০৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

শিকাগো বিমানবন্দরে ইরাকি স্ট্রাইকারকে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

ইরাক দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে সেই কৃতিত্বের বড় অংশ তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেনের কাঁধে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানোর পরেই এই ফুটবলারকে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা তাঁকে আলাদা করে ধরে নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জেরা করেছেন।

ইরাক ফুটবল দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে দল বিমানবন্দরে নামার পরে ৩০ বছর বয়সী আইমেন হুসেনকে আলাদা করা হয়। সেখানে তাঁকে কয়েক দফায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর শেষে হুসেনকে শেষ পর্যন্ত দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু দলীয় কাজকর্মে থাকা অন্য এক সদস্যকে ফিরে পাঠাতে হয়।

দলের অফিসিয়াল আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছিল আরও দীর্ঘ সময়—দশ ঘণ্টারও বেশি।Sources জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষ সালাহকে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তাকে ইরাক ফিরিয়ে পাঠায়।

এই ঘটনার বিষয়ে ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছে রয়টার্সের যোগাযোগের জবাব মেলেনি।

বিশ্বকাপ শুরুতে এই ঘটনা ইরাকি সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন; কেউ কেউ মনে করছেন এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও পরিস্থিতি উত্তেজিত করে তুলে।

তবু উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীরা দলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন। ভোরবেলায় বিমানবন্দরে বড় সংখ্যায় সমর্থক ভিড় করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায় জাতীয় পতাকা হাতে ভক্তরা খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাচ্ছেন, ছবি তুলছেন ও উৎসবমুখর করে তাঁাদের স্বাগত জানিয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে দেশের জায়গা করে নেওয়ার উচ্ছ্বাস হাজারো অনুশীলন ও যে কোনো ভাঙাচোরা মুহূর্তকে আটকে দিয়েছে।

আইরাক ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এ থাকছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। টুর্নামেন্টটি ১১ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা। মাঠে নামার আগে এমন মানসিক চাপ আইমেন হুসেনের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। দলের কাছে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আর সমর্থকদের প্রত্যাশা—উভয়ই উচ্চ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

শিকাগো বিমানবন্দরে ইরাকি স্ট্রাইকারকে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ইরাক দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে সেই কৃতিত্বের বড় অংশ তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেনের কাঁধে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানোর পরেই এই ফুটবলারকে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা তাঁকে আলাদা করে ধরে নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জেরা করেছেন।

ইরাক ফুটবল দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে দল বিমানবন্দরে নামার পরে ৩০ বছর বয়সী আইমেন হুসেনকে আলাদা করা হয়। সেখানে তাঁকে কয়েক দফায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর শেষে হুসেনকে শেষ পর্যন্ত দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু দলীয় কাজকর্মে থাকা অন্য এক সদস্যকে ফিরে পাঠাতে হয়।

দলের অফিসিয়াল আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছিল আরও দীর্ঘ সময়—দশ ঘণ্টারও বেশি।Sources জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষ সালাহকে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তাকে ইরাক ফিরিয়ে পাঠায়।

এই ঘটনার বিষয়ে ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছে রয়টার্সের যোগাযোগের জবাব মেলেনি।

বিশ্বকাপ শুরুতে এই ঘটনা ইরাকি সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন; কেউ কেউ মনে করছেন এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও পরিস্থিতি উত্তেজিত করে তুলে।

তবু উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীরা দলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন। ভোরবেলায় বিমানবন্দরে বড় সংখ্যায় সমর্থক ভিড় করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায় জাতীয় পতাকা হাতে ভক্তরা খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাচ্ছেন, ছবি তুলছেন ও উৎসবমুখর করে তাঁাদের স্বাগত জানিয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে দেশের জায়গা করে নেওয়ার উচ্ছ্বাস হাজারো অনুশীলন ও যে কোনো ভাঙাচোরা মুহূর্তকে আটকে দিয়েছে।

আইরাক ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এ থাকছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। টুর্নামেন্টটি ১১ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা। মাঠে নামার আগে এমন মানসিক চাপ আইমেন হুসেনের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। দলের কাছে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আর সমর্থকদের প্রত্যাশা—উভয়ই উচ্চ।