১১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আইপিএলে পাঁচ বছর পর সেঞ্চুরি: সাঞ্জু স্যামসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে সাঞ্জু স্যামসন শেষ পর্যন্ত হারানো ছন্দ ফিরিয়ে আনলেন। আসরের প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র ৬, ৭ ও ৯ রান করে বিপর্যয়ের মুখে থাকা এই উইকেটকিপার ব্যাটারের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে চিপকের মাঠে খেলনো ইনিংস ছিল এক নতুন শুরু। শনিবার তিনি মাত্র ৫২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলেই ১৪টি চারে ও ৩টি ছক্কায় সমন্বিত একটি বিধ্বংসী ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন, যা দলের ২১২ রানের জোরালো সংগ্রহ গঠনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

রাজস্থান রয়্যালস থেকে ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে চেন্নাই দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই স্যামসনকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল উচ্চমাত্রার। বিশেষ করে ভারতের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়কালে তার ধারাবাহিক হাফসেঞ্চুরিগুলো সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরদার করেছিল। কিন্তু এ মৌসুমের শুরুতেই চলতি ফর্ম না পেয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ঠিক সেই সন্দেহ ও প্রশ্ন তোলার সময়ে দিল্লির বিপক্ষে এক বিধ্বংসী আক্রমণে সব সমালোচনার জবাব দিলেন কেরালা উত্সের এই তারকা।

ইনিংসের শুরু থেকেই স্যামসন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। মাত্র ২৬ বলেই অর্ধশতক স্পর্শ করার পর তিনি আরো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেন; দ্রুতগতিতে রানের ঢেউ তোলার পাশাপাশি বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিলেন। পেসারদের বিরুদ্ধে তিনি বিশেষভাবে আগ্রাসী ছিলেন—এক পর্যায়ে ফাস্ট বোলারদের মোকাবিলা করে ৩৯ বলেই ৮৪ রান করেন—অপরদিকে স্পিনারদের বিরুদ্ধে কিছুটা সতর্ক থাকায় সেখানে ১৭ বলেই ৩১ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর ঝড়ো ব্যাটিং দলীয় মোটকে ব্যালেন্স করে ২০০’র উপরে ঠেলে দেয়।

এই ইনিংসের মাধ্যমে স্যামসন ব্যক্তিগত কিছু মাইলফলকও ছুঁলেন। চেন্নাই সুপার কিংসের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় উঠে আসার পাশাপাশি তিনি আইপিএলে পাঁচ বছরের ছন্দভঙ্গ কাটিয়ে ফিরে এলেন। আরও বিশেষভাবে, লোকেশ রাহুলের পর তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির (দিল্লি, রাজস্থান ও চেন্নাই) হয়ে সেঞ্চুরি করা অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করলেন।

চেন্নাই শিবিরের জন্য স্যামসনের এই প্রত্যাবর্তন সময়োপযোগী ও বড় আশার খবর। দলের মূল স্তম্ভ হিসেবে তার আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার কেবল চেন্নাই নয়, আসন্ন ইভেন্ট ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার দিক থেকেও ভারতীয় ক্রিকেট দর্শকদের উৎসাহিত করেছে। চিপকের ভক্তসমাগমে ভেজা গ্যালারির মধ্যে দর্শকদের উল্লাসের মধ্যদিয়ে স্যামসন প্রমাণ করলেন—অল্প সময়ের খারাপ ফর্ম তাঁকে দীর্ঘসময় থামিয়ে রাখতে পারবে না। ক্রিকেট মহলে এই ইনিংস ইতিমধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে এবং চেন্নাইয়ের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আইপিএলে পাঁচ বছর পর সেঞ্চুরি: সাঞ্জু স্যামসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে সাঞ্জু স্যামসন শেষ পর্যন্ত হারানো ছন্দ ফিরিয়ে আনলেন। আসরের প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র ৬, ৭ ও ৯ রান করে বিপর্যয়ের মুখে থাকা এই উইকেটকিপার ব্যাটারের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে চিপকের মাঠে খেলনো ইনিংস ছিল এক নতুন শুরু। শনিবার তিনি মাত্র ৫২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলেই ১৪টি চারে ও ৩টি ছক্কায় সমন্বিত একটি বিধ্বংসী ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন, যা দলের ২১২ রানের জোরালো সংগ্রহ গঠনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

রাজস্থান রয়্যালস থেকে ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে চেন্নাই দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই স্যামসনকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল উচ্চমাত্রার। বিশেষ করে ভারতের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়কালে তার ধারাবাহিক হাফসেঞ্চুরিগুলো সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরদার করেছিল। কিন্তু এ মৌসুমের শুরুতেই চলতি ফর্ম না পেয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ঠিক সেই সন্দেহ ও প্রশ্ন তোলার সময়ে দিল্লির বিপক্ষে এক বিধ্বংসী আক্রমণে সব সমালোচনার জবাব দিলেন কেরালা উত্সের এই তারকা।

ইনিংসের শুরু থেকেই স্যামসন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। মাত্র ২৬ বলেই অর্ধশতক স্পর্শ করার পর তিনি আরো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেন; দ্রুতগতিতে রানের ঢেউ তোলার পাশাপাশি বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিলেন। পেসারদের বিরুদ্ধে তিনি বিশেষভাবে আগ্রাসী ছিলেন—এক পর্যায়ে ফাস্ট বোলারদের মোকাবিলা করে ৩৯ বলেই ৮৪ রান করেন—অপরদিকে স্পিনারদের বিরুদ্ধে কিছুটা সতর্ক থাকায় সেখানে ১৭ বলেই ৩১ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর ঝড়ো ব্যাটিং দলীয় মোটকে ব্যালেন্স করে ২০০’র উপরে ঠেলে দেয়।

এই ইনিংসের মাধ্যমে স্যামসন ব্যক্তিগত কিছু মাইলফলকও ছুঁলেন। চেন্নাই সুপার কিংসের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় উঠে আসার পাশাপাশি তিনি আইপিএলে পাঁচ বছরের ছন্দভঙ্গ কাটিয়ে ফিরে এলেন। আরও বিশেষভাবে, লোকেশ রাহুলের পর তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির (দিল্লি, রাজস্থান ও চেন্নাই) হয়ে সেঞ্চুরি করা অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করলেন।

চেন্নাই শিবিরের জন্য স্যামসনের এই প্রত্যাবর্তন সময়োপযোগী ও বড় আশার খবর। দলের মূল স্তম্ভ হিসেবে তার আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার কেবল চেন্নাই নয়, আসন্ন ইভেন্ট ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার দিক থেকেও ভারতীয় ক্রিকেট দর্শকদের উৎসাহিত করেছে। চিপকের ভক্তসমাগমে ভেজা গ্যালারির মধ্যে দর্শকদের উল্লাসের মধ্যদিয়ে স্যামসন প্রমাণ করলেন—অল্প সময়ের খারাপ ফর্ম তাঁকে দীর্ঘসময় থামিয়ে রাখতে পারবে না। ক্রিকেট মহলে এই ইনিংস ইতিমধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে এবং চেন্নাইয়ের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে।