০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে

ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেল বলছে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কোম্পানিটির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে Hellenic Shipping News এই পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা দেখছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক সাপ্লাই বেড়েছে। অন্যদিকে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে — এ দুই মিলিত প্রভাবেই দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলকভাবে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা জানান, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদের হ্রাসের সুবাদে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় ৫০–৬০ মিলিয়ন টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে এমন একটি বাজারিক ভারসাম্য দাঁড়িয়েছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা অধিকাংশ উৎপাদনকারী আর লাভবান থাকতে পারছে না; এটি কার্যত শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভেলও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। সাধারণ মানের আকরিকের তুলনায় তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের দিকে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই হবে উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ এবং কারাজাস ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশগত দিক থেকে আরও উপযোগী ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

চীনে চাহিদা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ভেল আশা করছে এই অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আয়ত্ত বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে।

সংক্ষেপে, সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে চাহিদার ধীরগতির সমন্বয়ে এবং খনি খাতে কাঠামোগত জটিলতা বিবেচনায় ভেল মনে করছে যে দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেল বলছে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কোম্পানিটির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে Hellenic Shipping News এই পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা দেখছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক সাপ্লাই বেড়েছে। অন্যদিকে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে — এ দুই মিলিত প্রভাবেই দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলকভাবে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা জানান, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদের হ্রাসের সুবাদে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় ৫০–৬০ মিলিয়ন টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে এমন একটি বাজারিক ভারসাম্য দাঁড়িয়েছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা অধিকাংশ উৎপাদনকারী আর লাভবান থাকতে পারছে না; এটি কার্যত শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভেলও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। সাধারণ মানের আকরিকের তুলনায় তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের দিকে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই হবে উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ এবং কারাজাস ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশগত দিক থেকে আরও উপযোগী ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

চীনে চাহিদা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ভেল আশা করছে এই অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আয়ত্ত বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে।

সংক্ষেপে, সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে চাহিদার ধীরগতির সমন্বয়ে এবং খনি খাতে কাঠামোগত জটিলতা বিবেচনায় ভেল মনে করছে যে দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল থাকতে পারে।