০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আইসিসিকে বিসিবির তহবিল স্থগিতের অনুরোধ জানালেন আমিনুল (বুলবুল)

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে বোর্ডের তহবিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে তিনি আইসিসির কাছে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি জমা দিয়েছেন যেখানে বর্তমান বিসিবি পরিচালনার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

চিঠিতে আমিনুল দাবি করেছেন যে বর্তমান প্রশাসনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আইসিসিকে বিসিবিকে সকল ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন। জিও সুপারের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিষয়টি আইসিসি ইতোমধ্যেই বিসিবিকে জানায় এবং বিসিবি তাদের আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে। আমিনুলের দেয়া চিঠি ও দাবিসহ বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এই ঘটনার পটভূমি পরিষ্কার করতে গেলে দেখা যায়, গত ৭ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পূর্ববর্তী বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয় যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। পরে ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিম ইকবাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন।

আদালত ও সরকারি সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আমিনুল ও বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, বিসিবির দায়িত্বগ্রহণের আগে আমিনুল আইসিসিতে ‘ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে বাংলাদেশে ফিরে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আগ্রহ দেখান এবং পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তদন্তের ফল ও এনএসসি কর্তৃক কিছু পদ বাতিলের পর আমিনুলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে তাঁর কার্যকাল হঠাৎ শেষ হয়। বর্তমানে আদালত, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও আইসিসি—এই সব স্তরে বিষয়টি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বিবেচনায় নিয়ে উভয়পক্ষের আইনি অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা চলছে।

ঘটনাটি ক্রিকেট মহল ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে বিসিবির আর্থিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা কিরূপ হবে—এসবই এখন মুখ্য প্রশ্ন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আইসিসিকে বিসিবির তহবিল স্থগিতের অনুরোধ জানালেন আমিনুল (বুলবুল)

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে বোর্ডের তহবিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে তিনি আইসিসির কাছে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি জমা দিয়েছেন যেখানে বর্তমান বিসিবি পরিচালনার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

চিঠিতে আমিনুল দাবি করেছেন যে বর্তমান প্রশাসনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আইসিসিকে বিসিবিকে সকল ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন। জিও সুপারের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিষয়টি আইসিসি ইতোমধ্যেই বিসিবিকে জানায় এবং বিসিবি তাদের আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে। আমিনুলের দেয়া চিঠি ও দাবিসহ বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এই ঘটনার পটভূমি পরিষ্কার করতে গেলে দেখা যায়, গত ৭ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পূর্ববর্তী বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয় যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। পরে ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিম ইকবাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন।

আদালত ও সরকারি সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আমিনুল ও বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, বিসিবির দায়িত্বগ্রহণের আগে আমিনুল আইসিসিতে ‘ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে বাংলাদেশে ফিরে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আগ্রহ দেখান এবং পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তদন্তের ফল ও এনএসসি কর্তৃক কিছু পদ বাতিলের পর আমিনুলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে তাঁর কার্যকাল হঠাৎ শেষ হয়। বর্তমানে আদালত, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও আইসিসি—এই সব স্তরে বিষয়টি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বিবেচনায় নিয়ে উভয়পক্ষের আইনি অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা চলছে।

ঘটনাটি ক্রিকেট মহল ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে বিসিবির আর্থিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা কিরূপ হবে—এসবই এখন মুখ্য প্রশ্ন।