০৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঝালকাঠিতে ১২৩ কোটি টাকার খয়রাবাদ সেতুর কাজ বন্ধের আশঙ্কা

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রায় আড়াই বছর অতিক্রম হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি বেশিরভাগটাই ধীরগতিতে এগুচ্ছে, যার কারণে ১২৩ কোটি ৯ লাখ টাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থানীয় মানুষ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত এই সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সেইসঙ্গে সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্ধারিত সমাপ্তির তারিখ ছিল ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই অপ্রতুল। নদীর দুই পাড়ে মাত্র ১৮টি পিলারের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে, কিছু স্প্যান বসানো হলেও সেতুর পুরো কাঠামো এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার বর্তমানে কারাগারে থাকায় কাজের ব্যবস্থাপনা ভেঙে গেছে। সাইটে নিয়মিত তদারকি হচ্ছে না, শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে এবং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহও বন্ধ থাকায় কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে দাঁড়ানো।

একই সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ, নলছিটি ও বরিশাল সদর উপজেলার মানুষ উপকৃত হবেন। এই রুটটি দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বরিশালে পড়াশোনা করতে যান, কিন্তু এখন তারা ব্যাপক ভোগান্তিতে আছেন।’

সাংবাদিক, বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থানীয় ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন, সেতুটি চালু হলে বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়া, কলসকাঠি ও চরাদি ইউনিয়নের মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু দপদপিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য এই সেতুর কার্যকারিতা সম্পর্কে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়াও, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো চলাচলের অযোগ্য। আশপাশে উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা জনবসতি না থাকায় এ প্রকল্পের ব্যয়বহুলতা ও যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ পর্যন্ত প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার অগ্রিম বিল উত্তোলন করেছে। পরিবর্তিত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি আরও অবহেলার শিকার হয়েছে। দৃশ্যতই প্রকল্পটি ধীরগতি ও স্থবিরতার মুখোমুখি হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঝালকাঠিতে ১২৩ কোটি টাকার খয়রাবাদ সেতুর কাজ বন্ধের আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রায় আড়াই বছর অতিক্রম হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি বেশিরভাগটাই ধীরগতিতে এগুচ্ছে, যার কারণে ১২৩ কোটি ৯ লাখ টাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থানীয় মানুষ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত এই সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সেইসঙ্গে সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্ধারিত সমাপ্তির তারিখ ছিল ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই অপ্রতুল। নদীর দুই পাড়ে মাত্র ১৮টি পিলারের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে, কিছু স্প্যান বসানো হলেও সেতুর পুরো কাঠামো এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার বর্তমানে কারাগারে থাকায় কাজের ব্যবস্থাপনা ভেঙে গেছে। সাইটে নিয়মিত তদারকি হচ্ছে না, শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে এবং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহও বন্ধ থাকায় কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে দাঁড়ানো।

একই সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ, নলছিটি ও বরিশাল সদর উপজেলার মানুষ উপকৃত হবেন। এই রুটটি দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বরিশালে পড়াশোনা করতে যান, কিন্তু এখন তারা ব্যাপক ভোগান্তিতে আছেন।’

সাংবাদিক, বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থানীয় ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন, সেতুটি চালু হলে বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়া, কলসকাঠি ও চরাদি ইউনিয়নের মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু দপদপিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য এই সেতুর কার্যকারিতা সম্পর্কে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়াও, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো চলাচলের অযোগ্য। আশপাশে উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা জনবসতি না থাকায় এ প্রকল্পের ব্যয়বহুলতা ও যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ পর্যন্ত প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার অগ্রিম বিল উত্তোলন করেছে। পরিবর্তিত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি আরও অবহেলার শিকার হয়েছে। দৃশ্যতই প্রকল্পটি ধীরগতি ও স্থবিরতার মুখোমুখি হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।