০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বেইজিংয়ে ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারে হালকা বিমান বিধ্বস্ত, শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট সর্বোচ্চ বহুতল ভবন ‘সিটিক টাওয়ার’ বা ‘চায়না জুন’-এর বাইরে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো শহরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভেঙে পড়া ভবনের অংশ ও ধোঁয়ায় ভরা ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ অনেকে দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিত্র নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, টাওয়ারের উপরের অংশে বিমানটি আঘাত হানার পর সেখানে থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পরছে এবং ধোঁয়া-ধুলো মিশে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানের লেজ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং নিচের রাস্তা ও গাড়িতে ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ট্যাক্সিক্যাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ভবনটিকে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খালি করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা পরিদল দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু করে। ভবনটির আশপাশ ও ঘটনাস্থল থেকে মানুষদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা প্রাথমিক খোঁজখবর চালাচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দাপ্তরিকভাবে জানায়নি। বেইজিং পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো জানিয়েছে, তারা ঘটনার গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, বিধ্বস্ত বিমানটি চীনে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ-৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। এটি স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানায় ছিল, যা সাধারণত পাইলট প্রশিক্ষণ, বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও বায়ুমাধ্যম থেকে চিত্রগ্রহণের সেবা দিয়ে থাকে।

অনলাইনে প্রকাশিত ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি তার স্বাভাবিক উড্ডয়নপথ থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিচ্যুত হয়েছিল। ঘটনার কারণাঁর বিষয়ে প্রাথমিক ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ; তদন্ত চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ের আকাশসীমায় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে গত ১ মে থেকে সার্বিকভাবে ড্রোন ও ছোট উড়োজাহাজ পরিচালনার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছে, সেই নিয়ন্ত্রণ ও বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তারা খতিয়ে দেখছে।

এ ঘটনায় শহরের অনেক বাসিন্দা আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। উদ্ধারকর্মীরা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছেন এবং কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে জানাবেন বলেই আশা করা যাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বেইজিংয়ে ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারে হালকা বিমান বিধ্বস্ত, শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট সর্বোচ্চ বহুতল ভবন ‘সিটিক টাওয়ার’ বা ‘চায়না জুন’-এর বাইরে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো শহরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভেঙে পড়া ভবনের অংশ ও ধোঁয়ায় ভরা ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ অনেকে দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিত্র নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, টাওয়ারের উপরের অংশে বিমানটি আঘাত হানার পর সেখানে থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পরছে এবং ধোঁয়া-ধুলো মিশে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানের লেজ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং নিচের রাস্তা ও গাড়িতে ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ট্যাক্সিক্যাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ভবনটিকে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খালি করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা পরিদল দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু করে। ভবনটির আশপাশ ও ঘটনাস্থল থেকে মানুষদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা প্রাথমিক খোঁজখবর চালাচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দাপ্তরিকভাবে জানায়নি। বেইজিং পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো জানিয়েছে, তারা ঘটনার গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, বিধ্বস্ত বিমানটি চীনে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ-৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। এটি স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানায় ছিল, যা সাধারণত পাইলট প্রশিক্ষণ, বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও বায়ুমাধ্যম থেকে চিত্রগ্রহণের সেবা দিয়ে থাকে।

অনলাইনে প্রকাশিত ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি তার স্বাভাবিক উড্ডয়নপথ থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিচ্যুত হয়েছিল। ঘটনার কারণাঁর বিষয়ে প্রাথমিক ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ; তদন্ত চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ের আকাশসীমায় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে গত ১ মে থেকে সার্বিকভাবে ড্রোন ও ছোট উড়োজাহাজ পরিচালনার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছে, সেই নিয়ন্ত্রণ ও বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তারা খতিয়ে দেখছে।

এ ঘটনায় শহরের অনেক বাসিন্দা আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। উদ্ধারকর্মীরা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছেন এবং কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে জানাবেন বলেই আশা করা যাচ্ছে।