০৫:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নবগঠিত বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সকল পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গ সরকার বুধবার (১৩ মে) ঘোষণা করেছে যে রাজ্যে প্রকাশ্যে গরু সহ সকল ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। রাজ্যপালিকার তরফে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি অনুমোদন ব্যতীত এবং অনুমোদিত পশুচিকিৎসকের ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গবাদি পশু জবাই করা যাবে না।

নবানির্বাচিত বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের আওতায় যেকোনো পশু জবাই করার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা আবশ্যক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, কোনো পশুকে জবাইয়ের যোগ্য বিবেচনা করার জন্য তার বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি স্থায়ীভাবে প্রজনন বা কৃষিকাজে অযৌক্তিক বা অনুপযোগী হয়ে যেতে হবে। এছাড়া কোনো পশু যদি গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে, তবেই কেবল অনুমোদিত সরকারি পশুচিকিৎসক ফিটনেস সনদ জারি করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর ও পুরুষ ও স্ত্রী মহিষসহ সকল গবাদি পশুর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

শাস্তিস্থল ও প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণও কড়াকড়ি করা হয়েছে। শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত আবদ্ধ স্থানে অনুমতিপ্রাপ্ত পশুদের জবাই করা যাবে; রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ উন্মুক্ত স্থানে কোনো অবস্থাতেই পশু জবাই করা যাবে না। বিধি-নিষেধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শনের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক হাজার রুপি জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে এবং এসব কাণ্ডকে আইনত ‘আমলযোগ্য’ বিবেচনা করা হবে।

রাজ্য রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্ত তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসা বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব দিতে দেখা চলছে; বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ধরনের দ্রুত পরিবর্তন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং স্থানীয় স্তরে এর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটাই এখন পরবর্তী নজরকাড়া বিষয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নবগঠিত বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সকল পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ সরকার বুধবার (১৩ মে) ঘোষণা করেছে যে রাজ্যে প্রকাশ্যে গরু সহ সকল ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। রাজ্যপালিকার তরফে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি অনুমোদন ব্যতীত এবং অনুমোদিত পশুচিকিৎসকের ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গবাদি পশু জবাই করা যাবে না।

নবানির্বাচিত বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের আওতায় যেকোনো পশু জবাই করার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা আবশ্যক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, কোনো পশুকে জবাইয়ের যোগ্য বিবেচনা করার জন্য তার বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি স্থায়ীভাবে প্রজনন বা কৃষিকাজে অযৌক্তিক বা অনুপযোগী হয়ে যেতে হবে। এছাড়া কোনো পশু যদি গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে, তবেই কেবল অনুমোদিত সরকারি পশুচিকিৎসক ফিটনেস সনদ জারি করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর ও পুরুষ ও স্ত্রী মহিষসহ সকল গবাদি পশুর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

শাস্তিস্থল ও প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণও কড়াকড়ি করা হয়েছে। শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত আবদ্ধ স্থানে অনুমতিপ্রাপ্ত পশুদের জবাই করা যাবে; রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ উন্মুক্ত স্থানে কোনো অবস্থাতেই পশু জবাই করা যাবে না। বিধি-নিষেধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শনের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক হাজার রুপি জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে এবং এসব কাণ্ডকে আইনত ‘আমলযোগ্য’ বিবেচনা করা হবে।

রাজ্য রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্ত তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসা বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব দিতে দেখা চলছে; বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ধরনের দ্রুত পরিবর্তন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং স্থানীয় স্তরে এর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটাই এখন পরবর্তী নজরকাড়া বিষয়।