০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জাতিসংঘ: মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ছয় মাসে অন্তত ৭০২ বেসামরিককে হত্যা করেছে

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বলছে, গত ছয় মাসে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীকে (জান্তা) নিয়েই অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির যাচাইকৃত দূতভিত্তিক এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টে সামরিক বাহিনী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত এই হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সময়সীমায় মোট ৭০২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণির মানুষদের সংখ্যাও অনেক—এর মধ্যে ২২৪ নারী এবং ১৫৩ শিশু রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তির বেশির ভাগই সাধারণ সচল জীবনযাপন বা বাসস্থান থেকে আঘাত পেয়ে মারা গেছেন, যা সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

জাতিসংঘ জানায়, সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বিমান হামলা। ফাইটার জেট, ড্রোন, প্যারামোটর ও গাইরোকপ্টার ব্যবহার করে পরিচালিত এসব আক্রমণে অন্তত ৫০৫ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর আনুমানিক ৫৭ শতাংশের বেশি। এসব বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৭৫ জন নারী ও ১১২ জন শিশু রয়েছেন।

এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই ৭০২ জন নিহতের সম্পূর্ণ দায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর বর্তায়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই প্রতিবেদন কেবল জাতিসংঘের কাছে থাকা নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; এর অর্থ এই নয় যে অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত বেসামরিক নেই বা মোট হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এইই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পটভূমি হিসেবে জানান, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির সরকারের উৎখাতের পর থেকেই দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতা চলছে। চলতি বছরের মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধে একটি সংক্ষিপ্ত ও সীমাবদ্ধ নির্বাচন আয়োজন করা হলেও, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই পুরো সময়ে সাধারণ জনগণের ওপর জবরদস্তি ও নির্যাতন অব্যাহত ছিল।

মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বেসামরিক লোকজনের দুর্দশার এই চিত্র মিয়ানমারের দীর্ঘমেয়াদি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ ও নিরীক্ষার দাবি বাড়িয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জাতিসংঘ: মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ছয় মাসে অন্তত ৭০২ বেসামরিককে হত্যা করেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বলছে, গত ছয় মাসে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীকে (জান্তা) নিয়েই অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির যাচাইকৃত দূতভিত্তিক এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টে সামরিক বাহিনী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত এই হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সময়সীমায় মোট ৭০২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণির মানুষদের সংখ্যাও অনেক—এর মধ্যে ২২৪ নারী এবং ১৫৩ শিশু রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তির বেশির ভাগই সাধারণ সচল জীবনযাপন বা বাসস্থান থেকে আঘাত পেয়ে মারা গেছেন, যা সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

জাতিসংঘ জানায়, সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বিমান হামলা। ফাইটার জেট, ড্রোন, প্যারামোটর ও গাইরোকপ্টার ব্যবহার করে পরিচালিত এসব আক্রমণে অন্তত ৫০৫ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর আনুমানিক ৫৭ শতাংশের বেশি। এসব বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৭৫ জন নারী ও ১১২ জন শিশু রয়েছেন।

এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই ৭০২ জন নিহতের সম্পূর্ণ দায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর বর্তায়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই প্রতিবেদন কেবল জাতিসংঘের কাছে থাকা নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; এর অর্থ এই নয় যে অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত বেসামরিক নেই বা মোট হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এইই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পটভূমি হিসেবে জানান, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির সরকারের উৎখাতের পর থেকেই দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতা চলছে। চলতি বছরের মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধে একটি সংক্ষিপ্ত ও সীমাবদ্ধ নির্বাচন আয়োজন করা হলেও, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই পুরো সময়ে সাধারণ জনগণের ওপর জবরদস্তি ও নির্যাতন অব্যাহত ছিল।

মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বেসামরিক লোকজনের দুর্দশার এই চিত্র মিয়ানমারের দীর্ঘমেয়াদি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ ও নিরীক্ষার দাবি বাড়িয়েছে।