০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ওমান উপকূলে হামলায় ভারতীয় পতাকা বহনকারী জাহাজ ডুবে গেছে

ওমান উপকূলে গত ১৩ মে বুধবার ভারতের পতাকা বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে জাহাজটি ডুবেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় নয়াদিল্লি; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজের নাম এমএসভি হাজি আলি। জাহাজটিতে ১৪ জন নাবিক ছিলেন। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে—হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে—বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন; পরে জাহাজটি ডুবে যায়।

ভ্যানগার্ডের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দর থেকে যাত্রা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে গবাদিপশু পরিবহন করছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে; হামলায় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে কারা দায়ী তা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করেনি ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের লক্ষ্যে হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে এমন পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন এবং তাদের উদ্ধারে সাহায্য করার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

প্রাসঙ্গিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় নৌপথে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বেড়েছে। এই বন্দরে ভ্রমণ ও সরবরাহে অচলাবস্থার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে — উল্লেখ্য, এই পথে বিশ্ব তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করা হয়— যা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশের জন্য চাপ তৈরি করছে।

ঘটনার পর ভারত সরকার বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সময়ে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক চলছে; বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলার প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করলেও বলেছেন, যারা ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে তাদের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয় বিবেচনায় আছে।

ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের হামলার কারণে নৌসুরক্ষা ও বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ওমান উপকূলে হামলায় ভারতীয় পতাকা বহনকারী জাহাজ ডুবে গেছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ওমান উপকূলে গত ১৩ মে বুধবার ভারতের পতাকা বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে জাহাজটি ডুবেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় নয়াদিল্লি; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজের নাম এমএসভি হাজি আলি। জাহাজটিতে ১৪ জন নাবিক ছিলেন। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে—হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে—বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন; পরে জাহাজটি ডুবে যায়।

ভ্যানগার্ডের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দর থেকে যাত্রা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে গবাদিপশু পরিবহন করছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে; হামলায় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে কারা দায়ী তা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করেনি ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের লক্ষ্যে হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে এমন পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন এবং তাদের উদ্ধারে সাহায্য করার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

প্রাসঙ্গিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় নৌপথে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বেড়েছে। এই বন্দরে ভ্রমণ ও সরবরাহে অচলাবস্থার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে — উল্লেখ্য, এই পথে বিশ্ব তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করা হয়— যা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশের জন্য চাপ তৈরি করছে।

ঘটনার পর ভারত সরকার বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সময়ে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক চলছে; বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলার প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করলেও বলেছেন, যারা ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে তাদের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয় বিবেচনায় আছে।

ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের হামলার কারণে নৌসুরক্ষা ও বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।