০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ওমান সফর শেষে আবার পাকিস্তানে ফিরছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবার পাকিস্তানে ফিরছেন — মেহর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান সফর শেষ করে তিনি রোববার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। পাকিস্তান থেকেই তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হবে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা শীতলকরণ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তিচর্চার প্রেক্ষিতে এই দ্রুতগতির সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার রাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে আগমন করেছিলেন আরাগচি; শনিবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সেই সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার বড় সম্ভাবনার ছাপ পড়েছিল, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এজন্যই তিনি তৎক্ষণাত ওমান যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানানো হয়।

আরাগচির পুনরায় পাকিস্তানে ফেরার মাধ্যমে কূটনৈতিক দরজা এখনও খোলা আছে—এমন ইঙ্গিত কূটনৈতিক সূত্রগুলো দিয়েছে। তারা বলেছে, ইসলামাবাদে এসে তিনি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন; তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা বেশ নিচুই দেখা যাচ্ছে।

দুই পক্ষের বক্তব্য কটুতার ছাপ রাখছে—ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে একপাক্ষিক ও অতিরঞ্জিত মনে করে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবগুলিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থার কারণে আলোচনা কিছুটা স্থবির থাকলেও, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

আরাগচির সঙ্গে আগেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা ইতোমধ্যে তেহরানে ফিরেছেন এবং সেখানে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছালে ওই প্রতিনিধি দলটিও পুনরায় তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি বা দৌড়ঝাঁপের কেন্দ্রে পাকিস্তানই রয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, আরাগচির এই ফিরে আসা ইঙ্গিত দেয় যে পর্দার আড়ালে এখনও কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বরফ গলানোর চেষ্টা হতে পারে, তবে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

রাশিয়ার সফরের আগে ইসলামাবাদে এই সংক্ষিপ্ত বিরতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এখন প্রশ্নটা হলো—দ্বিতীয় দফার এই আলোচনা থেকে কি কোনো বাস্তব অগ্রগতি বা নিরপেক্ষ সমাধানের লক্ষণ দেখা যাবে, নাকি অবস্থানসমূহ অপরিবর্তিত থেকেই কূটনৈতিক চেষ্টাগুলো সীমাবদ্ধ থাকবে?

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ওমান সফর শেষে আবার পাকিস্তানে ফিরছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবার পাকিস্তানে ফিরছেন — মেহর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান সফর শেষ করে তিনি রোববার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। পাকিস্তান থেকেই তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হবে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা শীতলকরণ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তিচর্চার প্রেক্ষিতে এই দ্রুতগতির সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার রাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে আগমন করেছিলেন আরাগচি; শনিবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সেই সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার বড় সম্ভাবনার ছাপ পড়েছিল, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এজন্যই তিনি তৎক্ষণাত ওমান যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানানো হয়।

আরাগচির পুনরায় পাকিস্তানে ফেরার মাধ্যমে কূটনৈতিক দরজা এখনও খোলা আছে—এমন ইঙ্গিত কূটনৈতিক সূত্রগুলো দিয়েছে। তারা বলেছে, ইসলামাবাদে এসে তিনি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন; তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা বেশ নিচুই দেখা যাচ্ছে।

দুই পক্ষের বক্তব্য কটুতার ছাপ রাখছে—ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে একপাক্ষিক ও অতিরঞ্জিত মনে করে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবগুলিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থার কারণে আলোচনা কিছুটা স্থবির থাকলেও, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

আরাগচির সঙ্গে আগেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা ইতোমধ্যে তেহরানে ফিরেছেন এবং সেখানে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছালে ওই প্রতিনিধি দলটিও পুনরায় তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি বা দৌড়ঝাঁপের কেন্দ্রে পাকিস্তানই রয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, আরাগচির এই ফিরে আসা ইঙ্গিত দেয় যে পর্দার আড়ালে এখনও কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বরফ গলানোর চেষ্টা হতে পারে, তবে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

রাশিয়ার সফরের আগে ইসলামাবাদে এই সংক্ষিপ্ত বিরতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এখন প্রশ্নটা হলো—দ্বিতীয় দফার এই আলোচনা থেকে কি কোনো বাস্তব অগ্রগতি বা নিরপেক্ষ সমাধানের লক্ষণ দেখা যাবে, নাকি অবস্থানসমূহ অপরিবর্তিত থেকেই কূটনৈতিক চেষ্টাগুলো সীমাবদ্ধ থাকবে?