১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ব্যাংককের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন নিহত, বহু আহত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬০-এরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন; তাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা বিবিসি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি গাড়িচালক ওই পানশালায় আগুন জ্বলতে দেখেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তিনি পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গাড়ি থেকে নেমে তিনি বারের একটি জানালা ভেঙে দুজনকে বের করে আনতে সক্ষম হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুনটি ঠিক স্টেজের কাছে থেকে শুরু হয় এবং খুব দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা অনেকেই বাঁচার জন্য দৌড়াতে থাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। দমকলের কাজ করা কর্মকর্তারা এসে পৌঁছালে মূল দরজায় আগুন জ্বলছিল এবং ভেতরের ধোঁয়া এতটাই বিষাক্ত ছিল যে অনেকেই বাইরে বের হতে না পেরে ভবনের পেছনে উঠে টয়লেটের ভেতর আশ্রয় নেন—সেখানেই বেশিরভাগ মরদেহ পাওয়া গেছে।

দমকলের ওই কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে তখন পর্যন্ত ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়। দমকল বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অধিকাংশ নিহতের কারণ বিষাক্ত ধোঁয়ার শ্বাসরোধ; তবে এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, আগুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য তৎক্ষণাত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় সেখানে পারফর্ম করছিলেন এক গায়ক, যিনি জানিয়েছিলেন হঠাৎ করে কাট-আউট সুইচে আগুন ধরে যায় এবং তারপর বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়—তারপর সবকিছু চোখের পলকে ঘটে যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুনটি ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামের পানশালার কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়া হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দগ্ধ আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে কাকা-ছাই হয়ে গেছে এবং ছাদের কিছু অংশই ভেঙে পড়েছে। বাইরের সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহাবশেষের ব্যাগ এবং সিসিটিভি ও জরুরি কর্মীদের কার্যক্রমের চিত্র দেখা গেছে।

থাইল্যান্ডে নাইটক্লাব ও পানশালায় আগুন লাগার যে ইতিহাস আছে, তা নতুন নয়—চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি বার অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালের এক বড় আগুনে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে প্রায় ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। আগে থেকেই সরকার অগ্নিনির্বাপণ ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ম কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে অনেক স্থানে তেমন ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ব্যাংককের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন নিহত, বহু আহত

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬০-এরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন; তাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা বিবিসি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি গাড়িচালক ওই পানশালায় আগুন জ্বলতে দেখেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তিনি পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গাড়ি থেকে নেমে তিনি বারের একটি জানালা ভেঙে দুজনকে বের করে আনতে সক্ষম হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুনটি ঠিক স্টেজের কাছে থেকে শুরু হয় এবং খুব দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা অনেকেই বাঁচার জন্য দৌড়াতে থাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। দমকলের কাজ করা কর্মকর্তারা এসে পৌঁছালে মূল দরজায় আগুন জ্বলছিল এবং ভেতরের ধোঁয়া এতটাই বিষাক্ত ছিল যে অনেকেই বাইরে বের হতে না পেরে ভবনের পেছনে উঠে টয়লেটের ভেতর আশ্রয় নেন—সেখানেই বেশিরভাগ মরদেহ পাওয়া গেছে।

দমকলের ওই কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে তখন পর্যন্ত ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়। দমকল বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অধিকাংশ নিহতের কারণ বিষাক্ত ধোঁয়ার শ্বাসরোধ; তবে এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, আগুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য তৎক্ষণাত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় সেখানে পারফর্ম করছিলেন এক গায়ক, যিনি জানিয়েছিলেন হঠাৎ করে কাট-আউট সুইচে আগুন ধরে যায় এবং তারপর বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়—তারপর সবকিছু চোখের পলকে ঘটে যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুনটি ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামের পানশালার কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়া হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দগ্ধ আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে কাকা-ছাই হয়ে গেছে এবং ছাদের কিছু অংশই ভেঙে পড়েছে। বাইরের সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহাবশেষের ব্যাগ এবং সিসিটিভি ও জরুরি কর্মীদের কার্যক্রমের চিত্র দেখা গেছে।

থাইল্যান্ডে নাইটক্লাব ও পানশালায় আগুন লাগার যে ইতিহাস আছে, তা নতুন নয়—চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি বার অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালের এক বড় আগুনে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে প্রায় ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। আগে থেকেই সরকার অগ্নিনির্বাপণ ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ম কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে অনেক স্থানে তেমন ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।