০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর আহ্বান দিয়ে শুরু হলো ‘জাতীয় কবিতা উৎসব’ চট্টগ্রাম বন্দর টানা তৃতীয় দিনও অচল: আমদানি-রপ্তানি জমে আছে সংকটে নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ডিএমপির হটলাইন চালু নির্বাচবিরোধী অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসি মোতায়েন করবেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আমরা প্রস্তুত: ধর্ম উপদেষ্টা প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা সরকারের বিশেষ উদ্যোগে মাত্র ২০,৫০০ টাকায় দেশে ফিরবেন সৌদি প্রবাসীরা বাংলাদেশ নির্বাচন হয়েছে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন, জীববৈচিত্র্য বিপন্ন

পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন, জীববৈচিত্র্য বিপন্ন

পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করে অসাধু মাছ শিকারিরা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। পদ্মা, বড়াল, ইছামতীসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে এখন চলছে এই ভয়ঙ্কর মাছ নিধনের অপরাধ। নিষিদ্ধ জালের পাশাপাশি এখন বৈদ্যুতিক চুইচ বা শক দিয়ে মাছ ধরা নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি পোনামাছ, ডিম, জলজ কীটপতঙ্গ সবই ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পরিবেশবিদেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এই ধরণের অবৈধ শিকার প্রক্রিয়া চলতে থাকে তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নদীর সুস্বাদু দেশি মাছের দেখা পাবে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য শিকারিরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ব্যাটারি ও ইনভার্টার ব্যবহার করে শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করে। এরপর নদীর পানিতে এই জোরদার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা হয়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ গজ এলাকায় থাকা ছোট-বড় সব মাছ নিস্তেজ হয়ে ভেসে উঠতে থাকে। শিকারিরা দ্রুত সেসব মাছ সংগ্রহ করে দ্রুত সটকে পড়ে, যেন কাউকে ধরা পড়ে না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈদ্যুতিক শক নদীর ওপর অশেষ ক্ষতি করছে। শকের ফলে ধরা পড়া মাছ বেঁচে থাকলেও প্রজনন ক্ষমতা হারাতে পারে। এছাড়া, এই বিদ্যুৎপ্রবাহের কারণে মাছের প্রধান খাদ্য শ্যাওলা, অণুজীব মারা যাচ্ছে, ফলে নদীর বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশি প্রজাতির মাছ যেমন আইড়, বোয়াল, পাঙাশ ও কাজলির অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হওয়ার পথে।

স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ডিম ও ছোট মাছ জাল দিয়ে ধরতে পারলেও ওরা মেশিন দিয়ে সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। যদি এইভাবে চলতে থাকলে কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের নদী সম্পূর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হবে।’

নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা জানান, এই অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা দরকার। অন্যথায়, পাবনার নদীগুলো শুধু পানি প্রবাহের নালায় রূপ নেবে যেখানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না, আর নদী থাকবে কেবল মৃত্যুর মুখে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অমিত শাহের ঘোষণা: পশ্চিমবঙ্গে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা

পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন, জীববৈচিত্র্য বিপন্ন

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করে অসাধু মাছ শিকারিরা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। পদ্মা, বড়াল, ইছামতীসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে এখন চলছে এই ভয়ঙ্কর মাছ নিধনের অপরাধ। নিষিদ্ধ জালের পাশাপাশি এখন বৈদ্যুতিক চুইচ বা শক দিয়ে মাছ ধরা নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি পোনামাছ, ডিম, জলজ কীটপতঙ্গ সবই ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পরিবেশবিদেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এই ধরণের অবৈধ শিকার প্রক্রিয়া চলতে থাকে তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নদীর সুস্বাদু দেশি মাছের দেখা পাবে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য শিকারিরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ব্যাটারি ও ইনভার্টার ব্যবহার করে শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করে। এরপর নদীর পানিতে এই জোরদার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা হয়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ গজ এলাকায় থাকা ছোট-বড় সব মাছ নিস্তেজ হয়ে ভেসে উঠতে থাকে। শিকারিরা দ্রুত সেসব মাছ সংগ্রহ করে দ্রুত সটকে পড়ে, যেন কাউকে ধরা পড়ে না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈদ্যুতিক শক নদীর ওপর অশেষ ক্ষতি করছে। শকের ফলে ধরা পড়া মাছ বেঁচে থাকলেও প্রজনন ক্ষমতা হারাতে পারে। এছাড়া, এই বিদ্যুৎপ্রবাহের কারণে মাছের প্রধান খাদ্য শ্যাওলা, অণুজীব মারা যাচ্ছে, ফলে নদীর বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশি প্রজাতির মাছ যেমন আইড়, বোয়াল, পাঙাশ ও কাজলির অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হওয়ার পথে।

স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ডিম ও ছোট মাছ জাল দিয়ে ধরতে পারলেও ওরা মেশিন দিয়ে সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। যদি এইভাবে চলতে থাকলে কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের নদী সম্পূর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হবে।’

নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা জানান, এই অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা দরকার। অন্যথায়, পাবনার নদীগুলো শুধু পানি প্রবাহের নালায় রূপ নেবে যেখানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না, আর নদী থাকবে কেবল মৃত্যুর মুখে।