০৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারের দিকে যেতে পারে

বিশ্বের শীর্ষ খনি কোম্পি ভেল জানিয়েছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ায় এবং বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর ফলে বাজারে সরবরাহচেতনায় পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমায় দাম বড় সংক্রমণে না গিয়ে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা জানিয়েছেন, খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও কমে এসেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে উৎসাহিত হতে হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস পরিবর্তিত করে টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

ভেলের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং কমতে থাকা মজুদের কারণে বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে টনপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করে লাভ করা এখন কঠিন — যা শিল্পে কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে ভেল তাদের কৌশলও বদলাচ্ছে। তারা সাধারণ মানের আকরিকের বদলে এখন উচ্চমানের প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ এবং ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক দিয়ে গঠিত হবে, যেগুলো পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত খাত দ্রুত বিস্তার পাচ্ছে। ভেলের আশা এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামকে তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যেই তাদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে সরবরাহ ঝুঁকি কমানো যায় এবং পরিবর্তিত বাজারে নমনীয়তা বজায় রাখা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারের দিকে যেতে পারে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের শীর্ষ খনি কোম্পি ভেল জানিয়েছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ায় এবং বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর ফলে বাজারে সরবরাহচেতনায় পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমায় দাম বড় সংক্রমণে না গিয়ে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা জানিয়েছেন, খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও কমে এসেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে উৎসাহিত হতে হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস পরিবর্তিত করে টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

ভেলের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং কমতে থাকা মজুদের কারণে বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে টনপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করে লাভ করা এখন কঠিন — যা শিল্পে কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে ভেল তাদের কৌশলও বদলাচ্ছে। তারা সাধারণ মানের আকরিকের বদলে এখন উচ্চমানের প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ এবং ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক দিয়ে গঠিত হবে, যেগুলো পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত খাত দ্রুত বিস্তার পাচ্ছে। ভেলের আশা এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামকে তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যেই তাদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে সরবরাহ ঝুঁকি কমানো যায় এবং পরিবর্তিত বাজারে নমনীয়তা বজায় রাখা যায়।