০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার

জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার পর মিঠামইন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম খোকা বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন (খোকা)কে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার ও সব পদ ও সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগরের স্বাক্ষরিত শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

ঘটনা থেকে একটি সপ্তাহ আগে—১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজের বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে একজন সন্দেহভাজনকে চাপাতিসহ আটক করে পুলিশকে দিয়েছে; পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তসূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিনজন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগেই মিঠামইনে এসে অবস্থান নেন এবং জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে একটি বাড়িতে অতিথি হিসেবে ছিলেন। ওই বাড়ির মালিক বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকার বড় ভাই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, হত্যায় জড়িত কয়েকজনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া হয়েছিল। তারা দাবি করেন, মোকাররম খোকাকে গ্রেপ্তার করলে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার পর থেকে খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিঠামইন থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম করা তিনজন হলেন:বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়ার মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম (শাকিল) (২৭)।

পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে স্থানীয়রা মো. হেলালকে আটক করে; পরে অভিযান করে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)কেও গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ (বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য) গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, প্রত্যেক আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল, শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞ আদালতীয় প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। একই সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদাতাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত এখনো বহাল আছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার পর মিঠামইন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম খোকা বহিষ্কার

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন (খোকা)কে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার ও সব পদ ও সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগরের স্বাক্ষরিত শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

ঘটনা থেকে একটি সপ্তাহ আগে—১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজের বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে একজন সন্দেহভাজনকে চাপাতিসহ আটক করে পুলিশকে দিয়েছে; পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তসূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিনজন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগেই মিঠামইনে এসে অবস্থান নেন এবং জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে একটি বাড়িতে অতিথি হিসেবে ছিলেন। ওই বাড়ির মালিক বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকার বড় ভাই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, হত্যায় জড়িত কয়েকজনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া হয়েছিল। তারা দাবি করেন, মোকাররম খোকাকে গ্রেপ্তার করলে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার পর থেকে খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিঠামইন থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম করা তিনজন হলেন:বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়ার মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম (শাকিল) (২৭)।

পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে স্থানীয়রা মো. হেলালকে আটক করে; পরে অভিযান করে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)কেও গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ (বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য) গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, প্রত্যেক আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল, শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞ আদালতীয় প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। একই সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদাতাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত এখনো বহাল আছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।