০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করার দাবি জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যে ড. তিতুমীর ২০৩০ এজেন্ডা ও দোহা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই দুটো বৈশ্বিক কাঠামো এলডিসি দেশগুলোর স্থায়ী উন্নয়নে পথ দেখাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে এসডিজি অর্জনের গতি প্রত্যাশিত পথে নেই এবং তা দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য, বিশেষত ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ, ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে—এমন উদ্বেগও তিনি ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে এই দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এখন অভিন্ন প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণকাল বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, যা তিনি স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার আঁকড়ে ধরার জন্য কৌশগতভাবে প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

এলডিসিগুলোর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের ওপর জোর দেন। মূলত তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, স্বল্পশর্তে ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় এলডিসি দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষতি ও ক্ষতির (‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’) মোকাবিলায় দ্রুত তহবিল পুনর্গঠন এবং অভিযোজন-সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর সুরক্ষাবাদী নীতির বদলে এলডিসিদের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার আহ্বান জানান। প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদী পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিলে এলডিসিগুলো তাদের উত্তরণ প্রক্রিয়া আরও স্থিতিশীলভাবে এগোতে পারবে।

বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করা বিশ্ববাসীর সংহতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার একটি পরীক্ষাও বটে। তাই রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে তিনি বলেন, এলডিসি গ্রুপ এই লক্ষ্য অর্জনে সমস্ত অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করার দাবি জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যে ড. তিতুমীর ২০৩০ এজেন্ডা ও দোহা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই দুটো বৈশ্বিক কাঠামো এলডিসি দেশগুলোর স্থায়ী উন্নয়নে পথ দেখাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে এসডিজি অর্জনের গতি প্রত্যাশিত পথে নেই এবং তা দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য, বিশেষত ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ, ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে—এমন উদ্বেগও তিনি ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে এই দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এখন অভিন্ন প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণকাল বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, যা তিনি স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার আঁকড়ে ধরার জন্য কৌশগতভাবে প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

এলডিসিগুলোর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের ওপর জোর দেন। মূলত তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, স্বল্পশর্তে ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় এলডিসি দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষতি ও ক্ষতির (‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’) মোকাবিলায় দ্রুত তহবিল পুনর্গঠন এবং অভিযোজন-সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর সুরক্ষাবাদী নীতির বদলে এলডিসিদের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার আহ্বান জানান। প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদী পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিলে এলডিসিগুলো তাদের উত্তরণ প্রক্রিয়া আরও স্থিতিশীলভাবে এগোতে পারবে।

বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করা বিশ্ববাসীর সংহতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার একটি পরীক্ষাও বটে। তাই রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে তিনি বলেন, এলডিসি গ্রুপ এই লক্ষ্য অর্জনে সমস্ত অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।