০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলো কোনো ঘাটতি রাখার 없이 কার্যকর করা হচ্ছে এবং নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে। তিনি এই মন্তব্যগুলো করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রাষ্ট্রচিন্তার পরিসর দেখিয়েছিলেন—একটি এমন ভূখণ্ড যেখানে ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবারই আশ্রয়—তার নাম বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাঙালি’’ শব্দ বললে প্রায়শই নানা ভৌগলিক উপশ্রেণির বিভাজন আসতে পারে, কিন্তু ‘‘বাংলাদেশি’’ বললেই এক সঙ্গে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে গর্ব জাগে—আমাদের আলাদা পতাকা, মানচিত্র, জাতীয় সংগীত ও ভাষা আছে এবং বিপদের দিন আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই।

জুলাই আন্দোলনের উদাহরণ টেনে রিজভী স্মরণ করান যে সেসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসাথে ছিল; ইসলামী, হিন্দু ও খ্রিস্টান—প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তৎসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আজও সারাদেশ থেকে নানা সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এই অনুষ্ঠানে آئے—সাঁওতাল, রাজবংশীসহ সমতলের জনগোষ্ঠী এবং পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও অনেকে এসেছেন—সবাই এক কাতারে, এক ব্যানারের নিচে মিলিত হয়েছেন।

রিজভী দৃঢ়ভাবে বলেন যে দেশের মানুষে যা ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা কেউ ভাঙতে পারবে না। স্বাধীন সত্তা রক্ষায় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, একসঙ্গে লড়াই করবে ও যেকোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে।

অনুষ্ঠানের সময় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল; সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলেও রিজভী জানান এবং সেই অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান।

সরকারি নীতি এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে রিজভী আরও বলেন, যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকার নিচে, তাদের আয়কর থেকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। মুদির দোকানে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার মুল ভিত্তি হলো জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া।

শিক্ষা খাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, এ বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কেন এত শিক্ষার্থী পড়াশোনায় থেমে যাচ্ছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হলো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে তার ব্যবস্থা নেওয়া।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: রিজভী

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলো কোনো ঘাটতি রাখার 없이 কার্যকর করা হচ্ছে এবং নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে। তিনি এই মন্তব্যগুলো করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রাষ্ট্রচিন্তার পরিসর দেখিয়েছিলেন—একটি এমন ভূখণ্ড যেখানে ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবারই আশ্রয়—তার নাম বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাঙালি’’ শব্দ বললে প্রায়শই নানা ভৌগলিক উপশ্রেণির বিভাজন আসতে পারে, কিন্তু ‘‘বাংলাদেশি’’ বললেই এক সঙ্গে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে গর্ব জাগে—আমাদের আলাদা পতাকা, মানচিত্র, জাতীয় সংগীত ও ভাষা আছে এবং বিপদের দিন আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই।

জুলাই আন্দোলনের উদাহরণ টেনে রিজভী স্মরণ করান যে সেসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসাথে ছিল; ইসলামী, হিন্দু ও খ্রিস্টান—প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তৎসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আজও সারাদেশ থেকে নানা সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এই অনুষ্ঠানে آئے—সাঁওতাল, রাজবংশীসহ সমতলের জনগোষ্ঠী এবং পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও অনেকে এসেছেন—সবাই এক কাতারে, এক ব্যানারের নিচে মিলিত হয়েছেন।

রিজভী দৃঢ়ভাবে বলেন যে দেশের মানুষে যা ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা কেউ ভাঙতে পারবে না। স্বাধীন সত্তা রক্ষায় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, একসঙ্গে লড়াই করবে ও যেকোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে।

অনুষ্ঠানের সময় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল; সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলেও রিজভী জানান এবং সেই অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান।

সরকারি নীতি এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে রিজভী আরও বলেন, যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকার নিচে, তাদের আয়কর থেকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। মুদির দোকানে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার মুল ভিত্তি হলো জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া।

শিক্ষা খাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, এ বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কেন এত শিক্ষার্থী পড়াশোনায় থেমে যাচ্ছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হলো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে তার ব্যবস্থা নেওয়া।