০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইরান পরমাণু বিষয়ে কোনো অর্থবহ সমঝোতায় যেতে চাননি: জে ডি ভ্যান্স

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সংলাপ কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টা চলা ওই ম্যারাথন বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরান তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো অর্থবহ সমঝোতায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

রোববারের ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, তেহরান থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই দীর্ঘমেয়াদি ও জোরাল অঙ্গীকারের অভাব দেখা গেছে—বিশেষত পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ না করার ঘোষণা নিয়ে। তাই এই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হিসেবে তিনি এটাই উল্লেখ করেন।

ভ্যান্স আরও জানান, ওয়াশিংটন ইরানকে একটি পরিষ্কার এবং বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সন্ধানে না যাক এবং এমন কোনো উপকরণ বা প্রযুক্তি অনুসন্ধান বা অর্জন না করে যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ার পথ খুলে দেবে। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পরও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ ধরনের কোনো মৌলিক এবং স্থায়ী ইচ্ছাশক্তি তিনি অনুভব করতে পারেননি। ভ্যান্স বলেন, ইরান আপাতত স্বল্পমেয়াদী সুবিধা খুঁজছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক গত দুই দশক ধরে জটিল সংকটে আটকে আছে। ব্যবহারকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং ২১ দিন ধরে চলার পর ২৭ ফেব্রæয়ারি কোনো চূড়ান্ত সমাধি ছাড়া শেষ হয়। এর পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রæয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করে, এবং ওয়াশিংটনের সমন্বয়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক পদক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কূটনীতি পুনরায় খোলার চেষ্টা হিসেবে ৭ এপ্রিল দুই পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। সেই বিরতিতে গত ১১ এপ্রিল আবারও ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসে। তবু ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনার পর ভ্যান্সের হতাশাজনক বক্তব্যই শনাক্ত করেছে যে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এখনো অব্যাহত আছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইসলামাবাদে সংলাপের ব্যর্থতা যদি অনড় থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরণের ঝুঁকি উত্থাপন করতে পারে। ইরানের কড়া অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও স্থায়ী শান্তির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই এবং বিশ্বজুড়ে কট্টর উদ্বেগের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ভ্যান্স তার ব্রিফিংয়ের শেষে আগামিতে কোনো পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করলেও, বর্তমান বাস্তবতা আবারো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে—এমনটাই তার মন্তব্যের সারমর্ম।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইরান পরমাণু বিষয়ে কোনো অর্থবহ সমঝোতায় যেতে চাননি: জে ডি ভ্যান্স

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সংলাপ কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টা চলা ওই ম্যারাথন বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরান তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো অর্থবহ সমঝোতায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

রোববারের ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, তেহরান থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই দীর্ঘমেয়াদি ও জোরাল অঙ্গীকারের অভাব দেখা গেছে—বিশেষত পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ না করার ঘোষণা নিয়ে। তাই এই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হিসেবে তিনি এটাই উল্লেখ করেন।

ভ্যান্স আরও জানান, ওয়াশিংটন ইরানকে একটি পরিষ্কার এবং বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সন্ধানে না যাক এবং এমন কোনো উপকরণ বা প্রযুক্তি অনুসন্ধান বা অর্জন না করে যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ার পথ খুলে দেবে। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পরও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ ধরনের কোনো মৌলিক এবং স্থায়ী ইচ্ছাশক্তি তিনি অনুভব করতে পারেননি। ভ্যান্স বলেন, ইরান আপাতত স্বল্পমেয়াদী সুবিধা খুঁজছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক গত দুই দশক ধরে জটিল সংকটে আটকে আছে। ব্যবহারকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং ২১ দিন ধরে চলার পর ২৭ ফেব্রæয়ারি কোনো চূড়ান্ত সমাধি ছাড়া শেষ হয়। এর পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রæয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করে, এবং ওয়াশিংটনের সমন্বয়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক পদক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কূটনীতি পুনরায় খোলার চেষ্টা হিসেবে ৭ এপ্রিল দুই পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। সেই বিরতিতে গত ১১ এপ্রিল আবারও ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসে। তবু ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনার পর ভ্যান্সের হতাশাজনক বক্তব্যই শনাক্ত করেছে যে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এখনো অব্যাহত আছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইসলামাবাদে সংলাপের ব্যর্থতা যদি অনড় থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরণের ঝুঁকি উত্থাপন করতে পারে। ইরানের কড়া অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও স্থায়ী শান্তির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই এবং বিশ্বজুড়ে কট্টর উদ্বেগের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ভ্যান্স তার ব্রিফিংয়ের শেষে আগামিতে কোনো পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করলেও, বর্তমান বাস্তবতা আবারো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে—এমনটাই তার মন্তব্যের সারমর্ম।