০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কেকেআর অবসরে পাঠাল আন্দ্রে রাসেলের ১২ নম্বর জার্সি

আইপিএলের অন্যতম চিরপ্রিয় তারকা আন্দ্রে রাসেলকে স্মরণীয় এক সম্মানে ভূষিত করলো কলকাতা নাইট রাইডার্স—ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে রাসেলের ব্যবহৃত ‘১২’ নম্বর জার্সিটি চিরতরে অবসরে পাঠানো হবে। ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড় কলকাতার বেগুনি-সোনালি জার্সিতে এই নম্বর ধরে মাঠে নামতে পারবেন না।

আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগের এই ঘোষণাকে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট দেখছে রাসেলের এক দশকেরও বেশি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও অসামান্য পারফরম্যান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে। আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্ক কেবল পেশাগত ছিল না—এটি ভক্তি, আবেগ ও সমর্থনের গভীর বন্ধনে রূপ নিয়েছিল।

গত মৌসুমে খেলোয়াড় হিসেবে কেকেআর ছেড়ে গেলেও রাসেল অন্য কোনো দলের হয়ে নিলামে অংশ নেননি। বরং তিনি নিজের প্রিয় ক্লাবের সঙ্গেই থেকে ২০২৬ ইতর আসরে ‘পাওয়ার কোচ’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন—এভাবেই আইপিএলে তার খেলোয়াড় জীবনের অধ্যায়কে সম্মানজনক ভাবে বন্ধ বলে ধরা হয়। কেকেআরের ম্যানেজমেন্ট মনে করে, রাসেলের অবদানকে বরণীয় করে রাখতে জার্সি নম্বর ১২ অবসরে পাঠানোই সবচেয়ে উপযুক্ত সম্মান।

সংখ্যাগুলোও প্রতীয়মান করে কেন তিনি এতটা প্রিয়। কেকেআরের হয়ে ১৪০ ম্যাচ খেলে রাসেল সংগ্রহ করেছেন ২,৬৫১ রান—তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৭৪.১৭, যা আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী রেটগুলোর মধ্যে বিবেচিত। কেবল ব্যাটিং নয়, বল হাতে ১২৩টি উইকেট তিনি দলের সংগ্রহে যোগ করেছেন। বিশেষ করে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে কলকাতার আইপিএল শিরোপা জয়ে তার অবদান ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। বহু ম্যাচ নিজের একঝাঁক প্রচেষ্টা দিয়ে দলের পক্ষ ঘোরিয়ে এনেছেন—এই কারণে ভক্তরা তাকে ‘রাসেল মাসল’ নামে ডাকেন।

কেকেআরের প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কি মাইসোর বলেন, রাসেলের নাম ১২ নম্বর জার্সির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে; মাঠে তার উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করত, তা সহজে ভোলা যায় না। তিনি যোগ করেন, এমন এক আইকনকে সম্মান জানাতে জার্সিটি অবসরে পাঠানোই সবচেয়ে যথোপযুক্ত উপায়।

এ সম্মানে আবেগপ্রবণ হয়েছেন নিজেই আন্দ্রে রাসেলও। তিনি বলেছেন যে কলকাতার হয়ে এই দীর্ঘ সময় তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি এবং দুটি শিরোপা জয়ের স্মৃতি ও সমর্থকদের অনন্য ভালোবাসা তাকে আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ করে রেখেছে।

আইপিএলে কোনো কিংবদন্তির সম্মানে জার্সি অবসরে পাঠানোর রীতি খুব পুরনো না হলেও উল্লেখযোগ্য কিছু উদাহরণ রয়েছে—মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স曾 তাদের প্রতিটি কিংবদন্তি হিসেবে শচীন টেন্ডুলকারের ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠিয়েছিল। রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু থেকেও সফল ক্রিকেটারদের সম্মানে অনুরূপ পদক্ষেপ দেখা গেছে। এবার সেই সম্মানসূচকে যুক্ত হলেন আন্দ্রে রাসেল—এতে আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে তার আলাদাভাবে উচ্চতা আরও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।

কেকেআর ভক্তরা এখন নতুন ভূমিকায় ডাগআউটে বসে থাকা রাসেলকে দেখতে আগ্রহী। জার্সি নম্বর ১২ অবসরে যাওয়ায় যেন কলকাতার সেই স্মৃতিগুলো স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে গেল—একজন খেলোয়াড়ের অবদান ও তার প্রতি নেস্তনবৃত্তি সমর্থনের চিরস্থায়ী পরিচায়ক হিসেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কেকেআর অবসরে পাঠাল আন্দ্রে রাসেলের ১২ নম্বর জার্সি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আইপিএলের অন্যতম চিরপ্রিয় তারকা আন্দ্রে রাসেলকে স্মরণীয় এক সম্মানে ভূষিত করলো কলকাতা নাইট রাইডার্স—ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে রাসেলের ব্যবহৃত ‘১২’ নম্বর জার্সিটি চিরতরে অবসরে পাঠানো হবে। ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড় কলকাতার বেগুনি-সোনালি জার্সিতে এই নম্বর ধরে মাঠে নামতে পারবেন না।

আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগের এই ঘোষণাকে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট দেখছে রাসেলের এক দশকেরও বেশি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও অসামান্য পারফরম্যান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে। আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্ক কেবল পেশাগত ছিল না—এটি ভক্তি, আবেগ ও সমর্থনের গভীর বন্ধনে রূপ নিয়েছিল।

গত মৌসুমে খেলোয়াড় হিসেবে কেকেআর ছেড়ে গেলেও রাসেল অন্য কোনো দলের হয়ে নিলামে অংশ নেননি। বরং তিনি নিজের প্রিয় ক্লাবের সঙ্গেই থেকে ২০২৬ ইতর আসরে ‘পাওয়ার কোচ’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন—এভাবেই আইপিএলে তার খেলোয়াড় জীবনের অধ্যায়কে সম্মানজনক ভাবে বন্ধ বলে ধরা হয়। কেকেআরের ম্যানেজমেন্ট মনে করে, রাসেলের অবদানকে বরণীয় করে রাখতে জার্সি নম্বর ১২ অবসরে পাঠানোই সবচেয়ে উপযুক্ত সম্মান।

সংখ্যাগুলোও প্রতীয়মান করে কেন তিনি এতটা প্রিয়। কেকেআরের হয়ে ১৪০ ম্যাচ খেলে রাসেল সংগ্রহ করেছেন ২,৬৫১ রান—তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৭৪.১৭, যা আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী রেটগুলোর মধ্যে বিবেচিত। কেবল ব্যাটিং নয়, বল হাতে ১২৩টি উইকেট তিনি দলের সংগ্রহে যোগ করেছেন। বিশেষ করে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে কলকাতার আইপিএল শিরোপা জয়ে তার অবদান ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। বহু ম্যাচ নিজের একঝাঁক প্রচেষ্টা দিয়ে দলের পক্ষ ঘোরিয়ে এনেছেন—এই কারণে ভক্তরা তাকে ‘রাসেল মাসল’ নামে ডাকেন।

কেকেআরের প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কি মাইসোর বলেন, রাসেলের নাম ১২ নম্বর জার্সির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে; মাঠে তার উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করত, তা সহজে ভোলা যায় না। তিনি যোগ করেন, এমন এক আইকনকে সম্মান জানাতে জার্সিটি অবসরে পাঠানোই সবচেয়ে যথোপযুক্ত উপায়।

এ সম্মানে আবেগপ্রবণ হয়েছেন নিজেই আন্দ্রে রাসেলও। তিনি বলেছেন যে কলকাতার হয়ে এই দীর্ঘ সময় তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি এবং দুটি শিরোপা জয়ের স্মৃতি ও সমর্থকদের অনন্য ভালোবাসা তাকে আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ করে রেখেছে।

আইপিএলে কোনো কিংবদন্তির সম্মানে জার্সি অবসরে পাঠানোর রীতি খুব পুরনো না হলেও উল্লেখযোগ্য কিছু উদাহরণ রয়েছে—মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স曾 তাদের প্রতিটি কিংবদন্তি হিসেবে শচীন টেন্ডুলকারের ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠিয়েছিল। রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু থেকেও সফল ক্রিকেটারদের সম্মানে অনুরূপ পদক্ষেপ দেখা গেছে। এবার সেই সম্মানসূচকে যুক্ত হলেন আন্দ্রে রাসেল—এতে আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে তার আলাদাভাবে উচ্চতা আরও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।

কেকেআর ভক্তরা এখন নতুন ভূমিকায় ডাগআউটে বসে থাকা রাসেলকে দেখতে আগ্রহী। জার্সি নম্বর ১২ অবসরে যাওয়ায় যেন কলকাতার সেই স্মৃতিগুলো স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে গেল—একজন খেলোয়াড়ের অবদান ও তার প্রতি নেস্তনবৃত্তি সমর্থনের চিরস্থায়ী পরিচায়ক হিসেবে।