০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নির্মাতা সরয়ার ফারুকী জানালেন কেন ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি

গুলশানের হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিতর্কিত ছবি ‘শনিবার বিকেল’ কেন দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি—এই দীর্ঘ জল্পনার নীরবতা ভেঙেছেন নির্মাতা নিজেই। গতকাল এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি নেপথ্যের কারণগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন।

ফারুকী বলেছেন, মূলত সিনেমাটির আগে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একই ধরনের সময়ে বলিউড ছবি ‘ফারাজ’ মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ‘শনিবার বিকেল’ বড়পর্দায় মুক্তি দেওয়ার। তবুও সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি দেওয়া হয়।

নির্মাতা বলেন, একবার অনলাইনে মুক্তি পাওয়ার পর ইন্টারনেটে ছবির প্রচুর লিঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যারা দেখার ইচ্ছা রাখতেন তারা ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রচলিত ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে মুক্তি দিয়ে খরচ তুলে ব্যবসায়িক লাভের সম্ভাবনা শূন্য। তাই প্রযোজক বা ডিস্ট্রিবিউটর কেউই ঝুঁকি নেবেন না—এই বাস্তবতাই বড় কারণ বলে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে কোনো ভয় বা রাজনৈতিক চাপ ছিল না। যারা অনলাইনে সহজলভ্য একটি ছবিকে আবার সিনেমা হলে দেখানোর দাবি তুলছেন, তারা চলচ্চিত্র ব্যবসার বাস্তবতা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ—এমনটাই তাঁর অভিমত। উদাহরণ দিতে গিয়ে ফারুকী তার জনপ্রিয় ছবি ‘ব্যাচেলর’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা এখন আর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয় না কারণ সেখানে নতুন করে ব্যবসা নেই।

ফারুকী তাঁর শিল্পসত্তার অবস্থানও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিজের নির্মিত প্রতিটি ছবির অধিকার তিনি মানেন এবং কোনো বিশেষ আদর্শ বা চাপের কাছে মাথানত করেননি। ভবিষ্যতে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উগ্রবাদসহ যে কোনো বর্ণনার বিরুদ্ধে সিনেমা তৈরি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একজন শিল্পী হিসেবে ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলা বা চেতনার নামে মানুষকে গ্রেপ্তার, গুম বা খুনের বিরুদ্ধে কথা বলা—সবকিছুই তার কাজের অংশ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ফলতঃ সরাসরি ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও আগের ওটিটি মুক্তিকরণই ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে না আসার প্রধান কারণ; কোনো রহস্যময় রাজনৈতিক কারণ বা ভয়কে তিনি এ ঘটনার বর্ণনায় জায়গা দেননি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নির্মাতা সরয়ার ফারুকী জানালেন কেন ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি

প্রকাশিতঃ ১১:৩৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

গুলশানের হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিতর্কিত ছবি ‘শনিবার বিকেল’ কেন দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি—এই দীর্ঘ জল্পনার নীরবতা ভেঙেছেন নির্মাতা নিজেই। গতকাল এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি নেপথ্যের কারণগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন।

ফারুকী বলেছেন, মূলত সিনেমাটির আগে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একই ধরনের সময়ে বলিউড ছবি ‘ফারাজ’ মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ‘শনিবার বিকেল’ বড়পর্দায় মুক্তি দেওয়ার। তবুও সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি দেওয়া হয়।

নির্মাতা বলেন, একবার অনলাইনে মুক্তি পাওয়ার পর ইন্টারনেটে ছবির প্রচুর লিঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যারা দেখার ইচ্ছা রাখতেন তারা ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রচলিত ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে মুক্তি দিয়ে খরচ তুলে ব্যবসায়িক লাভের সম্ভাবনা শূন্য। তাই প্রযোজক বা ডিস্ট্রিবিউটর কেউই ঝুঁকি নেবেন না—এই বাস্তবতাই বড় কারণ বলে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে কোনো ভয় বা রাজনৈতিক চাপ ছিল না। যারা অনলাইনে সহজলভ্য একটি ছবিকে আবার সিনেমা হলে দেখানোর দাবি তুলছেন, তারা চলচ্চিত্র ব্যবসার বাস্তবতা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ—এমনটাই তাঁর অভিমত। উদাহরণ দিতে গিয়ে ফারুকী তার জনপ্রিয় ছবি ‘ব্যাচেলর’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা এখন আর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয় না কারণ সেখানে নতুন করে ব্যবসা নেই।

ফারুকী তাঁর শিল্পসত্তার অবস্থানও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিজের নির্মিত প্রতিটি ছবির অধিকার তিনি মানেন এবং কোনো বিশেষ আদর্শ বা চাপের কাছে মাথানত করেননি। ভবিষ্যতে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উগ্রবাদসহ যে কোনো বর্ণনার বিরুদ্ধে সিনেমা তৈরি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একজন শিল্পী হিসেবে ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলা বা চেতনার নামে মানুষকে গ্রেপ্তার, গুম বা খুনের বিরুদ্ধে কথা বলা—সবকিছুই তার কাজের অংশ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ফলতঃ সরাসরি ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও আগের ওটিটি মুক্তিকরণই ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে না আসার প্রধান কারণ; কোনো রহস্যময় রাজনৈতিক কারণ বা ভয়কে তিনি এ ঘটনার বর্ণনায় জায়গা দেননি।