বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেই আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। এই পরীক্ষায় মোট ৬,১৬৫ জন প্রার্থী লিখিতভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষার্থীরা কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও টেলিটকের এসএমএস পরিষেবার মাধ্যমে বিস্তারিত ফলাফল দেখতে পারবেন। পিএসসি পূর্বঘোষিত তারিখ ছিল ৩০ জুলাই, কিন্তু এক সপ্তাহ আগেই ফল প্রকাশ করে অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে কমিশন।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) প্রথমে ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা এক দিন পিছিয়ে ১১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। এই বারের ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট চূড়ান্ত নিয়োগ হবে ২,১৫০ জন। এর মধ্যে ক্যাডার পদের সংখ্যা রয়েছে ১,৭৫৫টি। ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে—এখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে; প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন পদ নির্ধারিত আছে।
যদিও পিএসসি পরীক্ষার গ্রহণ ও ফল প্রকাশে গতি বাড়িয়েছে, তবুও চূড়ান্ত নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা এখনো সমস্যার মূল। কমিশন চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠালেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধীরগতির কারণে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে পড়ছে। তথ্য অনুযায়ী পূর্ববর্তী ৪৫তম, ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশেরও প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও ভেরিফিকেশন শেষ না হওয়ায় অনেক উত্তীর্ণ প্রার্থী এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি।
এই শর্তে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে ৫০তম বিসিএসের লিখিত ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে পিএসসির ফল প্রকাশে গতি বাড়লেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেরিফিকেশন ও পরীক্ষা প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়োগপ্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। এর ফলে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ না হওয়া ছাড়াও উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
পরীক্ষার্থী ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, দ্রুত ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভরাট কর্মসংস্থান দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং চাকরিপ্রার্থীদের অনিশ্চয়তা কমবে। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে দাবি করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























