১০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ব্যাংক সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সুশাসন অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন কেবল গণমাধ্যমের তৎপরতার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হবে না — এর জন্য রাজনৈতিক সুশাসন জরুরি। রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনের ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শিরোনামের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যদি রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতি দিয়ে ব্যাংকিং খাতে আদর্শ সুশাসন আশা করা সম্ভব নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা মূলত জাতীয় প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সুশাসনের ত্রুটিরই প্রতিফলন। তবে সেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দক্ষতার বিকল্প নেই।

তিনি একটি সহজ তুলনা তুলে বলেন, ছোটবেলায় আমরা আয়নায় নিজের ছবি দেখতাম — ভালো মানের আয়নায় সঠিক ছবি দেখা যায়, আর মান খারাপ হলে চেহারাই বিকৃত দেখায়। গণমাধ্যম হলো সেই আয়না; একটি রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের কতোটা স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবে, তা নির্ভর করে তারা সেই আয়নাকে কতটা গ্রহণ করে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা ব্যাংকের আমানতকারীদের টার্গেট করে, তারা প্রায়শই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদেরও টার্গেট করে থাকে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ব্যাংকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজারকে এক শক্তিশালী পুঁজির উৎস হিসেবে গঠন করা প্রয়োজন। এতে পুঁজির বহুমুখী প্রবাহ সৃষ্টি হবে এবং ব্যাংকে অযাচিত চাপ কমবে।

ব্যাংকিং কমিশন গঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর থেকে এখন অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে সংস্কার করা অতীব জরুরি। উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন; কিন্তু পরিসংখ্যানই বলে দিতে পারে কারা প্রকৃত পারফর্মার এবং কারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে লিপ্ত। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃত্বপরায়ণ বা প্রভাবশালী হতে পারে না। তিনি সাংবাদিকদের কার্যক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাগজে বা রুমে সাংবাদিকের বসার স্থান—ফার্স্ট ফ্লোর না থার্ড ফ্লোর—এমন বিষয় বড় কথা নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন, অর্থাৎ তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ। ব্যাংক যেখানে তথ্য সংরক্ষণ করে, সেখান পর্যন্ত সাংবাদিকদের পৌঁছাতে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা সভাপতিত্ব করেন এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরে সম্পন্ন হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ব্যাংক সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সুশাসন অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন কেবল গণমাধ্যমের তৎপরতার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হবে না — এর জন্য রাজনৈতিক সুশাসন জরুরি। রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনের ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শিরোনামের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যদি রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতি দিয়ে ব্যাংকিং খাতে আদর্শ সুশাসন আশা করা সম্ভব নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা মূলত জাতীয় প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সুশাসনের ত্রুটিরই প্রতিফলন। তবে সেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দক্ষতার বিকল্প নেই।

তিনি একটি সহজ তুলনা তুলে বলেন, ছোটবেলায় আমরা আয়নায় নিজের ছবি দেখতাম — ভালো মানের আয়নায় সঠিক ছবি দেখা যায়, আর মান খারাপ হলে চেহারাই বিকৃত দেখায়। গণমাধ্যম হলো সেই আয়না; একটি রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের কতোটা স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবে, তা নির্ভর করে তারা সেই আয়নাকে কতটা গ্রহণ করে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা ব্যাংকের আমানতকারীদের টার্গেট করে, তারা প্রায়শই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদেরও টার্গেট করে থাকে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ব্যাংকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজারকে এক শক্তিশালী পুঁজির উৎস হিসেবে গঠন করা প্রয়োজন। এতে পুঁজির বহুমুখী প্রবাহ সৃষ্টি হবে এবং ব্যাংকে অযাচিত চাপ কমবে।

ব্যাংকিং কমিশন গঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর থেকে এখন অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে সংস্কার করা অতীব জরুরি। উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন; কিন্তু পরিসংখ্যানই বলে দিতে পারে কারা প্রকৃত পারফর্মার এবং কারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে লিপ্ত। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃত্বপরায়ণ বা প্রভাবশালী হতে পারে না। তিনি সাংবাদিকদের কার্যক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাগজে বা রুমে সাংবাদিকের বসার স্থান—ফার্স্ট ফ্লোর না থার্ড ফ্লোর—এমন বিষয় বড় কথা নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন, অর্থাৎ তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ। ব্যাংক যেখানে তথ্য সংরক্ষণ করে, সেখান পর্যন্ত সাংবাদিকদের পৌঁছাতে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা সভাপতিত্ব করেন এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরে সম্পন্ন হয়।