১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ফিফার নির্বিকারতায় ক্রীড়া আদালতে আপিল করেছে ফিলিস্তিন

প্যালেস্টাইনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) ফিফার সাম্প্রতিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত সিওটেমি (সিএএস)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে। পিএফএ বলেছে যে ফিফার সিদ্ধান্ত ‘অন্যায়প্রসূত’ হওয়ায় ২০ এপ্রিল তারা এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

পিছনের প্রসঙ্গে পিএফএ উল্লেখ করে যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি বসতিতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি ফুটবল ক্লাবগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করলেও তারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) লিগে অংশ নিচ্ছে। পিএফএ বহুবার ফিফার কাছে এসব ক্লাব ও তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ করার ব্যবস্থা দাবি করলেও ফিফা কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি। তুমুল আলোচনার পরও ফিফা বলেছে পশ্চিম তীরের আইনি অবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে অমীমাংসিত থাকায় তারা এখনই কোনো রূপান্তরী বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেবে না। ফিফার এই অবস্থানই পিএফএকে সিএএস-এর দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেছে।

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কংগ্রেস শেষে পিএফএ-র সহ-সভাপতি সুসান শালাবি এই আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা ফিফার কাছে দীর্ঘদিনের আইনগত ও কূটনৈতিক সব পথ অন্বেষণ করেছি, তবু ন্যায়বিচার হয়নি। ফিফা কাউন্সিল ১৫ বছর আলোচনার পরও বিষয়টি এড়িয়ে গেলে আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প রইলো না।” শালাবি আরও জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই আইনি লড়াই থামাবেন না।

শালাবি ফিলিস্তিনি ফুটবলের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে বলেন যে গাজায় অধিকাংশ ফুটবল অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নেই। চলমান সংঘাত ও আক্রমণের ফলে শত শত ফুটবলার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকে শিশু ও কিশোর। পেশাদার লিগ স্থগিত এবং মাঠসমূহ বিপজ্জনক হওয়ায় ফিলিস্তিনি ফুটবল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

এই মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও নীতি-সমর্থন না পাওয়াকে পিএফএ পার্টিভক্তিমূলক হিসাবেও দেখছে। তারা বলছে, কেবল ফুটবল নয় — এই বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িত।

আপিলটি সিএএস-এ পৌঁছালে সেখানে পিএফএ ও ফিফার যুক্তি-প্রতিউক্তি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলস্বরূপ সিদ্ধান্ত কবে আসতে পারে তা নির্ভর করবে কোর্টের বিচারপ্রক্রিয়ার গতিশীলতার ওপর। পিএফএ জোর দিয়ে বলছে, আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করা তাদের একান্ত প্রয়োজনীয় ধাপ এবং তারা এই পথেই অগ্রসর থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ফিফার নির্বিকারতায় ক্রীড়া আদালতে আপিল করেছে ফিলিস্তিন

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্যালেস্টাইনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) ফিফার সাম্প্রতিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত সিওটেমি (সিএএস)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে। পিএফএ বলেছে যে ফিফার সিদ্ধান্ত ‘অন্যায়প্রসূত’ হওয়ায় ২০ এপ্রিল তারা এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

পিছনের প্রসঙ্গে পিএফএ উল্লেখ করে যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি বসতিতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি ফুটবল ক্লাবগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করলেও তারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) লিগে অংশ নিচ্ছে। পিএফএ বহুবার ফিফার কাছে এসব ক্লাব ও তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ করার ব্যবস্থা দাবি করলেও ফিফা কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি। তুমুল আলোচনার পরও ফিফা বলেছে পশ্চিম তীরের আইনি অবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে অমীমাংসিত থাকায় তারা এখনই কোনো রূপান্তরী বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেবে না। ফিফার এই অবস্থানই পিএফএকে সিএএস-এর দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেছে।

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কংগ্রেস শেষে পিএফএ-র সহ-সভাপতি সুসান শালাবি এই আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা ফিফার কাছে দীর্ঘদিনের আইনগত ও কূটনৈতিক সব পথ অন্বেষণ করেছি, তবু ন্যায়বিচার হয়নি। ফিফা কাউন্সিল ১৫ বছর আলোচনার পরও বিষয়টি এড়িয়ে গেলে আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প রইলো না।” শালাবি আরও জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই আইনি লড়াই থামাবেন না।

শালাবি ফিলিস্তিনি ফুটবলের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে বলেন যে গাজায় অধিকাংশ ফুটবল অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নেই। চলমান সংঘাত ও আক্রমণের ফলে শত শত ফুটবলার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকে শিশু ও কিশোর। পেশাদার লিগ স্থগিত এবং মাঠসমূহ বিপজ্জনক হওয়ায় ফিলিস্তিনি ফুটবল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

এই মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও নীতি-সমর্থন না পাওয়াকে পিএফএ পার্টিভক্তিমূলক হিসাবেও দেখছে। তারা বলছে, কেবল ফুটবল নয় — এই বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িত।

আপিলটি সিএএস-এ পৌঁছালে সেখানে পিএফএ ও ফিফার যুক্তি-প্রতিউক্তি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলস্বরূপ সিদ্ধান্ত কবে আসতে পারে তা নির্ভর করবে কোর্টের বিচারপ্রক্রিয়ার গতিশীলতার ওপর। পিএফএ জোর দিয়ে বলছে, আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করা তাদের একান্ত প্রয়োজনীয় ধাপ এবং তারা এই পথেই অগ্রসর থাকবে।