০২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি: নগদ লভ্যাংশ সীমিত, পুঁজিবাজারে উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ প্রদানে নতুন বিধিনিষেধ導েছে, যাতে ব্যাংকগুলোর মূলধন আরও মজবুত রাখা এবং সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো যায়। শনিবার (২৩ মে) জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে: যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) দুই হাজার কোটি টাকার কম, তারা কোনো প্রকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্যতা থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সার্কুলারের বিধান অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দেবে, তারা ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্তই নগদ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে; বাকি অনুচ্ছেদ অবশ্যই স্টক বা বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, লভ্যাংশের অংশমূলধনে রেখে ‘রি-ইনভেস্ট’ করলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ধীরে ধীরে কমবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারণা করছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই পদক্ষেপ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সহায়ক হবে। আগে থেকেই মূলধন সংরক্ষণ হার, ডিভিডেন্ড পে-আউট রেশিওসহ নানা নীতিমালা থাকলেও নতুন নির্দেশনাটি এই নীতিগুলোর উপরে আরও একটি নিরাপত্তা স্তর যোগ করছে।

নতুন নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে সেই লভ্যাংশ ঘোষণার জন্য যা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের ওপর প্রযোজ্য। এর পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৫-এর ক্ষমতাবলে জারি করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নগদ লভ্যাংশ সীমাবদ্ধ করলে স্বল্পমেয়াদে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, কারণ নগদ লভ্যাংশ অনেক বিনিয়োগকারীর জন্য আবেগগত ও অর্থনৈতিক আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে। তবে তারা এটিও বলছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংকগুলোর মূলধন শক্ত করলে খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রত্যাশিত আয়সৃষ্টি বজায় থাকবে, যা শেয়ারবাজারের জন্যও ইতিবাচক।

সংক্ষেপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া একটি কড়া পদক্ষেপ। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তা কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসবে—নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ কমবে এবং বেশি অংশ কপিটালে রূপান্তরিত হবে—কিন্তু উদ্দেশ্য হলো সেক্টরের আন্ডারলাইন শক্ত করা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা সহজতর করা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি: নগদ লভ্যাংশ সীমিত, পুঁজিবাজারে উদ্বেগ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ প্রদানে নতুন বিধিনিষেধ導েছে, যাতে ব্যাংকগুলোর মূলধন আরও মজবুত রাখা এবং সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো যায়। শনিবার (২৩ মে) জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে: যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) দুই হাজার কোটি টাকার কম, তারা কোনো প্রকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্যতা থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সার্কুলারের বিধান অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দেবে, তারা ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্তই নগদ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে; বাকি অনুচ্ছেদ অবশ্যই স্টক বা বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, লভ্যাংশের অংশমূলধনে রেখে ‘রি-ইনভেস্ট’ করলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ধীরে ধীরে কমবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারণা করছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই পদক্ষেপ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সহায়ক হবে। আগে থেকেই মূলধন সংরক্ষণ হার, ডিভিডেন্ড পে-আউট রেশিওসহ নানা নীতিমালা থাকলেও নতুন নির্দেশনাটি এই নীতিগুলোর উপরে আরও একটি নিরাপত্তা স্তর যোগ করছে।

নতুন নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে সেই লভ্যাংশ ঘোষণার জন্য যা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের ওপর প্রযোজ্য। এর পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৫-এর ক্ষমতাবলে জারি করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নগদ লভ্যাংশ সীমাবদ্ধ করলে স্বল্পমেয়াদে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, কারণ নগদ লভ্যাংশ অনেক বিনিয়োগকারীর জন্য আবেগগত ও অর্থনৈতিক আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে। তবে তারা এটিও বলছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংকগুলোর মূলধন শক্ত করলে খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রত্যাশিত আয়সৃষ্টি বজায় থাকবে, যা শেয়ারবাজারের জন্যও ইতিবাচক।

সংক্ষেপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া একটি কড়া পদক্ষেপ। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তা কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসবে—নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ কমবে এবং বেশি অংশ কপিটালে রূপান্তরিত হবে—কিন্তু উদ্দেশ্য হলো সেক্টরের আন্ডারলাইন শক্ত করা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা সহজতর করা।