০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

যুদ্ধ চাই না, তবু অধিকার রক্ষায় অনড় থাকবে তেহরান: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এড়াতে চায়, কিন্তু নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে আসবে না। তিনি এই বক্তব্য লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, যা গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

খামেনি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলছেন, ‘‘আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনো চাই না।’’ একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘‘তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না। এ ক্ষেত্রে আমরা সমগ্র ‘প্রতিরোধ জোটকে’ একসঙ্গে বিবেচনা করি।’’ এই মন্তব্যগুলোকে বিশ্লেষকরা লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে সংযুক্ত করছেন, যেখানে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি — যুদ্ধের প্রথম দিন — তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মোজতবা শাসনভার গ্রহণ করেন। সূত্রে বলা হয়েছে, ওই হামলার সময় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। নেতৃত্বগ্রহণের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে ছড়িয়ে না দিয়ে সকল বক্তব্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করছেন।

চলতি সপ্তাহে ইরান দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেছিলেন মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, খামেনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন; তাদের পক্ষ থেকে কিছু অদিষ্টকালের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

মোজতবা খামেনি জনগণের নীরব অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘জনগণের রাস্তায় নামা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশে আপনারা কণ্ঠস্বর তুলে ধরলে তা আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।’’

অবশেষে, সরকারি বার্তাগুলোতে যুদ্ধ এড়ানোর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্বার্থ ও স্বীকৃতির প্রশ্নে সেনাবাহিনী ও মিত্রগোষ্ঠীর পাশে অটল থাকার সংকেত দেয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

যুদ্ধ চাই না, তবু অধিকার রক্ষায় অনড় থাকবে তেহরান: মোজতবা খামেনি

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এড়াতে চায়, কিন্তু নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে আসবে না। তিনি এই বক্তব্য লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, যা গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

খামেনি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলছেন, ‘‘আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনো চাই না।’’ একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘‘তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না। এ ক্ষেত্রে আমরা সমগ্র ‘প্রতিরোধ জোটকে’ একসঙ্গে বিবেচনা করি।’’ এই মন্তব্যগুলোকে বিশ্লেষকরা লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে সংযুক্ত করছেন, যেখানে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি — যুদ্ধের প্রথম দিন — তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মোজতবা শাসনভার গ্রহণ করেন। সূত্রে বলা হয়েছে, ওই হামলার সময় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। নেতৃত্বগ্রহণের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে ছড়িয়ে না দিয়ে সকল বক্তব্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করছেন।

চলতি সপ্তাহে ইরান দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেছিলেন মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, খামেনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন; তাদের পক্ষ থেকে কিছু অদিষ্টকালের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

মোজতবা খামেনি জনগণের নীরব অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘জনগণের রাস্তায় নামা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশে আপনারা কণ্ঠস্বর তুলে ধরলে তা আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।’’

অবশেষে, সরকারি বার্তাগুলোতে যুদ্ধ এড়ানোর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্বার্থ ও স্বীকৃতির প্রশ্নে সেনাবাহিনী ও মিত্রগোষ্ঠীর পাশে অটল থাকার সংকেত দেয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।