০৫:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেল–গ্যাস বিঘ্নিত: বিকল্প হিসেবে কয়লার ব্যবহার বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ব জুড়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারো বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ঝুঁকছে। তেলের অভাব ও এলএনজি রুটে অনিশ্চয়তার ফলে যুক্তরাজ্য, এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ দ্রুতই কয়লা আমদানি ও ব্যবহার বাড়িয়ে নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক কেপলারের ধারণা অনুযায়ী, চলতি মে মাসে বিশ্বজুড়ে কয়লা আমদানির পরিমাণ ৪ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে — যা একক মাস হিসাবে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হতে পারে। সাধারণত উত্তর গোলার্ধে শীত শেষ হওয়ার পর এই সময় চাহিদা কমে যাওয়া উচিত হলেও যুদ্ধ ও সরবরাহঝুঁকির কারণে গতবছরের ধারা পাল্টে গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়লা পরিবহনের ভাড়া ও জাহাজ সংখ্যা কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মার্কেট ডেটা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আরগাস জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মে মাসে কয়লা পরিবহনের গড় ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ গত কয়েক মাসে ৬০–৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক সরবরাহে জাহাজ ভাড়া ৪০–৫০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইনী জটিলতার কারণে এলএনজি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলএনজি-নির্ভর দেশগুলো বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ফিরে যাচ্ছে।

এশিয়ায় এই রূপান্তরটি সবচেয়ে তীব্র। থাইল্যান্ড বন্ধ থাকা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করেছে, আর দক্ষিণ কোরিয়া এলএনজি-নির্ভরতা কমাতে পরিবেশগত নিয়মকানুন শিথিল করে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া গত বছরের তুলনায় কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ গিগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতা যোগ করেছে। জাপান ও ভিয়েতনামেও কয়লার ব্যবহার উঠতি পর্যায়ে দেখা গেছে। শিপিং সংস্থা বিমকোর তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে সরবরাহিত কয়লার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে মাঝারি আকারের কয়লাবাহী পণ্যবাহী জাহাজগুলোর ব্যবহার বর্তমানে তুঙ্গে পৌঁছেছে।

চীন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে, চাহিদা মেটাতে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশাল পরিমাণ কয়লা আমদানি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় চীন কয়লা থেকে কেমিক্যাল উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন যে গ্রীষ্মে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে যন্ত্রপাতি ও কুলিং সিস্টেমের ব্যবহার বাড়লে কয়লার চাহিদা আরও বাড়বে।

সাধারণত জুলাই থেকে শীতের মজুদ শুরু হয়, কিন্তু বর্তমান অনিশ্চয়তার ফলে অনেক দেশই সময়ের আগেই স্টক বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। যদিও জলবায়ু লক্ষ্য ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের চাপ শক্তভাবে রয়ে গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অনেক দেশের কাছে অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। এপরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনীতি ও পরিবেশ নীতির মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেল–গ্যাস বিঘ্নিত: বিকল্প হিসেবে কয়লার ব্যবহার বাড়ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ব জুড়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারো বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ঝুঁকছে। তেলের অভাব ও এলএনজি রুটে অনিশ্চয়তার ফলে যুক্তরাজ্য, এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ দ্রুতই কয়লা আমদানি ও ব্যবহার বাড়িয়ে নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক কেপলারের ধারণা অনুযায়ী, চলতি মে মাসে বিশ্বজুড়ে কয়লা আমদানির পরিমাণ ৪ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে — যা একক মাস হিসাবে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হতে পারে। সাধারণত উত্তর গোলার্ধে শীত শেষ হওয়ার পর এই সময় চাহিদা কমে যাওয়া উচিত হলেও যুদ্ধ ও সরবরাহঝুঁকির কারণে গতবছরের ধারা পাল্টে গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়লা পরিবহনের ভাড়া ও জাহাজ সংখ্যা কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মার্কেট ডেটা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আরগাস জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মে মাসে কয়লা পরিবহনের গড় ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ গত কয়েক মাসে ৬০–৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক সরবরাহে জাহাজ ভাড়া ৪০–৫০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইনী জটিলতার কারণে এলএনজি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলএনজি-নির্ভর দেশগুলো বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ফিরে যাচ্ছে।

এশিয়ায় এই রূপান্তরটি সবচেয়ে তীব্র। থাইল্যান্ড বন্ধ থাকা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করেছে, আর দক্ষিণ কোরিয়া এলএনজি-নির্ভরতা কমাতে পরিবেশগত নিয়মকানুন শিথিল করে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া গত বছরের তুলনায় কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ গিগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতা যোগ করেছে। জাপান ও ভিয়েতনামেও কয়লার ব্যবহার উঠতি পর্যায়ে দেখা গেছে। শিপিং সংস্থা বিমকোর তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে সরবরাহিত কয়লার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে মাঝারি আকারের কয়লাবাহী পণ্যবাহী জাহাজগুলোর ব্যবহার বর্তমানে তুঙ্গে পৌঁছেছে।

চীন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে, চাহিদা মেটাতে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশাল পরিমাণ কয়লা আমদানি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় চীন কয়লা থেকে কেমিক্যাল উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন যে গ্রীষ্মে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে যন্ত্রপাতি ও কুলিং সিস্টেমের ব্যবহার বাড়লে কয়লার চাহিদা আরও বাড়বে।

সাধারণত জুলাই থেকে শীতের মজুদ শুরু হয়, কিন্তু বর্তমান অনিশ্চয়তার ফলে অনেক দেশই সময়ের আগেই স্টক বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। যদিও জলবায়ু লক্ষ্য ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের চাপ শক্তভাবে রয়ে গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অনেক দেশের কাছে অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। এপরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনীতি ও পরিবেশ নীতির মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হতে পারে।