১২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রাশেদ খান: গণভোটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বড় জালিয়াতি হয়েছে

বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, গণভোট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও তার সঙ্গে থাকা কিছু কর্মকর্তারা বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হবে বলে খবর ছড়ানো হচ্ছে; বলা হচ্ছে সেটি বিল আকারে সংসদে তোলা হবে। কিন্তু এই বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে কেমন ছিল তা অনেকেই বোঝার চেষ্টা করছেন না। তিনি যোগ করেন, গণভোটটি কার্যত অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু যে নথির উপর ভিত্তি করে সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে গুরুতর বিতর্ক ছিল। ঐ কমিশনে উত্থাপিত কয়েকটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আয়োজক কয়েক দল নোট অব ডিসেন্ট (অমত) রেখেছিল।

রাশেদ খানের দাবি—জাতীয় সংসদ ভবনে যখন ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর হয়, সেই বইটিতেও নোট অব ডিসেন্ট ছিল। কিন্তু স্বাক্ষরের পরে গণভোটে উপস্থাপন করার জন্য যে দলিল সরকার প্রকাশ করে, সেখানে ওই নোট অব ডিসেন্ট মুছে বা বাতিল করে প্রকাশ করা হয়। এভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঠকাঠকি করেছে, তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ জারি হওয়ার সময় চারটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে ভোটদানের অপশনের সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে—অর্থাৎ সবাই স্বাধীনভাবে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ পায়নি বলে তাঁকে আশঙ্কা। এছাড়া, জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলোর সংসদে পুনরায় আলোচনা করে সমাধান না হলে গণভোটে যাওয়ার যে বিধান ছিল তা কার্যকর করা হয়নি। বরং গণভোটকে আগেই অথবা একই দিনে করে ফেলা হয়, যা শীর্ষ পর্যায়ের পক্ষ থেকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার নজির সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মত দিয়েছেন।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, এসব সিদ্ধান্ত ডিপ স্টেটের পরামর্শে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন দুষ্টু উপদেষ্টার প্রভাবেই নেওয়া হয়েছে। এদের উদ্দেশ্য ছিল জোর করে পরিস্থিতি এমনভাবে গড়িয়ে আনা যেন পাঁচ বছরের আগে নির্বাচন না হয় এবং সংকট গভীর হয়। তার ভাষ্য, বিএনপি আগেই বলেছিল যে সংসদে আলোচনা করে ঐক্যমত না হলে গণভোটে যাওয়া উচিত—কিন্তু তাদের ওপর বিশ্বাস না রেখে গণভোট জোরপূর্বক করানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি এখনই যে সম্মতিগুলো দেয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার করবে; কারণ এসবই নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির দাবি ছিল। রাশেদ খান এই অপকর্মের দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও কমিশনের কয়েক সদস্যের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং বলেন, এসব অনিয়মের দোষ বিএনপির নয়।

রাশেদ খান তথ্যগুলো নিজের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট করে এসব বক্তব্য দেন। তিনি আগে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রাশেদ খান: গণভোটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বড় জালিয়াতি হয়েছে

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, গণভোট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও তার সঙ্গে থাকা কিছু কর্মকর্তারা বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হবে বলে খবর ছড়ানো হচ্ছে; বলা হচ্ছে সেটি বিল আকারে সংসদে তোলা হবে। কিন্তু এই বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে কেমন ছিল তা অনেকেই বোঝার চেষ্টা করছেন না। তিনি যোগ করেন, গণভোটটি কার্যত অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু যে নথির উপর ভিত্তি করে সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে গুরুতর বিতর্ক ছিল। ঐ কমিশনে উত্থাপিত কয়েকটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আয়োজক কয়েক দল নোট অব ডিসেন্ট (অমত) রেখেছিল।

রাশেদ খানের দাবি—জাতীয় সংসদ ভবনে যখন ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর হয়, সেই বইটিতেও নোট অব ডিসেন্ট ছিল। কিন্তু স্বাক্ষরের পরে গণভোটে উপস্থাপন করার জন্য যে দলিল সরকার প্রকাশ করে, সেখানে ওই নোট অব ডিসেন্ট মুছে বা বাতিল করে প্রকাশ করা হয়। এভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঠকাঠকি করেছে, তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ জারি হওয়ার সময় চারটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে ভোটদানের অপশনের সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে—অর্থাৎ সবাই স্বাধীনভাবে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ পায়নি বলে তাঁকে আশঙ্কা। এছাড়া, জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলোর সংসদে পুনরায় আলোচনা করে সমাধান না হলে গণভোটে যাওয়ার যে বিধান ছিল তা কার্যকর করা হয়নি। বরং গণভোটকে আগেই অথবা একই দিনে করে ফেলা হয়, যা শীর্ষ পর্যায়ের পক্ষ থেকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার নজির সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মত দিয়েছেন।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, এসব সিদ্ধান্ত ডিপ স্টেটের পরামর্শে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন দুষ্টু উপদেষ্টার প্রভাবেই নেওয়া হয়েছে। এদের উদ্দেশ্য ছিল জোর করে পরিস্থিতি এমনভাবে গড়িয়ে আনা যেন পাঁচ বছরের আগে নির্বাচন না হয় এবং সংকট গভীর হয়। তার ভাষ্য, বিএনপি আগেই বলেছিল যে সংসদে আলোচনা করে ঐক্যমত না হলে গণভোটে যাওয়া উচিত—কিন্তু তাদের ওপর বিশ্বাস না রেখে গণভোট জোরপূর্বক করানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি এখনই যে সম্মতিগুলো দেয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার করবে; কারণ এসবই নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির দাবি ছিল। রাশেদ খান এই অপকর্মের দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও কমিশনের কয়েক সদস্যের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং বলেন, এসব অনিয়মের দোষ বিএনপির নয়।

রাশেদ খান তথ্যগুলো নিজের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট করে এসব বক্তব্য দেন। তিনি আগে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।