০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সশস্ত্র সংঘাতে জাওয়িয়ার তেল শোধনাগার বন্ধ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাওয়িয়ার ঘটনাস্থলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর সেখানে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আল-জাজিরা ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া তেল শোধনাগারের শোধনক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। এটি শারারা নামের তেলক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত, যা দিন আনে দিন পায় প্রায় ৩ লক্ষ ব্যারেল কাঁচা তেল উৎপাদন করে।

ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) ও জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি জানিয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অংশ হিসেবে শোধনাগার ও বন্দর এলাকা থেকে কর্মীরা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এনওসি বলেছে, তবুও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।

স্থানের সূত্র বলে, শুক্রবার ভোরে তেল কমপ্লেক্সের আশেপাশে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে বিপৎসংকেত (অ্যালার্ম সাইরেন) বাজানো হয়। ওই সময় শোধনাগারের বিভিন্ন স্থানে ভারী গোলাবর্ষণের ছোঁয়া লেগে কয়েকটি গাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আল-জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির চিত্র ধরা পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মানবহানি বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের কোনো খবর নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।

জাওয়িয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে একটি বড় নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো হত্যা-চেষ্টা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ নানা গুরুতর অপরাধে জড়িত।

সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর আশেপাশের আবাসিক এলাকাগুলোও গোলাবর্ষণের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি সব পক্ষকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং লিবীয় কর্তৃপক্ষকে জনজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছে।

২০১১ সালে গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক টুকরোकरण ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। দেশটি পশ্চিমের ত্রিপোলি-কেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী সরকার (জিএনইউ) এবং পূর্বে থাকা খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন বাহিনীসহ প্রচলিত বিভাজিত শাসন কাঠামোতে বিভক্ত। সংঘর্ষ কেন শুরু হল তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি; স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অভিযানের পরই উত্তেজনা বাড়ে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতি নিয়ে খবর সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার এবং যে কোনো আপডেটের জন্য অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সশস্ত্র সংঘাতে জাওয়িয়ার তেল শোধনাগার বন্ধ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাওয়িয়ার ঘটনাস্থলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর সেখানে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আল-জাজিরা ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া তেল শোধনাগারের শোধনক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। এটি শারারা নামের তেলক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত, যা দিন আনে দিন পায় প্রায় ৩ লক্ষ ব্যারেল কাঁচা তেল উৎপাদন করে।

ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) ও জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি জানিয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অংশ হিসেবে শোধনাগার ও বন্দর এলাকা থেকে কর্মীরা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এনওসি বলেছে, তবুও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।

স্থানের সূত্র বলে, শুক্রবার ভোরে তেল কমপ্লেক্সের আশেপাশে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে বিপৎসংকেত (অ্যালার্ম সাইরেন) বাজানো হয়। ওই সময় শোধনাগারের বিভিন্ন স্থানে ভারী গোলাবর্ষণের ছোঁয়া লেগে কয়েকটি গাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আল-জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির চিত্র ধরা পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মানবহানি বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের কোনো খবর নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।

জাওয়িয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে একটি বড় নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো হত্যা-চেষ্টা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ নানা গুরুতর অপরাধে জড়িত।

সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর আশেপাশের আবাসিক এলাকাগুলোও গোলাবর্ষণের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি সব পক্ষকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং লিবীয় কর্তৃপক্ষকে জনজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছে।

২০১১ সালে গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক টুকরোकरण ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। দেশটি পশ্চিমের ত্রিপোলি-কেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী সরকার (জিএনইউ) এবং পূর্বে থাকা খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন বাহিনীসহ প্রচলিত বিভাজিত শাসন কাঠামোতে বিভক্ত। সংঘর্ষ কেন শুরু হল তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি; স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অভিযানের পরই উত্তেজনা বাড়ে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতি নিয়ে খবর সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার এবং যে কোনো আপডেটের জন্য অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।