০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মেসির বিপক্ষে ইতিহাস গড়তে নামছে কেপ ভার্দে

গ্রুপ পরের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র হওয়ার পর মাঠেই ফোনের স্ক্রিনে চোখ আটকে ছিল কেপ ভার্দের ফুটবলারদের। উরুগুয়ে ও স্পেনের ম্যাচের ফল নিশ্চিত হতেই দল উৎসবমুখর হয়ে উঠল — তিন ম্যাচে তিন ড্র করেই ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠে গেছে তারা। ষ্টেডিয়ামের কোণ থেকে শুরু হওয়া উল্লাস ছড়িয়ে পড়ল খেলোয়াড়, স্টাফ আর সমর্থকদের মাঝে; কারণ এখন তাদের সামনে দাঁড়াচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলার আগে কোনো ভয়ের বদলে তরুণ এই দলটা ইতিহাস গড়ার রোমাঞ্চ নিয়ে মাতোয়ারা।

গ্রুপ ড্র হলে সবাই স্পেন ও উরুগুয়েকে নকআউটের প্রধান দাবিদার ভেবে নিয়েছিল; কেউ কেউ সৌদি আরবকেও সম্ভাব্য জানায়। কিন্তু কেপ ভার্দের নাম যে কোনো গাণিতিক সমীকরণে থাকবে—সে কথা ভাবতেও কজনই বা চিনতেন? প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে ০-০ গোল করে আটকে দিয়ে তারা সবাইকে চমক দিয়েছে, দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের সাথে ২-২ ড্র করে নিজের মূল্যমান দেখিয়েছে, আর সর্বশেষ সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে অপরাজিত থেকেই নকআউটের টিকিট নিশ্চ করতে পেরেছে আফ্রিকার ছোট্ট এই দেশ।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের এই সাফল্য অনেক রূপকথাকেই হার মানায়। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তাদের জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৯৩ হাজার, জাতীয় স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাও মাত্র ১৫ হাজার—তার মধ্য থেকেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশের মর্যাদা তাদের। আর নকআউট পর্বে পৌঁছে তারা এখন ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশগুলোর শীর্ষভাগে আবদ্ধ হয়ে গেল। আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ঘানা এবং ইউক্রেন গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার নজির দেখিয়েছিল; ২০২৬-এ সেই তালিকায় নাম উঠল কেপ ভার্দের।

এই স্বপ্নযাত্রার সবচেয়ে বড় নায়ক হলেন তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভজিনিয়া। স্পেনের বিরুদ্ধে নায়কীয় পারফরম্যান্স দেখানো ভজিনিয়া সৌদি আরব戦েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলের দুর্গকে আটকে রেখেছিলেন—শেষ ম্যাচে তিনটি নিশ্চিত গোল রোধ করে তিনি দলের জয়ের আশাকে টিকিয়ে রেখেছেন।

তবে সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কড়া পরীক্ষা। আগামী শনিবার, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়, যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। ইন্টার মায়ামিতে খেলা মেসির কারণে মায়ামি এখন মেসির শহর হিসেবেই পরিচিত—সেখানে মেসির জাদু আটকানো কেপ ভার্দের জন্য সহজ হবে না; কিন্তু এই দল ডেভিড বনাম গোলিয়াথের সেই লড়াইয়েও আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত।

অন্যদিকে কেপ ভার্দের উত্থানের রাতে হতাশার সাগরে ডুবেছে উরুগুয়ে। দুই ড্র ও এক হারের ফলে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে আগের রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে এশিয়ার প্রভাবশালী দল সৌদি আরবকেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে—পর্দাপণের পর তাদের গ্রুপ পর্ব থেকে হঠনের ধারাবাহিকতাও চলতে থাকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডের টিকিট কেটেছে স্পেন; তাদের প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

ফুটবল বিশ্বের সব চোখ এখন মায়ামির দিকে, যেখানে কেপ ভার্দে মেসির আর্জেন্টিনাকে সামনা করে নিজেদের ইতিহাস এক ধাক্কায় লিখে ফেলতে চাইছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

মেসির বিপক্ষে ইতিহাস গড়তে নামছে কেপ ভার্দে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

গ্রুপ পরের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র হওয়ার পর মাঠেই ফোনের স্ক্রিনে চোখ আটকে ছিল কেপ ভার্দের ফুটবলারদের। উরুগুয়ে ও স্পেনের ম্যাচের ফল নিশ্চিত হতেই দল উৎসবমুখর হয়ে উঠল — তিন ম্যাচে তিন ড্র করেই ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠে গেছে তারা। ষ্টেডিয়ামের কোণ থেকে শুরু হওয়া উল্লাস ছড়িয়ে পড়ল খেলোয়াড়, স্টাফ আর সমর্থকদের মাঝে; কারণ এখন তাদের সামনে দাঁড়াচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলার আগে কোনো ভয়ের বদলে তরুণ এই দলটা ইতিহাস গড়ার রোমাঞ্চ নিয়ে মাতোয়ারা।

গ্রুপ ড্র হলে সবাই স্পেন ও উরুগুয়েকে নকআউটের প্রধান দাবিদার ভেবে নিয়েছিল; কেউ কেউ সৌদি আরবকেও সম্ভাব্য জানায়। কিন্তু কেপ ভার্দের নাম যে কোনো গাণিতিক সমীকরণে থাকবে—সে কথা ভাবতেও কজনই বা চিনতেন? প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে ০-০ গোল করে আটকে দিয়ে তারা সবাইকে চমক দিয়েছে, দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের সাথে ২-২ ড্র করে নিজের মূল্যমান দেখিয়েছে, আর সর্বশেষ সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে অপরাজিত থেকেই নকআউটের টিকিট নিশ্চ করতে পেরেছে আফ্রিকার ছোট্ট এই দেশ।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের এই সাফল্য অনেক রূপকথাকেই হার মানায়। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তাদের জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৯৩ হাজার, জাতীয় স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাও মাত্র ১৫ হাজার—তার মধ্য থেকেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশের মর্যাদা তাদের। আর নকআউট পর্বে পৌঁছে তারা এখন ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশগুলোর শীর্ষভাগে আবদ্ধ হয়ে গেল। আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ঘানা এবং ইউক্রেন গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার নজির দেখিয়েছিল; ২০২৬-এ সেই তালিকায় নাম উঠল কেপ ভার্দের।

এই স্বপ্নযাত্রার সবচেয়ে বড় নায়ক হলেন তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভজিনিয়া। স্পেনের বিরুদ্ধে নায়কীয় পারফরম্যান্স দেখানো ভজিনিয়া সৌদি আরব戦েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলের দুর্গকে আটকে রেখেছিলেন—শেষ ম্যাচে তিনটি নিশ্চিত গোল রোধ করে তিনি দলের জয়ের আশাকে টিকিয়ে রেখেছেন।

তবে সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কড়া পরীক্ষা। আগামী শনিবার, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়, যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। ইন্টার মায়ামিতে খেলা মেসির কারণে মায়ামি এখন মেসির শহর হিসেবেই পরিচিত—সেখানে মেসির জাদু আটকানো কেপ ভার্দের জন্য সহজ হবে না; কিন্তু এই দল ডেভিড বনাম গোলিয়াথের সেই লড়াইয়েও আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত।

অন্যদিকে কেপ ভার্দের উত্থানের রাতে হতাশার সাগরে ডুবেছে উরুগুয়ে। দুই ড্র ও এক হারের ফলে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে আগের রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে এশিয়ার প্রভাবশালী দল সৌদি আরবকেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে—পর্দাপণের পর তাদের গ্রুপ পর্ব থেকে হঠনের ধারাবাহিকতাও চলতে থাকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডের টিকিট কেটেছে স্পেন; তাদের প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

ফুটবল বিশ্বের সব চোখ এখন মায়ামির দিকে, যেখানে কেপ ভার্দে মেসির আর্জেন্টিনাকে সামনা করে নিজেদের ইতিহাস এক ধাক্কায় লিখে ফেলতে চাইছে।