০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ভুগিয়েছে। এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে এবং বাজারে সরবরাহ সুষ্ঠু রাখতে বাংলাদেশ সরকার দ্রুততর ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরাধীনতা কমাতে এবার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তানকে বিকল্প উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে তেল আমদানি শুরু করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার রাতের মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইন যেকোনো সময় ব্যাহত হতে পারে। তাই দেশের শিল্প-কারখানা ও জনজীবন সচল রাখতে সরকার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বহুমুখী আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।”

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির তথ্য অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পিটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন’ থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের চুক্তি করা হবে। পাশাপাশি কাজাখস্তানের ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে সরাসরি ক্রয়ে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে আমদানির প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হয়েছে; এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সাধারণ জনগণের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না পড়ে তার জন্য সরকার ভর্তুকি চালিয়ে যাবেন। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশে অন্তত এক মাসের জ্বালানি মজুদ রয়েছে।” একই সঙ্গে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল জমা না করার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয়ে কড়াকড়ি ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশ অনুসারে অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে শক্তি দক্ষতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত ভোক্তা চাহিদা কমাতে রাত ৮টার বদলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিং মল ও বড় বিপণিবিতান বন্ধ করার নিয়ম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্যমাত্রা—দেশের শিল্প উৎপাদন সচল রাখা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি করা অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে সময়োপযোগী ও প্রতিরক্ষা-মূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার আশা করছে, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহকৃত সরবরাহ দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ভুগিয়েছে। এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে এবং বাজারে সরবরাহ সুষ্ঠু রাখতে বাংলাদেশ সরকার দ্রুততর ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরাধীনতা কমাতে এবার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তানকে বিকল্প উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে তেল আমদানি শুরু করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার রাতের মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইন যেকোনো সময় ব্যাহত হতে পারে। তাই দেশের শিল্প-কারখানা ও জনজীবন সচল রাখতে সরকার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বহুমুখী আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।”

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির তথ্য অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পিটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন’ থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের চুক্তি করা হবে। পাশাপাশি কাজাখস্তানের ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে সরাসরি ক্রয়ে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে আমদানির প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হয়েছে; এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সাধারণ জনগণের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না পড়ে তার জন্য সরকার ভর্তুকি চালিয়ে যাবেন। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশে অন্তত এক মাসের জ্বালানি মজুদ রয়েছে।” একই সঙ্গে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল জমা না করার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয়ে কড়াকড়ি ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশ অনুসারে অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে শক্তি দক্ষতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত ভোক্তা চাহিদা কমাতে রাত ৮টার বদলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিং মল ও বড় বিপণিবিতান বন্ধ করার নিয়ম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্যমাত্রা—দেশের শিল্প উৎপাদন সচল রাখা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি করা অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে সময়োপযোগী ও প্রতিরক্ষা-মূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার আশা করছে, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহকৃত সরবরাহ দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।