০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নাজমুলের সেঞ্চুরি ও মুস্তাফিজের ফাইভারে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি ও মুস্তাফিজুর রহমানের ঝড়ো বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারে হতাশার মুখ দেখলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরে এসে টাইগাররা সর্বশেষ লড়াইয়ে উত্তেজনাপূর্ণ জয় তুলে নেয়।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস আরম্ভ থেকেই ওঠা-নামা করেও দেখায় নিয়মিত সংগ্রহ গঠন করে। শুরুর দিকে সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ হাসান তামিম (১) দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে থাকলেও শান্ত ও লিটন দাস চতুর্থ উইকেটে ধীরে ধীরে দায়বদ্ধ ব্যাটিং করে বড় জুটি গড়ে দলকে ভিত্তি দেন। লিটন ৭৬ রান করে আউট হলেও শান্ত আক্রমণাত্মক ফর্মে থিতু থেকে ১১৯ বল খেলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ে দুর্দান্ত ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন — এটা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান। মাঠে লড়াকু অবদান রাখেন মেহেদি হাসান মিরাজ (২২) ও তাওহিদ হৃদয় (৩৩*)। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুতেই ধাক্কা লাগে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্সারে হেনরি নিকোলস উপরের এজ তুলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন। উইল ইয়াং (১৯) ও টম ল্যাথাম (৫) সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন; ল্যাথামকে মিরাজের বলে ফিরতে দেখা যায়। নিক কেলি দলের আশা জাগিয়ে ৬৮ বলে অর্ধশতক করে ৫৯ রানে সাজঘরে ফেরেন, তবে তার আউটের পর দলীয় স্কোর দ্রুত ভেঙে পড়ে। আব্বাসকে শরিফুল ইসলাম বোল্ড করলে পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৪ রান।

এরপর ডিন ফক্সক্রফট ৭৫ রানের প্রতিরোধ গড়লেও তা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মুস্তাফিজ সবমিলিয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন এবং বোলিং বিভাগে সেরা হন। রানের হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটি বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয় — পুরোনো রেকর্ড ছিল ২০১৩ সালে মিরপুরে কিউইদের বিপক্ষে ৪৩ রানের জয়।

শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভার হাতে রেখে ২১০ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে সঙ্গে পুরো টিমের সমন্বিত পারফরম্যান্সই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। সিরিজ জয় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, যেখানে দর্শকরা দলে দৃঢ় চরিত্র ও ধারাবাহিকতা দেখেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ — ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (লিটন ৭৬, শান্ত ১০৫; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, মিরাজ ২২)

নিউজিল্যান্ড — ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯; মুস্তাফিজ ৫/৩০)

ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নাজমুলের সেঞ্চুরি ও মুস্তাফিজের ফাইভারে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি ও মুস্তাফিজুর রহমানের ঝড়ো বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারে হতাশার মুখ দেখলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরে এসে টাইগাররা সর্বশেষ লড়াইয়ে উত্তেজনাপূর্ণ জয় তুলে নেয়।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস আরম্ভ থেকেই ওঠা-নামা করেও দেখায় নিয়মিত সংগ্রহ গঠন করে। শুরুর দিকে সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ হাসান তামিম (১) দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে থাকলেও শান্ত ও লিটন দাস চতুর্থ উইকেটে ধীরে ধীরে দায়বদ্ধ ব্যাটিং করে বড় জুটি গড়ে দলকে ভিত্তি দেন। লিটন ৭৬ রান করে আউট হলেও শান্ত আক্রমণাত্মক ফর্মে থিতু থেকে ১১৯ বল খেলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ে দুর্দান্ত ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন — এটা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান। মাঠে লড়াকু অবদান রাখেন মেহেদি হাসান মিরাজ (২২) ও তাওহিদ হৃদয় (৩৩*)। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুতেই ধাক্কা লাগে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্সারে হেনরি নিকোলস উপরের এজ তুলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন। উইল ইয়াং (১৯) ও টম ল্যাথাম (৫) সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন; ল্যাথামকে মিরাজের বলে ফিরতে দেখা যায়। নিক কেলি দলের আশা জাগিয়ে ৬৮ বলে অর্ধশতক করে ৫৯ রানে সাজঘরে ফেরেন, তবে তার আউটের পর দলীয় স্কোর দ্রুত ভেঙে পড়ে। আব্বাসকে শরিফুল ইসলাম বোল্ড করলে পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৪ রান।

এরপর ডিন ফক্সক্রফট ৭৫ রানের প্রতিরোধ গড়লেও তা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মুস্তাফিজ সবমিলিয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন এবং বোলিং বিভাগে সেরা হন। রানের হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটি বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয় — পুরোনো রেকর্ড ছিল ২০১৩ সালে মিরপুরে কিউইদের বিপক্ষে ৪৩ রানের জয়।

শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভার হাতে রেখে ২১০ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে সঙ্গে পুরো টিমের সমন্বিত পারফরম্যান্সই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। সিরিজ জয় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, যেখানে দর্শকরা দলে দৃঢ় চরিত্র ও ধারাবাহিকতা দেখেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ — ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (লিটন ৭৬, শান্ত ১০৫; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, মিরাজ ২২)

নিউজিল্যান্ড — ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯; মুস্তাফিজ ৫/৩০)

ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।