১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

বরিশালে বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা, আদালত বর্জনসহ হইচই

বরিশালে আদালত বর্জনের আহ্বান জানানো, এজলাসে অশোভন আচরণ এবং বিচারকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দাখিল করা হয়েছে। মামলার মূল আসামি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ওই দিন আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি করা ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, এর পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা সবাই বিএনপিপন্থি আইনজীবী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ।

বাদীর অভিযোগ অনুসারে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক মামলার আসামির জামিন শুনানির সময় বিপর্যয় শুরু হয়। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর আদালতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ করে। তারা সেখানে শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয় এবং বিভিন্নভাবে বিচারককে নানাভাবে ভয় দেখায়।

এর কিছুক্ষণ পর, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন উপস্থিত আইনজীবীদের বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময়ে, তিনি একজন আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। মিজানুর রহমান অশোভন ভাষায় বিচারকের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান। এই সময় আসামিরা জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকে ধাক্কা দিয়ে আদালত কক্ষ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।

অভিযুক্তরা উত্তেজনায় আদালতের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোন, বেঞ্চ ও টেবিল ভেঙে ফেলেন। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কজলিস্ট এবং মামলা দাখিলের রেজিস্টার খাতাও ছিঁড়ে ফেলা হয়, যার ফলে বিচারিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এই অশোভন আচরণের কারণে আদালতের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাহত হয়, এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। ঘটনাটি জোরেশোরে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

বরিশালে বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা, আদালত বর্জনসহ হইচই

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালে আদালত বর্জনের আহ্বান জানানো, এজলাসে অশোভন আচরণ এবং বিচারকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দাখিল করা হয়েছে। মামলার মূল আসামি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ওই দিন আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি করা ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, এর পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা সবাই বিএনপিপন্থি আইনজীবী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ।

বাদীর অভিযোগ অনুসারে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক মামলার আসামির জামিন শুনানির সময় বিপর্যয় শুরু হয়। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর আদালতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ করে। তারা সেখানে শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয় এবং বিভিন্নভাবে বিচারককে নানাভাবে ভয় দেখায়।

এর কিছুক্ষণ পর, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন উপস্থিত আইনজীবীদের বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময়ে, তিনি একজন আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। মিজানুর রহমান অশোভন ভাষায় বিচারকের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান। এই সময় আসামিরা জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকে ধাক্কা দিয়ে আদালত কক্ষ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।

অভিযুক্তরা উত্তেজনায় আদালতের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোন, বেঞ্চ ও টেবিল ভেঙে ফেলেন। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কজলিস্ট এবং মামলা দাখিলের রেজিস্টার খাতাও ছিঁড়ে ফেলা হয়, যার ফলে বিচারিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এই অশোভন আচরণের কারণে আদালতের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাহত হয়, এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। ঘটনাটি জোরেশোরে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।