০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মূল সমাধান হলো তাদের স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন। এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরও বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান শুধু প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সম্ভব, যা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হবে। ড. ইউনূস রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর এর সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে জোর দাবি জানান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআর এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই মত প্রকাশ করেন তিনি। সেখানেই ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধির কাছে রোহিঙ্গা শিবিরে অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যার ফলে স্বনির্ভরতা ও জীবিকা ব্যবস্থা উন্নয়নে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে অনেক উচ্চস্তরের কর্মসূচি গ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় আসেনি।

তিনি指出 যে, গত রমজানে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে শিবিরে থাকার ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নানা ধরনের হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাই তাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন অবশ্যই জোরদার করা জরুরি।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, এই সমস্যা শুরু হয়েছে মিয়ানমারে, এবং এর সমাধানও সেই থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি ও সুবিধা না থাকায় তরুণ প্রজন্ম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে এবং সেটা কারও জন্যই সুখকর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।

বৈঠকে ভাসানচর পরিস্থিতি, দেশের আসন্ন নির্বাচন, গণভোট এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে, যা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

ইউএনএইচসিআর এর নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বিভিন্ন সময় শিবির পরিদর্শন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এক জন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য, যেখানে বিশ্বাসযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলকতা থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দেশটিতে এমন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে যাতে নি:সন্দেহে বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্ভব হয়। প্রথমবার ভোট প্রদান ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলব।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মূল সমাধান হলো তাদের স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন। এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরও বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান শুধু প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সম্ভব, যা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হবে। ড. ইউনূস রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর এর সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে জোর দাবি জানান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআর এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই মত প্রকাশ করেন তিনি। সেখানেই ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধির কাছে রোহিঙ্গা শিবিরে অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যার ফলে স্বনির্ভরতা ও জীবিকা ব্যবস্থা উন্নয়নে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে অনেক উচ্চস্তরের কর্মসূচি গ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় আসেনি।

তিনি指出 যে, গত রমজানে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে শিবিরে থাকার ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নানা ধরনের হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাই তাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন অবশ্যই জোরদার করা জরুরি।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, এই সমস্যা শুরু হয়েছে মিয়ানমারে, এবং এর সমাধানও সেই থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি ও সুবিধা না থাকায় তরুণ প্রজন্ম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে এবং সেটা কারও জন্যই সুখকর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।

বৈঠকে ভাসানচর পরিস্থিতি, দেশের আসন্ন নির্বাচন, গণভোট এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে, যা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

ইউএনএইচসিআর এর নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বিভিন্ন সময় শিবির পরিদর্শন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এক জন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য, যেখানে বিশ্বাসযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলকতা থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দেশটিতে এমন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে যাতে নি:সন্দেহে বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্ভব হয়। প্রথমবার ভোট প্রদান ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলব।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ।