০১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হেরাতের পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের নির্বিচারে গুলিতে নিহত ১১

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একটি জনপ্রিয় পিকনিক ও বিনোদনকেন্দ্রে গত শুক্রবার বিকেলে বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১১ জন শিয়া মুসলিম নিহত হয়েছেন। প্রথমদিকে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে এগারোতে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাস্থল জুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছুটির দিনের বিকেলে এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামের কাছে ওই বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় ছিল। আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ করেই উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। ওই এলাকা প্রধানত শিয়া অধ্যুষিত এবং সেখানে একটি প্রাচীন শিয়া মাজার রয়েছে; পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম ও নামাজের উদ্দেশ্যে মাজার সংলগ্ন জায়গায় আসা মানুষগুলোই হামলার শিকার হন।

হেরাতের তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি এই ঘটাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে beskrib করেছেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র ব্যক্তিরা নিরপরাধ স্থানীয় মানুষজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি উল্লেখ করেছেন, ওই জায়গায় প্রতিদিন মানুষ নামাজ ও জিয়ারতের জন্য ভিড় করেন, তাই এই আঘাতকে ধর্মীয় বিদ্বেষ দ্বারা উদ্বুদ্ধ একটি হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হেরাতের একটি স্থানীয় চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে নিহতরা সবাই শিয়া সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন এবং তারা ছুটির দিন মাজারে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি বহু আহতের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্ত্তমানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তালেবান সরকার নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের যথাযথ বিচার করার পাশাপাশি শিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ হামলার প্রতিক্রিয়া ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে শোক ব্যপ্ত এবং এলাকায় টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হেরাতের পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের নির্বিচারে গুলিতে নিহত ১১

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একটি জনপ্রিয় পিকনিক ও বিনোদনকেন্দ্রে গত শুক্রবার বিকেলে বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১১ জন শিয়া মুসলিম নিহত হয়েছেন। প্রথমদিকে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে এগারোতে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাস্থল জুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছুটির দিনের বিকেলে এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামের কাছে ওই বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় ছিল। আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ করেই উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। ওই এলাকা প্রধানত শিয়া অধ্যুষিত এবং সেখানে একটি প্রাচীন শিয়া মাজার রয়েছে; পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম ও নামাজের উদ্দেশ্যে মাজার সংলগ্ন জায়গায় আসা মানুষগুলোই হামলার শিকার হন।

হেরাতের তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি এই ঘটাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে beskrib করেছেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র ব্যক্তিরা নিরপরাধ স্থানীয় মানুষজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি উল্লেখ করেছেন, ওই জায়গায় প্রতিদিন মানুষ নামাজ ও জিয়ারতের জন্য ভিড় করেন, তাই এই আঘাতকে ধর্মীয় বিদ্বেষ দ্বারা উদ্বুদ্ধ একটি হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হেরাতের একটি স্থানীয় চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে নিহতরা সবাই শিয়া সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন এবং তারা ছুটির দিন মাজারে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি বহু আহতের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্ত্তমানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তালেবান সরকার নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের যথাযথ বিচার করার পাশাপাশি শিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ হামলার প্রতিক্রিয়া ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে শোক ব্যপ্ত এবং এলাকায় টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে।