১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বিভিন্ন নথিপত্র হাতে পেয়েছে এবং শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের তলব করা হবে বলে জানিয়েছে। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংস্থার সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের অনুসন্ধানী দল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সংগ্রহ করছে। এই দুই বিষয়ে তথ্য-নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানায় সংস্থা।

পটভূমি হিসেবে জানা গেছে, রোজ গার্ডেন নামের ঐতিহ্যবাহী ভবনটি নির্মাণ করেন ঋষিকেশ দাস নামে এক ব্যবসায়ী; এটি পুরান ঢাকার ২২ বিঘা জায়গার ওপর তৈরি হয় এবং নির্মাণকাল প্রায় ১৯৩০ সালের। ভবনটি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সরকারি দায়িত্বে থাকা সময় ওই ভবনকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার কেনা হয় এবং ক্রয়ের মূলধন হিসেবে ৩৩২ কোটি টাকার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রিতে প্রতিফলিত হয়। পরে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে গেলে সংস্থাটি তদন্ত শুরু করে।

দুদকের ধারনা অনুযায়ী অভিযোগে বলা হচ্ছে কেনাকাটায় অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে; তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করে তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।

অন্যদিকে কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ৫৫ কেজিরও বেশি স্বর্ণগহনা নষ্ট বা চুরি হওয়ার ঘটনায় দুদক তদন্ত চালাচ্ছে। এই মামলার নানা নথিপত্র পেতে সংস্থাটি বিভিন্ন সরকারি অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দল সেখানে থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

দুদক বলেছে, সোনার ঘটনাটি তাদের তফসিলে থাকা অপরাধ হওয়ায় পিবিআই থেকে মামলাটি ২০২৫ সালে দুদকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানীরা মোট পাওয়া নথি-তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন এবং শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে।

দুদকের এই পদক্ষেপ দুইটি ঘটনার সম্পৃক্ততা, আর্থিক লেনদেন ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা পরিষ্কার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার ও সাধারণ জনগণের কাছে দাবি করছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ হলে প্রকাশ্যভাবে ফলাফল জানানো হবে বলে দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বিভিন্ন নথিপত্র হাতে পেয়েছে এবং শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের তলব করা হবে বলে জানিয়েছে। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংস্থার সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের অনুসন্ধানী দল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সংগ্রহ করছে। এই দুই বিষয়ে তথ্য-নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানায় সংস্থা।

পটভূমি হিসেবে জানা গেছে, রোজ গার্ডেন নামের ঐতিহ্যবাহী ভবনটি নির্মাণ করেন ঋষিকেশ দাস নামে এক ব্যবসায়ী; এটি পুরান ঢাকার ২২ বিঘা জায়গার ওপর তৈরি হয় এবং নির্মাণকাল প্রায় ১৯৩০ সালের। ভবনটি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সরকারি দায়িত্বে থাকা সময় ওই ভবনকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার কেনা হয় এবং ক্রয়ের মূলধন হিসেবে ৩৩২ কোটি টাকার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রিতে প্রতিফলিত হয়। পরে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে গেলে সংস্থাটি তদন্ত শুরু করে।

দুদকের ধারনা অনুযায়ী অভিযোগে বলা হচ্ছে কেনাকাটায় অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে; তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করে তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।

অন্যদিকে কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ৫৫ কেজিরও বেশি স্বর্ণগহনা নষ্ট বা চুরি হওয়ার ঘটনায় দুদক তদন্ত চালাচ্ছে। এই মামলার নানা নথিপত্র পেতে সংস্থাটি বিভিন্ন সরকারি অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দল সেখানে থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

দুদক বলেছে, সোনার ঘটনাটি তাদের তফসিলে থাকা অপরাধ হওয়ায় পিবিআই থেকে মামলাটি ২০২৫ সালে দুদকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানীরা মোট পাওয়া নথি-তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন এবং শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে।

দুদকের এই পদক্ষেপ দুইটি ঘটনার সম্পৃক্ততা, আর্থিক লেনদেন ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা পরিষ্কার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার ও সাধারণ জনগণের কাছে দাবি করছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ হলে প্রকাশ্যভাবে ফলাফল জানানো হবে বলে দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।