০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় অতিসংকট চরবাসীর ভোগান্তি বেড়ে গেল

কুড়িগ্রাম জেলার বৃহৎ অংশ রয়েছে চর এলাকা দ্বারা আচ্ছাদিত। এই চরাঞ্চলগুলো প্রায়ই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হন, ফলে স্বাস্থ্যের দিক থেকে এই এলাকার লোকজন ক্রমশই দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। চরবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী পার হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগিয়ে তারা হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় দারিদ্র্য ও অবহেলায় নিমজ্জিত মানুষের দেহরাখা। বন্যা এবং নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার হয় গৃহহীন, কখনো বা তাদের জমি হারিয়ে নিঃস্ব। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি, অসুস্থতা তাদের জীবনে আরও সমস্যা ডেকে আনে। তবে এই অপ্রতুল পরিস্থিতিতে বেশি বিপদে পড়েন মাতৃসন্তান ও শিশু রোগীদের। বেশিরভাগ চরাঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, বা থাকলেও খুবই সীমিত। কিছু সরকারি ক্লিনিক থাকলেও সেখানে প্রয়োজনমতো সেবা পাওয়া যায় না। বেশিরভাগই নির্ভরশীল হয় অবহেলিত গ্রাম্য কবিরাজের ওপর। নয়নাভিরাম এই চরাঞ্চলে ফার্মেসিও প্রায় নেই, ফলে সাধারণ রোগের ওষুধও মেলে না সহজে। গর্ভবতী নারীরা নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ধাত্রীরাই, যা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুতর অসুখে আক্রান্তদের মূল হাসপাতালে নিতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। ২৪৯টি চর রয়েছে কুড়িগ্রামের ১১টি উপজেলার মধ্যে, যার মধ্যে বসবাসকারী চর ২৬৯টি, যেখানে আনুমানিক পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। কয়েক বছর আগে এই চরাঞ্চলের অনেকেই কমিউনিটি ক্লিনিকের সুবিধা পেতেন, কিন্তু নদীভাঙনে বেশিরভাগই ভেঙে গেছে। বর্তমানে, নদীপথের মাধ্যমে অনেককেই উপজেলা বা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার কালির আলগা চরবাসী হোসেন আলী উল্লিখিত, যেখানে প্রায় ৭০০ জন বাস করেন। এই চরটি ভারতের সীমান্তঘেঁষা, আর যোগাযোগের জন্য নদীপথই একমাত্র উপায়। নদী পার হয়ে ঘাটে পৌঁছে, তারপর অটোরিকশা বা সড়কপথে জেলা শহর পর্যন্ত যেতে হয়। অনেক চরেই কমিউনিটি ক্লিনিক তো দূরের কথা, কোনও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রই নেই। একইভাবে, রাজারহাট, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর এবং অন্যান্য দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে দেখা যায় স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের এই অপ্রতুল পরিস্থিতি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৯৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ৫০টিই চরাঞ্চলে অবস্থিত। নদীভাঙনে বেশ কিছু ক্লিনিক বিলীন হয়ে গেছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলছেন, “চরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি।” এই পরিস্থিতির পরিসমাপ্তি সম্ভব হলে, গুরুত্বপূর্ণ হবে সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নৌপথের মাধ্যমে সহজভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। স্থানীয় জনগণ আশা করছেন দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় অতিসংকট চরবাসীর ভোগান্তি বেড়ে গেল

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

কুড়িগ্রাম জেলার বৃহৎ অংশ রয়েছে চর এলাকা দ্বারা আচ্ছাদিত। এই চরাঞ্চলগুলো প্রায়ই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হন, ফলে স্বাস্থ্যের দিক থেকে এই এলাকার লোকজন ক্রমশই দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। চরবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী পার হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগিয়ে তারা হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় দারিদ্র্য ও অবহেলায় নিমজ্জিত মানুষের দেহরাখা। বন্যা এবং নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার হয় গৃহহীন, কখনো বা তাদের জমি হারিয়ে নিঃস্ব। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি, অসুস্থতা তাদের জীবনে আরও সমস্যা ডেকে আনে। তবে এই অপ্রতুল পরিস্থিতিতে বেশি বিপদে পড়েন মাতৃসন্তান ও শিশু রোগীদের। বেশিরভাগ চরাঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, বা থাকলেও খুবই সীমিত। কিছু সরকারি ক্লিনিক থাকলেও সেখানে প্রয়োজনমতো সেবা পাওয়া যায় না। বেশিরভাগই নির্ভরশীল হয় অবহেলিত গ্রাম্য কবিরাজের ওপর। নয়নাভিরাম এই চরাঞ্চলে ফার্মেসিও প্রায় নেই, ফলে সাধারণ রোগের ওষুধও মেলে না সহজে। গর্ভবতী নারীরা নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ধাত্রীরাই, যা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুতর অসুখে আক্রান্তদের মূল হাসপাতালে নিতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। ২৪৯টি চর রয়েছে কুড়িগ্রামের ১১টি উপজেলার মধ্যে, যার মধ্যে বসবাসকারী চর ২৬৯টি, যেখানে আনুমানিক পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। কয়েক বছর আগে এই চরাঞ্চলের অনেকেই কমিউনিটি ক্লিনিকের সুবিধা পেতেন, কিন্তু নদীভাঙনে বেশিরভাগই ভেঙে গেছে। বর্তমানে, নদীপথের মাধ্যমে অনেককেই উপজেলা বা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার কালির আলগা চরবাসী হোসেন আলী উল্লিখিত, যেখানে প্রায় ৭০০ জন বাস করেন। এই চরটি ভারতের সীমান্তঘেঁষা, আর যোগাযোগের জন্য নদীপথই একমাত্র উপায়। নদী পার হয়ে ঘাটে পৌঁছে, তারপর অটোরিকশা বা সড়কপথে জেলা শহর পর্যন্ত যেতে হয়। অনেক চরেই কমিউনিটি ক্লিনিক তো দূরের কথা, কোনও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রই নেই। একইভাবে, রাজারহাট, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর এবং অন্যান্য দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে দেখা যায় স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের এই অপ্রতুল পরিস্থিতি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৯৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ৫০টিই চরাঞ্চলে অবস্থিত। নদীভাঙনে বেশ কিছু ক্লিনিক বিলীন হয়ে গেছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলছেন, “চরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি।” এই পরিস্থিতির পরিসমাপ্তি সম্ভব হলে, গুরুত্বপূর্ণ হবে সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নৌপথের মাধ্যমে সহজভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। স্থানীয় জনগণ আশা করছেন দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।