০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ল

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কারণে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি বা আলোচনা করতে যাওয়া মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের বিষয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দি সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে। রিপোর্টটি বনান যে ইসরায়েল এখন আর কেবল রক্ষণশীল নজরদারি করছে না, বরং বিশেষ কিছু উচ্চপদস্থ আমেরিকান কর্মকর্তাদের ওপর সরাসরি আড়ি পাতার চেষ্টা বাড়িয়েছে।

রিপোর্টে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ আছে — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারক এলব্রিজ এ. কোলবি ও তার একজন প্রধান সহকারী মাইকেল পি. ডিমিনো দ্য ফোর্থ প্রভৃতি। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ও অন্যান্য সামরিক গোয়েন্দি সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হওয়া পাল্টা নজরদারি যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটা ‘উচ্চ’ পর্যায় থেকে ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপোর্টটি ডিফেন্স কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে মার্কিন সামরিক কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের বিভিন্ন নজরদারি চালানোর কৌশল-বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার সময়টি লক্ষ্যযোগ্য—দুই দেশের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করলেও সম্পর্কটি রাজনৈতিকভাবে জটিল; সামরিক সমন্বয় অতীব ঘন। এমনকি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডে কোনো কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তাও Amerikaanse সেনাদের সঙ্গে কাজ করছেন। এর মধ্যেই ইসরায়েলের এই তৎপরতা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি ও শান্তি আলোচনায় আমেরিকার অবস্থান সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ার উদ্দেশ্যেই বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দিরা কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রতিরক্ষা কর্মীদের মুঠোফোনে গোপনে সফটওয়্যার ইনস্টল করার ঘটনাও ঘটিয়েছে—এধরনের ঘটনার পরই ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এই মূল্যায়ন তৈরি করে। এনবিসি নিউজ প্রথম এই রিপোর্ট এবং সমস্যা বাড়ার খবর প্রকাশ করে। পেন্টাগন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, আর হোয়াইট হাউসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও নজরদারির অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, তারা আমেরিকা বা তার কর্মকর্তাদের ওপর কোনো গুপ্তচরবৃত্তি চালায় না।

কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা—যাদের নাম প্রকাশ করা হয় নি—বলেছেন যে এই সতর্কবার্তা মোটেই সম্পূর্ণ অবাক করা নয়। তাদের মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই তার শত্রু ও মিত্র—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহে আগ্রাসী ভূমিকা রেখে আসছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে আমেরিকার অন্যান্য মিত্রদের তুলনায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নজরদারির আশঙ্কাই সবচেয়ে বেশি। কর্মকর্তারা বলেন, শুধুমাত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমন অনুশীলনের মাত্রা ‘উচ্চ’ পর্যায়ে পৌঁছে, যা ইসরায়েলের পর্যায়কে ছুঁতে পারে।

রিপোর্টে সতর্কবার্তা জারি হওয়ায় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও অপারেশনাল তথ্য আদানপ্রদানে খাটাতে ধাক্কা লাগতে পারে—বিশেষত যদি পেন্টাগন সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিংয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এমন পরিস্থিতি জটিলতা বেড়াতে পারে।

একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তারা ইসরায়েল সফরের সময় নিজদের মুঠোফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র সচেতনভাবে নিরাপদে রাখেন; ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী ফোন ব্যবহার, আলাদা কম্পিউটার নেওয়া এবং হোটেল কক্ষে আলোচনা নির্বিঘ্নে না করা—এসবই এখন নিয়মশৃঙ্খলা। কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি, তবে বলেছে এ বিষয়ে তারা সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

সর্বোপরি, দুই দেশের মধ্যকার ঘন সহযোগিতার মধ্যে থেকেও উভয়েরই সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখার দাবি আছে। এমন উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ইসরায়েলে অবস্থিত কিরিয়াট গাত্-এ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সুরক্ষিত তথ্য ও সমন্বয় সংক্রান্ত অনন্য ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কারণে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি বা আলোচনা করতে যাওয়া মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের বিষয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দি সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে। রিপোর্টটি বনান যে ইসরায়েল এখন আর কেবল রক্ষণশীল নজরদারি করছে না, বরং বিশেষ কিছু উচ্চপদস্থ আমেরিকান কর্মকর্তাদের ওপর সরাসরি আড়ি পাতার চেষ্টা বাড়িয়েছে।

রিপোর্টে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ আছে — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারক এলব্রিজ এ. কোলবি ও তার একজন প্রধান সহকারী মাইকেল পি. ডিমিনো দ্য ফোর্থ প্রভৃতি। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ও অন্যান্য সামরিক গোয়েন্দি সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হওয়া পাল্টা নজরদারি যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটা ‘উচ্চ’ পর্যায় থেকে ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপোর্টটি ডিফেন্স কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে মার্কিন সামরিক কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের বিভিন্ন নজরদারি চালানোর কৌশল-বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার সময়টি লক্ষ্যযোগ্য—দুই দেশের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করলেও সম্পর্কটি রাজনৈতিকভাবে জটিল; সামরিক সমন্বয় অতীব ঘন। এমনকি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডে কোনো কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তাও Amerikaanse সেনাদের সঙ্গে কাজ করছেন। এর মধ্যেই ইসরায়েলের এই তৎপরতা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি ও শান্তি আলোচনায় আমেরিকার অবস্থান সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ার উদ্দেশ্যেই বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দিরা কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রতিরক্ষা কর্মীদের মুঠোফোনে গোপনে সফটওয়্যার ইনস্টল করার ঘটনাও ঘটিয়েছে—এধরনের ঘটনার পরই ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এই মূল্যায়ন তৈরি করে। এনবিসি নিউজ প্রথম এই রিপোর্ট এবং সমস্যা বাড়ার খবর প্রকাশ করে। পেন্টাগন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, আর হোয়াইট হাউসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও নজরদারির অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, তারা আমেরিকা বা তার কর্মকর্তাদের ওপর কোনো গুপ্তচরবৃত্তি চালায় না।

কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা—যাদের নাম প্রকাশ করা হয় নি—বলেছেন যে এই সতর্কবার্তা মোটেই সম্পূর্ণ অবাক করা নয়। তাদের মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই তার শত্রু ও মিত্র—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহে আগ্রাসী ভূমিকা রেখে আসছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে আমেরিকার অন্যান্য মিত্রদের তুলনায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নজরদারির আশঙ্কাই সবচেয়ে বেশি। কর্মকর্তারা বলেন, শুধুমাত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমন অনুশীলনের মাত্রা ‘উচ্চ’ পর্যায়ে পৌঁছে, যা ইসরায়েলের পর্যায়কে ছুঁতে পারে।

রিপোর্টে সতর্কবার্তা জারি হওয়ায় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও অপারেশনাল তথ্য আদানপ্রদানে খাটাতে ধাক্কা লাগতে পারে—বিশেষত যদি পেন্টাগন সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিংয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এমন পরিস্থিতি জটিলতা বেড়াতে পারে।

একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তারা ইসরায়েল সফরের সময় নিজদের মুঠোফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র সচেতনভাবে নিরাপদে রাখেন; ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী ফোন ব্যবহার, আলাদা কম্পিউটার নেওয়া এবং হোটেল কক্ষে আলোচনা নির্বিঘ্নে না করা—এসবই এখন নিয়মশৃঙ্খলা। কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি, তবে বলেছে এ বিষয়ে তারা সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

সর্বোপরি, দুই দেশের মধ্যকার ঘন সহযোগিতার মধ্যে থেকেও উভয়েরই সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখার দাবি আছে। এমন উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ইসরায়েলে অবস্থিত কিরিয়াট গাত্-এ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সুরক্ষিত তথ্য ও সমন্বয় সংক্রান্ত অনন্য ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা রয়েছে।