১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে নামছে

মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চলেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স, যা মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন একটি ইতিহাসের সূচনা করতে পারে। গত বুধবার (৩ জুন) সংস্থাটি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব—আইপিও—নথি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছে।

কোম্পানিটি প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য স্থির করেছে এবং মোট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং বাজারে ছাড়া হবে প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ জুনের মধ্যে এই আইপিওর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফল হলে এটি ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা ২৫৬০ কোটি ডলারের আইপিওর রেকর্ড ভাঙিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আইপিওতে উঠে আসবে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তের জন্য সত্তর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার গল্পই স্বপ্ন আর জেদের খাঁটি উদাহরণ। ২০০২ সালে যখন ইলন মাস্ক মাত্র ৩০ বছর বয়সে কোম্পানিটি গড়ে তোলেন, তখন তার লক্ষ্য ছিল মানুষকে অন্য গ্রহে পৌঁছে দেওয়া ও মঙ্গলে বসতি স্থাপনের দিকে এগোনো। স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার আগে মাস্ক তার অনলাইন উদ্যোগ জিপ২ ও পরে পেপ্যাল বিক্রি করে যে তহবিল গড়েছিলেন, সেটিই তাকে এই মহাকাশ অভিযানে ত্বরান্বিত করেছিল।

শুরুর দিকে স্পেসএক্স বেশ কিছু রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয় ও আর্থিক কষ্টের মুখে পড়ে। তবু মাস্ক হার মানেননি। ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে কোম্পানিটি নতুনভাবে উত্তরে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং আধুনিক বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে একটি মাইলফলক স্থাপন করে।

বর্তমানে স্পেসএক্সকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা হিসেবে দেখা হয়। আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট নির্মাণের মাধ্যমে তারা মহাকাশ ভ্রমণের খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়েছে এবং নাসার প্রধান মিশনগুলোর অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্পেসএক্সই প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানুষ পাঠানোর সাফল্য অর্জন করে। এছাড়া ‘স্টারলিংক’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে এবং ‘স্টারশিপ’ প্রজেক্টে সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বৃহৎ রকেট তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

এই আইপিও ইলন মাস্কের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে নতুন স্তর যোগ করবে—নিয়ে আসবে নতুন তহবিল ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ। এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ নয়; বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের সক্ষমতা এই পরীক্ষায় পড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পেসএক্সের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানকে বড় পর্যায়ে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।

সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জনসাধারণের বিনিয়োগে স্পেসএক্স কতটা সফল হতে পারে এবং এই সফলতা কি সত্যিই মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ সেক্টরের নজর এখন স্পেসএক্সের দিকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে নামছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চলেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স, যা মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন একটি ইতিহাসের সূচনা করতে পারে। গত বুধবার (৩ জুন) সংস্থাটি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব—আইপিও—নথি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছে।

কোম্পানিটি প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য স্থির করেছে এবং মোট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং বাজারে ছাড়া হবে প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ জুনের মধ্যে এই আইপিওর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফল হলে এটি ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা ২৫৬০ কোটি ডলারের আইপিওর রেকর্ড ভাঙিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আইপিওতে উঠে আসবে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তের জন্য সত্তর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার গল্পই স্বপ্ন আর জেদের খাঁটি উদাহরণ। ২০০২ সালে যখন ইলন মাস্ক মাত্র ৩০ বছর বয়সে কোম্পানিটি গড়ে তোলেন, তখন তার লক্ষ্য ছিল মানুষকে অন্য গ্রহে পৌঁছে দেওয়া ও মঙ্গলে বসতি স্থাপনের দিকে এগোনো। স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার আগে মাস্ক তার অনলাইন উদ্যোগ জিপ২ ও পরে পেপ্যাল বিক্রি করে যে তহবিল গড়েছিলেন, সেটিই তাকে এই মহাকাশ অভিযানে ত্বরান্বিত করেছিল।

শুরুর দিকে স্পেসএক্স বেশ কিছু রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয় ও আর্থিক কষ্টের মুখে পড়ে। তবু মাস্ক হার মানেননি। ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে কোম্পানিটি নতুনভাবে উত্তরে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং আধুনিক বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে একটি মাইলফলক স্থাপন করে।

বর্তমানে স্পেসএক্সকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা হিসেবে দেখা হয়। আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট নির্মাণের মাধ্যমে তারা মহাকাশ ভ্রমণের খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়েছে এবং নাসার প্রধান মিশনগুলোর অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্পেসএক্সই প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানুষ পাঠানোর সাফল্য অর্জন করে। এছাড়া ‘স্টারলিংক’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে এবং ‘স্টারশিপ’ প্রজেক্টে সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বৃহৎ রকেট তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

এই আইপিও ইলন মাস্কের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে নতুন স্তর যোগ করবে—নিয়ে আসবে নতুন তহবিল ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ। এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ নয়; বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের সক্ষমতা এই পরীক্ষায় পড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পেসএক্সের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানকে বড় পর্যায়ে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।

সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জনসাধারণের বিনিয়োগে স্পেসএক্স কতটা সফল হতে পারে এবং এই সফলতা কি সত্যিই মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ সেক্টরের নজর এখন স্পেসএক্সের দিকে।