জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নে সেচপাম্পের মোটর ও পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর উপজেলার দফায় দফায় এসব লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় কৃষকরা আতঙ্কিত; এতে সেচ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়াসহ আসন্ন বোরো আবাদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে গোবিন্দপুর, রামপুর ও মহিষাকান্দি গ্রামসহ ডোয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকদের সেচপাম্পের মূল মোটরগুলো রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালীতলা বাজার এলাকা থেকে একটি ১০ কেভি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য স্থান থেকেও আরও দুইটি ট্রান্সফরমার হারানো হয়েছে। ট্রান্সফরমার ও মোটর চলে যাওয়ায় অনেক সেচপাম্প বন্ধ পড়ে গেছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তফাতে পড়েছে।
চুরির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছেন। রামপুর গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, “গত কয়েকদিনে আমার সেচপাম্পের ঘর থেকে দু’বার মোটর চুরি হয়েছে। দুটি মোটর কিনতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। একবার চুরি হলে নতুন করে লাগালাম, তিন দিন পর আবার সেটাও চুরি হয়ে গেছে। এভাবে চললে আমি চাষাবাদ বন্ধ করে দেব।”
গোবিন্দপুরের আশরাফুল আরেফিন বলেন, “কয়েকদিন আগে প্রচুর বৃষ্টি ছিল। রাতে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফিরে ঘুমাই। সকালে সেচ চালাতে গেলে দেখলাম মোটর নেই। এভাবে চুরি হলে কৃষি কাজে অনীহা বাড়বে।” মহিষাকান্দির মানিক আহাম্মেদ বলেন, “বৃষ্টির রাতে ঘরে লোক না থাকায় জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে থাকা মোটর কেটে নিয়ে গেছে। সকালে গ্রিল কাটা দেখে ঘরে ঢুকেই মোটর না থাকায় ধাক্কা লাগল।”
সরিষাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, “গত কয়েকদিনে ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালীতলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে; কোথাও ট্রান্সফরমার না থাকার কারণে সংযোগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।”
সরিষাবাড়ী থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, “চুরি রোধে নিয়মিত আমাদের অভিযান চলছে এবং কিছু চোরকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবুও আরও কড়া তৎপরতা ও টহল দাবি করছেন স্থানীয়রা।”
স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের শক্তিশালী পাহারা, দ্রুত তদন্ত ও চোরেকেনা বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালান রোধের দাবি করছেন, যাতে কৃষি কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে এবং আসন্ন বোরো বপন সময়মতো সম্পন্ন করা যায়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























