০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সেতুমন্ত্রী জামায়াতকে রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিলেন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নির্বাচনের আগে যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি—এ কারণে ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে বলে তার অভিযোজন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। এ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ নেতা নিয়মিতভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন, তার নেতৃত্বে আমরা আরও পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু সংসদ নেতা শুধু সরকারি দলেরই নেতা হলে পার্লামেন্টের মহিমা বাড়বে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অনেক সময় বিধি-বিধান বা কোন ইস্যুতে কখন ও কীভাবে সোচ্চার হতে হবে, তা সঠিকভাবে করতে পারছেন না। এজন্য তাদের সাংসদ হিসাবে আরও শাণিত এবং পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা আয়োজন করেন বা সংলাপে তাদের সঙ্গে সময় কাটান, তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজে লাগবে—এমনটিই তার আশা।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কঠোর নেতৃত্ব ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে জিয়ার অবদানও তুলে ধরেন।

তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। এই সংসদ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির দানের ফল নয়, এটি জনগণের সংসদ। গত ১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন; আমরা একইভাবে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম।

মন্ত্রী নিজেও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৩টি মামলার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনি ৯ বার জেলে গেছেন, ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং তিন দিন গুম ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে কাজ করে এই সংগ্রাম চালিয়েছেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যন্ত্রণা থাকতে পারে, যাদের জনগণ কখনও ভোটে ক্ষমতায় বসায়নি। তবে নির্বাচনের আগে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়—এমনকারীরা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ; জনগণ বিভ্রান্ত নয়—এজন্যই ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে এবং এর মধ্যে ৫۱ শতাংশ মানুষ চায় বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই বেশি গ্রহণযোগ্য।’’ ফলে তিনি অপর দলগুলোকে পরামর্শ দিলেন — রাজনীতি শিখুন, সঠিকভাবে রাজনীতি করুন, মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখে সেতুমন্ত্রী আশাব্যক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং দেশীয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও মজবুত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সেতুমন্ত্রী জামায়াতকে রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিলেন

প্রকাশিতঃ ০২:২৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নির্বাচনের আগে যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি—এ কারণে ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে বলে তার অভিযোজন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। এ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ নেতা নিয়মিতভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন, তার নেতৃত্বে আমরা আরও পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু সংসদ নেতা শুধু সরকারি দলেরই নেতা হলে পার্লামেন্টের মহিমা বাড়বে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অনেক সময় বিধি-বিধান বা কোন ইস্যুতে কখন ও কীভাবে সোচ্চার হতে হবে, তা সঠিকভাবে করতে পারছেন না। এজন্য তাদের সাংসদ হিসাবে আরও শাণিত এবং পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা আয়োজন করেন বা সংলাপে তাদের সঙ্গে সময় কাটান, তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজে লাগবে—এমনটিই তার আশা।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কঠোর নেতৃত্ব ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে জিয়ার অবদানও তুলে ধরেন।

তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। এই সংসদ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির দানের ফল নয়, এটি জনগণের সংসদ। গত ১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন; আমরা একইভাবে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম।

মন্ত্রী নিজেও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৩টি মামলার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনি ৯ বার জেলে গেছেন, ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং তিন দিন গুম ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে কাজ করে এই সংগ্রাম চালিয়েছেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যন্ত্রণা থাকতে পারে, যাদের জনগণ কখনও ভোটে ক্ষমতায় বসায়নি। তবে নির্বাচনের আগে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়—এমনকারীরা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ; জনগণ বিভ্রান্ত নয়—এজন্যই ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে এবং এর মধ্যে ৫۱ শতাংশ মানুষ চায় বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই বেশি গ্রহণযোগ্য।’’ ফলে তিনি অপর দলগুলোকে পরামর্শ দিলেন — রাজনীতি শিখুন, সঠিকভাবে রাজনীতি করুন, মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখে সেতুমন্ত্রী আশাব্যক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং দেশীয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও মজবুত হবে।