১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্যের মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বসতঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলির (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অনন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধার বিচারে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত ছিলেন। এমন এক উজ্জ্বল প্রতিভার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোক ও স্তব্ধতা ছুঁয়ে গেছে।

অনন্য গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি ও রাধারানী ভট্টাচার্যের সন্তান। তাঁর বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রভাষক এবং মা রাধারানী ভট্টাচার্য কোটচাঁদপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দম্পতিদের ধারধারার সন্তান হিসেবে অনন্য ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী। তাঁর অকাল মৃত্যু পরিবারের সবাইকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য পড়াশোনার জন্য বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকায় থাকতেন। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকায় থেকে বাসায় ফেরেন। পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাতে যান। পরের দিন অর্থাৎ রোববার সকালে তিনি ঘরে থাকলেও অদৃশ্য কোন লক্ষণ বা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। তবে বেশ কিছুক্ষণ ধরে দরজা খোলা না থাকায় মা রাধারানী ভট্টাচার্য কোনো সন্দেহ করে কাপ রুদ্ধ করে দেখে ফেলেন, অনন্য সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়নায় ঝুলছেন। এসময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

অভিভাবকের এই দুঃখজনক ঘটনায় মা রাধারানী ভট্টাচার্য একেবারে বাকরুদ্ধ। তিনি জানান, অনন্য বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মানসিক সমস্যা বা মন খারাপের বিষয়ও পরিবারের কেউ জানতেন না। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে প্রশ্ন আজ সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুতই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য মরদেহটি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আলাদা করে তদন্তে নিয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যা কি না বা তার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্যের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বসতঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলির (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অনন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধার বিচারে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত ছিলেন। এমন এক উজ্জ্বল প্রতিভার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোক ও স্তব্ধতা ছুঁয়ে গেছে।

অনন্য গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি ও রাধারানী ভট্টাচার্যের সন্তান। তাঁর বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রভাষক এবং মা রাধারানী ভট্টাচার্য কোটচাঁদপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দম্পতিদের ধারধারার সন্তান হিসেবে অনন্য ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী। তাঁর অকাল মৃত্যু পরিবারের সবাইকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য পড়াশোনার জন্য বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকায় থাকতেন। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকায় থেকে বাসায় ফেরেন। পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাতে যান। পরের দিন অর্থাৎ রোববার সকালে তিনি ঘরে থাকলেও অদৃশ্য কোন লক্ষণ বা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। তবে বেশ কিছুক্ষণ ধরে দরজা খোলা না থাকায় মা রাধারানী ভট্টাচার্য কোনো সন্দেহ করে কাপ রুদ্ধ করে দেখে ফেলেন, অনন্য সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়নায় ঝুলছেন। এসময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

অভিভাবকের এই দুঃখজনক ঘটনায় মা রাধারানী ভট্টাচার্য একেবারে বাকরুদ্ধ। তিনি জানান, অনন্য বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মানসিক সমস্যা বা মন খারাপের বিষয়ও পরিবারের কেউ জানতেন না। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে প্রশ্ন আজ সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুতই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য মরদেহটি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আলাদা করে তদন্তে নিয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যা কি না বা তার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।