০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে একসঙ্গে ধারন করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।

তিনি эти কথা বলেন বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জবি শাখা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও কেবল ধর্মকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো ইতিহাসধর্মী ঘটনা সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা, স্বাধীনতার মনোবল ও নেতৃত্ব মনে রাখার মতো বিষয়। স্বাধীনতার পরও কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পরিচয়গত সংকট তৈরি হয়েছিল। এই বাস্তবতা থেকেই শহীদ জিয়া নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যোগ করেন মন্ত্রী।

স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে কোনো চাকমা, মারমা বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের পরিচয়সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা থাকার কথা নয়। কোনো একটি সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠার নামে অন্য সংস্কৃতিকে অবহেলা করা যাবে না। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’—এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় এক একটি অভিন্ন জাতীয় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বৈদেশিক নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্ব গড়ব বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ কোনো বিকল্প ঠিকানা খুঁজবে না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দর্শন থেকে বিচ্যুত যে কোনো চিন্তা জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করতে পারে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক পথে পরিচালিত করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। ইউট্যাব জবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে একসঙ্গে ধারন করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।

তিনি эти কথা বলেন বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জবি শাখা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও কেবল ধর্মকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো ইতিহাসধর্মী ঘটনা সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা, স্বাধীনতার মনোবল ও নেতৃত্ব মনে রাখার মতো বিষয়। স্বাধীনতার পরও কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পরিচয়গত সংকট তৈরি হয়েছিল। এই বাস্তবতা থেকেই শহীদ জিয়া নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যোগ করেন মন্ত্রী।

স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে কোনো চাকমা, মারমা বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের পরিচয়সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা থাকার কথা নয়। কোনো একটি সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠার নামে অন্য সংস্কৃতিকে অবহেলা করা যাবে না। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’—এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় এক একটি অভিন্ন জাতীয় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বৈদেশিক নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্ব গড়ব বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ কোনো বিকল্প ঠিকানা খুঁজবে না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দর্শন থেকে বিচ্যুত যে কোনো চিন্তা জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করতে পারে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক পথে পরিচালিত করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। ইউট্যাব জবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।