহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা আজ থেকে সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন বাস, মিনিবাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। এমনকি মোটরসাইকেলের চলাচলেও আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এর ফলে যানচলাচল আরও সহজ হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা আবার তার স্বাভাবিক ব্যস্ততা ও যানজটের চিরচেনা রূপে ফিরে যাবে। মানুষের এই ফিরে আসা দিয়ে প্রাণহীন ঢাকা আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে।