০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরের জন্য স্পষ্ট ও অনুসরণীয় প্রটোকল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে। নির্দেশাবলিতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত উপস্থিতি, দায়িত্ববণ্টন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো বিস্তারিতভাবে ঠিক করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত নির্দেশাবলিটি গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্দেশাবলির প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে:

বিশেষ নির্দেশাবলি:

– বিদেশ যাওয়া এবং ফিরে আসার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

– দেশের ভ্রমণের সময় মন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের স্থলে মন্ত্রণালয়/বিভাগের একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন, প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একান্ত সচিব থাকা বাধ্যতামূলক।

– জেলা শহরে সম্ভব হলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা আগমন ও বিদায়ের সময় সংবর্ধনা দেবেন।

– জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার যদি উপস্থিত না থাকেন, তবে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবর্ধনা দেবেন; তবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী ইচ্ছা করলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাদের নিজস্ব সফর বাতিল করে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

– উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন; সাধারণত জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি আবশ্যক নয়।

– বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে ঢাকা/চট্টগ্রাম/কক্সবাজার/যশোরের জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই; যশোর ও কক্সবাজারে পুলিশ সুপার/মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররাও এই রীতিতে বর্ধিত নয়।

– কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন/প্রস্থানের সময় যদি আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

– বিভাগীয় কমিশনার সদরদফতরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।

– সফরসূচি পেলে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

– রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট রুটের স্টেশন/ফাঁড়িকে জানাবেন; যে স্টেশনে অবতরণ বা পুনঃআরোহণ বা ট্রেন বদল প্রয়োজন, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক/উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রামে রেলযোগে আগমন-প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

সাধারণ নির্দেশাবলি:

– মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো জানাতে হবে; সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে সেটিও দ্রুত জানানোর বিধান রয়েছে।

– সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়াও যদি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিজ বাড়ি বা অন্যত্র থাকেন, তবু রাষ্ট্রাচার সম্পর্কিত নির্দেশাবলি প্রযোজ্য থাকবে; নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের।

– সফরসূচি তৈরির সময় সফরটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। সরকারি সফরে যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় করবে; ব্যক্তিগত সফরে যদি সরকারী যানবাহন বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে প্রচলিত নিয়মমাফিক মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

– মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিবগণ মন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ জানায়, এই নতুন নির্দেশাবলি ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি হওয়া পূর্বের নির্দেশাবলির স্থলে কার্যকর হবে। নির্দেশাবলির উদ্দেশ্য—সফরকালে দায়িত্বের স্পষ্টতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রান্তি ও ঝামেলা কমানো।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরের জন্য স্পষ্ট ও অনুসরণীয় প্রটোকল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে। নির্দেশাবলিতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত উপস্থিতি, দায়িত্ববণ্টন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো বিস্তারিতভাবে ঠিক করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত নির্দেশাবলিটি গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্দেশাবলির প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে:

বিশেষ নির্দেশাবলি:

– বিদেশ যাওয়া এবং ফিরে আসার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

– দেশের ভ্রমণের সময় মন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের স্থলে মন্ত্রণালয়/বিভাগের একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন, প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একান্ত সচিব থাকা বাধ্যতামূলক।

– জেলা শহরে সম্ভব হলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা আগমন ও বিদায়ের সময় সংবর্ধনা দেবেন।

– জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার যদি উপস্থিত না থাকেন, তবে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবর্ধনা দেবেন; তবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী ইচ্ছা করলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাদের নিজস্ব সফর বাতিল করে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

– উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন; সাধারণত জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি আবশ্যক নয়।

– বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে ঢাকা/চট্টগ্রাম/কক্সবাজার/যশোরের জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই; যশোর ও কক্সবাজারে পুলিশ সুপার/মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররাও এই রীতিতে বর্ধিত নয়।

– কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন/প্রস্থানের সময় যদি আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

– বিভাগীয় কমিশনার সদরদফতরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।

– সফরসূচি পেলে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

– রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট রুটের স্টেশন/ফাঁড়িকে জানাবেন; যে স্টেশনে অবতরণ বা পুনঃআরোহণ বা ট্রেন বদল প্রয়োজন, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক/উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রামে রেলযোগে আগমন-প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

সাধারণ নির্দেশাবলি:

– মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো জানাতে হবে; সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে সেটিও দ্রুত জানানোর বিধান রয়েছে।

– সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়াও যদি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিজ বাড়ি বা অন্যত্র থাকেন, তবু রাষ্ট্রাচার সম্পর্কিত নির্দেশাবলি প্রযোজ্য থাকবে; নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের।

– সফরসূচি তৈরির সময় সফরটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। সরকারি সফরে যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় করবে; ব্যক্তিগত সফরে যদি সরকারী যানবাহন বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে প্রচলিত নিয়মমাফিক মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

– মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিবগণ মন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ জানায়, এই নতুন নির্দেশাবলি ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি হওয়া পূর্বের নির্দেশাবলির স্থলে কার্যকর হবে। নির্দেশাবলির উদ্দেশ্য—সফরকালে দায়িত্বের স্পষ্টতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রান্তি ও ঝামেলা কমানো।