০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জ্বালানি সংকট ঠেকাতে সৌদি থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ডিজেল ও পেট্রোল কেনা হচ্ছে

সরকার দেশীয় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে বড় পরিমাণ জ্বালানি কিনছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রোববার (১৫ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত চুক্তির বাইরে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন (পেট্রোল) আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কেনাকাটায় ব্যয় ধার্য করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। সরকারি sourced বলা হয়েছে, জাহাজ ও লজিস্টিক প্রস্তুতি অনুযায়ী দ্রুত এসব ইমপোর্ট বাস্তবায়ন করা হবে।

একই দিনে সরকার দেশের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আর চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সাধারণ ভোক্তা ও ফিলিং স্টেশনে সরবরাহের ওপর আর সীমাবদ্ধতা আর নেই। তিনি জানান, চট্টগ্রামে তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর পর সেখানে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

অধিকন্তু, সরকারের নীতিগত অবস্থান হচ্ছে যতদিন অর্থনীতি এই চাপ সামাল দিতে পারবে ততদিন জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করা হবে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার তেল অন্য কোনো তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে আনা যায় কি না সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে রেশনিং প্রত্যাহারের পরও মাঠ পর্যায়ে সঙ্কট পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের কথায়, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি; তাই বেশিরভাগ এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম নগরীর অনেক রিফুয়েলিং স্টেশনে এখনও মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

বরিশাল ও রাজশাহীর বিভিন্ন পাম্পে একই অবস্থা দেখা গেছে। অনেক পাম্পে এখনো পূর্বের মতোই এক গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বিক্রি করা হচ্ছে; কিছু ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেলই নিতে পারছেন। পাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো রেশনিং বাতিল নির্দেশিকা পাননি; ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় বাস্তবে পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা-উত্তর বিশ্ববাজারের ওঠানামা এবং সরবরাহশৃঙ্খলে বিঘ্নের প্রেক্ষিতে এসব জরুরি উদ্যোগ নিতে হয়েছে। তারা আশা করছে যে সৌদি রপ্তানির মাধ্যমে দ্রুত তেলের চালান আসলে শহরাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং লায়ানো সমস্যা ধীরে ধীরে কাটবে। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে দ্রুত চালান আসা ও দেশীয় ডিপোগুলোতে সময়মতো ভরাট হওয়া নিশ্চিত করার ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জ্বালানি সংকট ঠেকাতে সৌদি থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ডিজেল ও পেট্রোল কেনা হচ্ছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সরকার দেশীয় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে বড় পরিমাণ জ্বালানি কিনছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রোববার (১৫ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত চুক্তির বাইরে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন (পেট্রোল) আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কেনাকাটায় ব্যয় ধার্য করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। সরকারি sourced বলা হয়েছে, জাহাজ ও লজিস্টিক প্রস্তুতি অনুযায়ী দ্রুত এসব ইমপোর্ট বাস্তবায়ন করা হবে।

একই দিনে সরকার দেশের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আর চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সাধারণ ভোক্তা ও ফিলিং স্টেশনে সরবরাহের ওপর আর সীমাবদ্ধতা আর নেই। তিনি জানান, চট্টগ্রামে তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর পর সেখানে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

অধিকন্তু, সরকারের নীতিগত অবস্থান হচ্ছে যতদিন অর্থনীতি এই চাপ সামাল দিতে পারবে ততদিন জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করা হবে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার তেল অন্য কোনো তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে আনা যায় কি না সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে রেশনিং প্রত্যাহারের পরও মাঠ পর্যায়ে সঙ্কট পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের কথায়, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি; তাই বেশিরভাগ এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম নগরীর অনেক রিফুয়েলিং স্টেশনে এখনও মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

বরিশাল ও রাজশাহীর বিভিন্ন পাম্পে একই অবস্থা দেখা গেছে। অনেক পাম্পে এখনো পূর্বের মতোই এক গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বিক্রি করা হচ্ছে; কিছু ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেলই নিতে পারছেন। পাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো রেশনিং বাতিল নির্দেশিকা পাননি; ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় বাস্তবে পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা-উত্তর বিশ্ববাজারের ওঠানামা এবং সরবরাহশৃঙ্খলে বিঘ্নের প্রেক্ষিতে এসব জরুরি উদ্যোগ নিতে হয়েছে। তারা আশা করছে যে সৌদি রপ্তানির মাধ্যমে দ্রুত তেলের চালান আসলে শহরাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং লায়ানো সমস্যা ধীরে ধীরে কাটবে। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে দ্রুত চালান আসা ও দেশীয় ডিপোগুলোতে সময়মতো ভরাট হওয়া নিশ্চিত করার ওপর।