০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বিশ্বের রাষ্ট্রহীনদের ৪১ শতাংশ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রহীন মানুষের সংকট দিনেবদিন গভীর হচ্ছে। মোট আনুমানিক ৪৫ লাখ রাষ্ট্রহীনের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ বা প্রায় ১৮ লাখই রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন চালিয়ে নেওয়া নিপীড়ন, সহিংসতা ও বৈষম্যের কারণে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে শরণার্থী হিসেবে সরে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকছেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ভেতরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা অন্যান্য দেশে শরণার্থী হিসেবে ছড়িয়ে আছেন। যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানে তাদের অধিকাংশেরই কোনো স্বীকৃত নাগরিকত্ব নেই।

ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দীর্ঘ‑কালীন সমাধান না পেয়ে ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ ছাড়া বহু রোহিঙ্গা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শরণার্থী জীবনযাপন করছেন — আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী এটিই দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি দশজন শরণার্থীর মধ্যে প্রায় সাতজনই এমন দীর্ঘস্থায়ী সংকটে জীবনযাপন করছেন, এবং বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

প্রতিবেদন আরও指出 করে যে মিয়ানমার এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার ফলে শরণার্থী প্রবাহ থামছে না; শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যগুলো দেখাচ্ছে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা কেবলমাত্র ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে নয়, আশ্রয়দাতা দেশগুলোকে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তারা বলছে দ্রুত ও টেকসই সমাধান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বিশ্বের রাষ্ট্রহীনদের ৪১ শতাংশ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রহীন মানুষের সংকট দিনেবদিন গভীর হচ্ছে। মোট আনুমানিক ৪৫ লাখ রাষ্ট্রহীনের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ বা প্রায় ১৮ লাখই রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন চালিয়ে নেওয়া নিপীড়ন, সহিংসতা ও বৈষম্যের কারণে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে শরণার্থী হিসেবে সরে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকছেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ভেতরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা অন্যান্য দেশে শরণার্থী হিসেবে ছড়িয়ে আছেন। যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানে তাদের অধিকাংশেরই কোনো স্বীকৃত নাগরিকত্ব নেই।

ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দীর্ঘ‑কালীন সমাধান না পেয়ে ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ ছাড়া বহু রোহিঙ্গা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শরণার্থী জীবনযাপন করছেন — আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী এটিই দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি দশজন শরণার্থীর মধ্যে প্রায় সাতজনই এমন দীর্ঘস্থায়ী সংকটে জীবনযাপন করছেন, এবং বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

প্রতিবেদন আরও指出 করে যে মিয়ানমার এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার ফলে শরণার্থী প্রবাহ থামছে না; শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যগুলো দেখাচ্ছে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা কেবলমাত্র ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে নয়, আশ্রয়দাতা দেশগুলোকে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তারা বলছে দ্রুত ও টেকসই সমাধান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে।