০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের ইউরোপে বসবাসের পরিকল্পনা কি সত্যি? হলিউড ছাড়ার কথা বলেন তিনি

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সিনেমা শিল্পে পরিবর্তিত মৌলিক পরিস্থিতির মাঝে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের শাসনক্ষমতা গ্রহণের সময় থেকে তিনি মনে করছেন, আমেরিকায় সিনেমা ও শিল্পের স্বাধীনতা সংকুচিত হতে থাকায় তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।

ক্রিস্টেনের মতে, বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ খুবই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা যায়, তাঁর প্রথম সিনেমা ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’ যা লাটভিয়ায় শুটিং করতে বাধ্য হন কারণ যুক্তরাষ্ট্রে এটি সম্ভব হয়নি। এই সিনেমার বিষয়বস্তু খুবই সংবেদনশীল এবং সাহসী হওয়ায় আমেরিকার নানা চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ তা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর মনোভাব আশ্চর্য হলেও তিনি এখনও আশা করেন, মার্কিন দর্শকদের জন্য সিনেমা তৈরি চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে এটি সম্ভব হবে ইউরোপে বসে কাজ করে এবং পরে আমেরিকায় পৌঁছে দিয়ে। তিনি মনে করেন, এই কালো মেঘের কারণে শিল্পীদের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।

আর মনে রাখতে হবে, ট্রাম্পের সর্বশেষ কিছু পদক্ষেপ ও মন্তব্য এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বিদেশে নির্মিত ფილমগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাকে ‘ভয়ংকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি সিনেমা দেশের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’। এই মন্তব্যে স্টুয়ার্ট খুবই বিস্মিত হয়েছেন এবং মনে করছেন, এই ধরনের রক্ষণশীল নীতি স্বাধীন সাংস্কৃতিক শিল্পের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে উঠছে। এর ফলে শিল্পীরা দেশ ত্যাগের জন্য বাধ্য হচ্ছেন, যা একটি দৃষ্টান্তমূলক সংকটের সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, এই রাজনৈতিক চাপ এবং মনোভাবের জন্য তিনি বাংলাদেশে থাকতে আর আগ্রহী নন।

এছাড়া, ক্রিস্টেনের ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ২০১২ সালে ট্রাম্পের সাথে তাঁদের সম্পর্ক ছিলো তিক্ত, যখন ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। তখন থেকেই তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে এবং এখন ট্রাম্পের রাজনীতি ও নীতিমালা সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে, শিল্পীদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত জীবন সংকুচিত হওয়ার আবহে, ক্রিস্টেনের দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত অনেক ব্যাপারেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের ইউরোপে বসবাসের পরিকল্পনা কি সত্যি? হলিউড ছাড়ার কথা বলেন তিনি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সিনেমা শিল্পে পরিবর্তিত মৌলিক পরিস্থিতির মাঝে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের শাসনক্ষমতা গ্রহণের সময় থেকে তিনি মনে করছেন, আমেরিকায় সিনেমা ও শিল্পের স্বাধীনতা সংকুচিত হতে থাকায় তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।

ক্রিস্টেনের মতে, বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ খুবই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা যায়, তাঁর প্রথম সিনেমা ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’ যা লাটভিয়ায় শুটিং করতে বাধ্য হন কারণ যুক্তরাষ্ট্রে এটি সম্ভব হয়নি। এই সিনেমার বিষয়বস্তু খুবই সংবেদনশীল এবং সাহসী হওয়ায় আমেরিকার নানা চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ তা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর মনোভাব আশ্চর্য হলেও তিনি এখনও আশা করেন, মার্কিন দর্শকদের জন্য সিনেমা তৈরি চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে এটি সম্ভব হবে ইউরোপে বসে কাজ করে এবং পরে আমেরিকায় পৌঁছে দিয়ে। তিনি মনে করেন, এই কালো মেঘের কারণে শিল্পীদের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।

আর মনে রাখতে হবে, ট্রাম্পের সর্বশেষ কিছু পদক্ষেপ ও মন্তব্য এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বিদেশে নির্মিত ფილমগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাকে ‘ভয়ংকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি সিনেমা দেশের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’। এই মন্তব্যে স্টুয়ার্ট খুবই বিস্মিত হয়েছেন এবং মনে করছেন, এই ধরনের রক্ষণশীল নীতি স্বাধীন সাংস্কৃতিক শিল্পের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে উঠছে। এর ফলে শিল্পীরা দেশ ত্যাগের জন্য বাধ্য হচ্ছেন, যা একটি দৃষ্টান্তমূলক সংকটের সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, এই রাজনৈতিক চাপ এবং মনোভাবের জন্য তিনি বাংলাদেশে থাকতে আর আগ্রহী নন।

এছাড়া, ক্রিস্টেনের ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ২০১২ সালে ট্রাম্পের সাথে তাঁদের সম্পর্ক ছিলো তিক্ত, যখন ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। তখন থেকেই তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে এবং এখন ট্রাম্পের রাজনীতি ও নীতিমালা সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে, শিল্পীদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত জীবন সংকুচিত হওয়ার আবহে, ক্রিস্টেনের দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত অনেক ব্যাপারেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।